Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:৪৮
'পাকিস্তান পাশে থাকলে দখল নেব কাশ্মীর'
অনলাইন ডেস্ক
'পাকিস্তান পাশে থাকলে দখল নেব কাশ্মীর'
জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার

উরি-কাণ্ডের পরে গোটা দুনিয়ার সমালোচনার মুখে পড়ে পাকিস্তান। কিছুদিন আগেও অনেক বড় মুখ করে নওয়াজ শরীফ বলেছেন, আমরা জঙ্গিদের সাথে নেই, আমরা তাদের মদতও দিই না।

তার এই কথায় সায় দিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান রাহিল ও আইএসআই-প্রধান রিজওয়ান।

কিন্তু নওয়াজ শরিফ, রাহিল শরিফ, রিজওয়ান আখতারকে মূলত মিথ্যাবাদী বানিয়ে দিল তাদেরই অতি ঘনিষ্ঠ মাসুদ আজহার! পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার প্রকাশ্যেই পাক সরকারকে বলে দিলেন, ‘‘তোমরা আর একটু সাহস দেখাও। কাশ্মীর একনই দখল করে দেখিয়ে দিচ্ছি আমরা!’’খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।  

জইশ-ই-মহম্মদের মুখপাত্র আল-কালামের সর্বশেষ সংখ্যায় মাসুদের এই লেখা নিয়ে তুমুল চাপে পড়ে যায় পাকিস্তানী সরকার। কারণ ওই লেখাতেই মাসুদ বলেছে, ’৯০-এর দশক থেকে পাক সরকার জঙ্গিদের সরাসরি সমর্থন করে ফায়দা পেয়েছে। এখন আর একটু সাহস দেখালে ষোলকলা পূর্ণ হয়! 

মাসুদ আরও লিখেছেন ‘পাক সরকার একটু সাহস দেখালে কাশ্মীর তো বটেই, সিন্ধু জল-সমস্যাও মিটে যাবে চিরকালের জন্য। শুধু মুজাহিদিনদের জন্য দরজাটা খুলে দিক পাক সরকার। ’ পাকিস্তান প্রশাসনকে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘‘গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় গাফিলতি হলে, পাকিস্তানের হাত থেকে ফস্কে যেতে পারে কাশ্মীর দখলের ঐতিহাসিক সুযোগ। ’’

মাসুদ আরও তার লেখনীতে বলেছেন, ‘‘জিহাদের হাত ধরেই ভারতকে কাবু করতে পারে পাকিস্তান। কাশ্মীরে লাগাতার জিহাদ ভারতকে দুর্বল করেছে। কাশ্মীরে সংঘর্ষের আগে ও পরের ভারতকে মিলিয়ে দেখলে নাটকীয় তফাত চোখে পড়বে। আমি সেই পরিবর্তনের সাক্ষী। আগে ওরা (ভারত) সাপ ছিল। এখন কেঁচো হয়ে গিয়েছে!’ 

একই সঙ্গে সে লিখেছেন, ‘‘কাশ্মীর নিয়ে চাপ বাড়াচ্ছে ভারত। এটা আগে পাকিস্তানেরই করা উচিত ছিল। কাশ্মীর আমাদের হৃদয়ের প্রধান শিরা। আমাদেরই সার্ক বৈঠক বয়কট করা উচিত ছিল। নিয়ন্ত্রণরেখার সংঘর্ষবিরতি আমরাই আগে ভাঙতে পারতাম। ’’

কূটনীতিকরা মনে করছেন মাসুদের এই লেখা সন্ত্রাস-প্রশ্নে নয়াদিল্লিকে অনেক সুবিধা করে দিল। আগামী শনিবার থেকে গোয়ায় শুরু হচ্ছে ‘ব্রিকস সম্মেলন’। সেখানে চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিঙের সঙ্গে বৈঠক হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। ক’দিন আগেই রাষ্ট্রপুঞ্জের সন্ত্রাসবাদী তালিকায় মাসুদকে রাখা নিয়ে ভারতের উদ্যোগে পানি ঢেলে দিয়েছিল বেইজিং। মোদী-চিনফিং বৈঠকের আগে মাসুদের এই লেখা বেজিংকেও চিন্তায় ফেলে দিল।

২৬/১১ হামলার প্রধান চক্রী মাসুদ অবশ্য আগেও পাকিস্তানের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্য জনসভায় ভারত-বিরোধী জেহাদের ডাক দিয়েছে। আমেরিকাও এ নিয়ে পাকিস্তানকে বলেছে। কিন্তু চীনের সমর্থন নিয়ে ইসলামাবাদ সবই উড়িয়ে দিয়েছে। তাই এবারও চীন বিশেষ কিছু করবে, এমনটা ভাবছেন না অনেকেই।

 

বিডি-প্রতিদিন/১৪ অক্টোবর, ২০১৬/তাফসীর

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow