Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০১:৪৯ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১০:৪৪
'শ্রীলঙ্কার বন্দরে চীনা সেনাদের উপস্থিতি বরদাস্ত করা হবে না'
অনলাইন ডেস্ক
'শ্রীলঙ্কার বন্দরে চীনা সেনাদের উপস্থিতি বরদাস্ত করা হবে না'

চীনে নিযুক্ত শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত কোড়িতুওয়াক্কু বলেছেন, হামবানতোতা বন্দরে চীনা সেনাদের উপস্থিতি বরদাস্ত করা হবে না। তিনি জানান, চীনা বিনিয়োগকারীদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাণিজ্যিক কারণ ছাড়া অন্য কোন সামরিক কাজের জন্য শ্রীলঙ্কার বন্দর ব্যবহার করা যাবে না।

শ্রীলঙ্কার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বেজিংয়ে এই কথা জানিয়েছেন তিনি।

চীনের হামবানতোতা বন্দরে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করছে। সেই বন্দরের মালিকানা কার্যত চীনের হাতে চলে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎসজীবীরা বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। কূটনৈতিক স্তরে প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারতও। কার্যত ভারতের চাপে পড়েই শ্রীলঙ্কা সরকার আজ বলতে বাধ্য হল, চীনা সেনাদের ওই বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। পাকিস্তান গদর বন্দরকে চীনের হাতে তুলে দিলেও শ্রীলঙ্কা যে সেই পথে হাঁটবে না, সে কথা আরো একবার স্পষ্ট করে দিলেন শ্রীলঙ্কার এই রাষ্ট্রদূত।

জানা যায়, গত ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কা ও চীন সরকারের মধ্যে হ্যামবানতোতা বন্দর নিয়ে একটি মহা গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়। বন্দরের আধুনিকীকরণের জন্য ৮০ শতাংশ মালিকানা ১.১২ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে একটি চীনা সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়। ভারতের পক্ষে এই চুক্তি অশনি সঙ্কেত বয়ে আনে। কারণ ভারত মহাসাগরে কলম্বোর অবস্থান কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, চীন-শ্রীলঙ্কার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সব সময়ই নয়াদিল্লির ভ্রুকুঞ্চন বাড়িয়েছে। রাজাপক্ষের আমলে এই দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব দীর্ঘ দিন ধরেই চাপে রেখেছিল ভারতকে। সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ভুলে পরিবারতন্ত্রের পথে হাঁটছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষে। ফলে দিল্লির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে তার। ক্রমশ চীনের দিকে ঝুঁকে পড়েন রাজাপক্ষে। তবে শ্রীলঙ্কায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে যাওয়ার পর আর দেরি না করে সে দেশের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন মাত্রা আনতে তৎপর হয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করতে নয়াদিল্লিতে এসেছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা। ধীরে ধীরে ভাঙা সম্পর্ক ফের জোড়া লাগে দুই দেশের মধ্যে। যার ফলস্বরূপ চীনকে কঠোর বার্তা দিয়ে শ্রীলঙ্কা বুঝিয়ে দিল, কলম্বো এখনো নয়াদিল্লির পাশেই রয়েছে। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন।

বিডি প্রতিদিন/মজুমদার

আপনার মন্তব্য

up-arrow