Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৯:৫২ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১১:০০
ফ্রিজে রাখা হাত জুড়ল সাত ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে
অনলাইন ডেস্ক
ফ্রিজে রাখা হাত জুড়ল সাত ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে

দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত সরলা দেবী (৪০) নামের এক নারী গত শনিবার পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা মেডিক্যাল রিচার্স ইন্সটিটিউটে (সিএমআরআই) ভর্তি হয়েছিলেন। সাধারণ মানুষ তো বটেই, ডাক্তাররা তার অবস্থা দেখে শিওরে উঠেন।

কারণ ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল সরলা দেবীর মুখের প্রতিটি হাড়। মাথার খুলি রক্তাক্ত। ডান হাত ছুরির কোপে ক্ষতবিক্ষত। আর বাঁ হাত কব্জির নিচ থেকে নেই।  

প্রাণে বাঁচার কথা ছিল না। আর বাঁচলেও কথা ছিল না বিচ্ছিন্ন অঙ্গ ফেরত পাওয়ার। কিন্তু দু’টোই হয়েছে। অস্ত্রোপচারে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চলেছেন সরলা।

হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জন অনুপম গোলাশ জানান, তৎক্ষণাৎ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু অস্ত্রোপচারের মতো শারীরিক অবস্থা ছিল না তার। রক্তচাপ আশঙ্কাজনক রকমের কম ছিল। ওই অবস্থায় অস্ত্রোপচারের ধকল নিতে পারতেন না রোগী। ফলে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় ছিল না। তখন সিদ্ধান্ত হয়, বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া হাতটি ঠিক উপায়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে রাখা হবে। পরের দিন রোগীর শারীরিক অবস্থা একটু স্থিতিশীল হলে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।  

সিএমআরআই হাসপাতালে সাত ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের পর মাধ্যমে জোড়া লাগে বিচ্ছিন্ন হাতটি। চিকিৎসকদের আশা, সময় লাগলেও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন সরলা।

ডা: অনুপম গোলাশ বলেন, নিশ্চিত ছিলাম না, এ ভাবে হাতটা রাখার পরেও সেটাকে আদৌ ফের জোড়া লাগানো সম্ভব হবে কি না। ঘটনার পরদিন সকাল এগারোটা নাগাদ যখন একটু স্থিতিশীল হয় সরলাদেবীর অবস্থা, তখনই ফ্রিজ থেকে কাটা হাতটিকে বার করে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যেহেতু বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরে কেটে গিয়েছে ১৬ ঘণ্টা, তাই সাফল্যের সম্ভাবনা ৫০-৫০ ধরে নিয়েই অস্ত্রোপচার শুরু হয়। সাত ঘণ্টা ধরে চলে অস্ত্রোপচার। কব্জির শেষ প্রান্তে বিচ্ছিন্ন কোষ-কলা-নিউরোনগুলি কেটে যাওয়া হাতের অংশে সাড় পৌঁছে দেবে কি না, সে নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জে জিতে যান চিকিৎসকরা।

প্লাস্টিক সার্জন কৌশিক নন্দীর কথায়, ওই পরিস্থিতিতেও যে চিকিৎসকেরা রোগীর প্রাণ বাঁচানোর পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন হাতটির কথা মাথায় রেখেছেন, তা নিঃসন্দেহে কৃতিত্বের দাবি রাখে। এই অবস্থায় অঙ্গকে এমনভাবে সংরক্ষণ করতে হয়, যাতে যথেষ্ট ঠাণ্ডা থাকে অঙ্গটি, কিন্তু জমে না-যায়। শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা নেমে গেলেই কিন্তু ওই অঙ্গটি আর জোড়া লাগানো সম্ভব হয় না।  
সূত্র : আনন্দবাজার

 

বিডি প্রতিদিন/১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

up-arrow