Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৫:৩২ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৫:৪৬
অ্যাম্বাসেডর কিনে নিল পিউজিওট
অনলাইন ডেস্ক
অ্যাম্বাসেডর কিনে নিল পিউজিওট

মরে যাওয়া অ্যাম্বাসেডর আবার বেঁচে উঠল। হিন্দুস্থান মোটরসের কাছ থেকে ইউরোপীয় গাড়ি নির্মাতা সংস্থা ‘‌পিউজওট’‌ ৮০ কোটি রুপি কিনে নিল ‘‌অ্যাম্বাসাডর’–এর‌ ব্র্যান্ড ও ট্রেডমার্ক।

সেই সঙ্গে হাত বদল হল ইতিহাসেরও। যে গাড়ি এক সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি চড়তেন, যা ছিল দেশটির একমাত্র ‘‌সরকারি গাড়ি’, ‌এবার তা চলে গেল বিদেশিদের হাতে। আর এই নিয়ে তৃতীয়বার ভারতের বাজারে ঢোকার চেষ্টা করল পিউজিওট। খবর আজকালের।

প্রথমবার প্রিমিয়ার সংস্থার সঙ্গে মিলে গাড়ি তৈরিতে নামলেও কয়েক বছরের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। দশ বছর পরে ২০১১–তে আবার এদেশে একটি সেডান গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করে সংস্থাটি। কিন্তু সেই প্রকল্প শুরু হয়নি। তারপর গত মাসে হিন্দুস্থান মোটরসের সঙ্গে দুটি যৌথ উদ্যোগ শুরু করতে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের চুক্তি সই করেছে সংস্থাটি। তাদের লক্ষ্য বছরে ১ লক্ষ গাড়ি তৈরি করা।

অ্যাম্বাসেডর ব্র্যান্ড পিউজিওটের হাতে যাওয়ায় অবশ্য বেশ কিছুটা চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার দশ বছর পরে ১৯৫৭ সালে হুগলির উত্তরপাড়ায় সি কে বিড়লার হিন্দুস্থান মোটরস কোম্পানি উৎপাদন শুরু করে দেশি গাড়ির। দেশীয় শিল্পের জন্য ‘‌সংরক্ষণ’‌–এর যুক্তিতে এক সময় দেশে একচেটিয়া বাজারও পায় অ্যাম্বাসেডর। শুধু গাড়ি তৈরি হয় বলেই একটা বড় স্টেশনের নাম হয়ে যায় ‘‌হিন্দমোটর’‌। জাপানের টয়োটার পরে এশিয়ার সবচেয়ে পুরনো গাড়ি এই অ্যাম্বাসেডর। কিন্তু সঞ্জয় গান্ধীর মারুতি প্রকল্প যাতে ব্যর্থ না হয় সেজন্য আটের দশকে জাপানি সংস্থা ‘‌সুজুকি’‌ এসে যোগ দেয় মারুতি প্রকল্পে। প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে ক্রমশ অ্যাম্বাসাডর পিছু হটতে থাকে। বিক্রি পড়তে থাকে। তবু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মালবাহী গাড়ির প্রযুক্তি নিয়ে বেঁচে ছিল এই চার চাকা। তাকে বাঁচাতে কম চেষ্টা হয়নি। খাস কলকাতায় একমাত্র ট্যাক্সি বলতে লোকে অ্যাম্বাসেডরকেই বুঝত। পরের দিকে নিয়ম করার চেষ্টা হয়, ট্যাক্সি মানে অ্যাম্বাসেডরই হতে হবে। কিন্তু দেশি–বিদেশি গাড়ির সঙ্গে লড়াইয়ে অ্যাম্বাসেডর ক্রমশই পিছিয়ে পড়ে।

২০০৮ সালে যেখানে প্রতি বছর ২৪ হাজার গাড়ি বের হত, ২০১৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় আড়াই হাজারে। শেষ দিকে দিনে ৫টি করে গাড়ি তৈরি করা হত। অন্য বিদেশি গাড়ির থেকে দাম ছিল কম। দারুণ কিছু দেখতে না হলে দুধসাদা গাড়িগুলোয় অদ্ভুত আভিজাত্য। মজবুত, টেকসই, ভেতরে জায়গা অনেক বেশি। আরও গুণ রয়েছে। যন্ত্রাংশের দাম কম। রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বেশ কম। এর ওপর ছিল ‘‌স্বদেশি গাড়ি’‌র তকমা। এই কারণে সকলের প্রথম পছন্দ ছিল ‘‌অ্যাম্বাসেডর’‌। বিশ শতকের পাঁচ থেকে আটের দশক, রাজনৈতিক নেতা, শিল্পোদ্যোগী, আমলা, কর্পোরেট জগতের কর্তা, গ্ল্যামার জগতের তারকা থেকে ছোট দোকানি— সকলের পছন্দের গাড়ি ছিল এটি। সে–সময় একচ্ছত্র রাজ করেছে। অ্যাম্বাসেডরকে বলা হত ‘‌ফ্যামিলি কার’‌। ‌বৃহস্পতিবার স্টক এক্সচেঞ্জে বিবৃতি দিয়ে সি কে বিড়লা গ্রুপ জানিয়েছে, ‘‌পিউজিওট এস এ গ্রুপের সঙ্গে অ্যাম্বাসেডর ব্র্যান্ড ও ট্রেডমার্ক বিক্রির জন্য ৮০ কোটি রুপির একটি চুক্তি করেছে হিন্দুস্থান মোটরস। কর্মীদের বকেয়া এবং পাওনাদের ধার মেটানোর জন্য এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। বলা হত, যে অ্যাম্বাসেডর চালাতে পারে, সে যে কোন গাড়ি চালাতে পারে।

 

বিডি-প্রতিদিন/১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/মাহবুব

 

আপনার মন্তব্য

up-arrow