Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৮:০৮ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
আইএসের ড্রোন হামলা ঠেকাবে ঈগল!
অনলাইন ডেস্ক
আইএসের ড্রোন হামলা ঠেকাবে ঈগল!

ইরাক এবং সিরিয়ার বিরাট অংশ দখলে নেওয়া জঙ্গিগোষ্ঠী ইসালামিক স্টেট তথা আইএস পশ্চিমাবাহিনীর কাছে পরাজিত হয়ে এখন রোজ পিছু হঠছে। সিরিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যে শহর বছর খানেক আগেও আইএসের রাজধানী ছিল, সেই রাকা হাতছাড়া।

আলেপ্পোর দুর্ভেদ্য ঘাঁটিও বিপর্যস্ত। আর ইরাকের ময়দানে পিছু হঠতে হঠতে মসুলের পশ্চিমাঞ্চল এবং সংলগ্ন কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে আইএস রাজত্ব। আর এর চারপাশে ঘিরে রেখেছে ইরাকের সরকারি বাহিনী, শিয়া মিলিশিয়া এবং কুর্দ বাহিনী। আকাশ থেকে বোমা হামলা চালাচ্ছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন ফোর্স। ফলে ইরাকের শেষ দুর্গে ঘোর সঙ্কটে আইএস। তাই দুর্গ রক্ষায় এবার একের পর এক ড্রোন হামলা শুরু করেছে আইএস। তবে থেকে নেয় পশ্চিমাবাহিনীও।

আইএস-এর ড্রোনের উপর পাল্টা হামলা চালানোর অভিনব কৌশল নিয়েছে ফরাসি বাহিনী। এজন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিকারি ঈগল ব্যবহারের উদ্যোগ নিচ্ছে দেশটি। ঈগলগুলো ড্রোনের ওপর হামলা চালিয়ে সেটি নিয়ে লোকালয় থেকে দূরে চলে যাবে। যাতে বিস্ফোরণ ঘটলেও ক্ষয়ক্ষতি না হয়। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

ইরাক বা সিরিয়ায় এই কৌশল এখনও ফ্রান্স প্রয়োগ করেনি। কিন্তু চারটি ঈগলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ সুসম্পন্ন। একাধিক বার উড়ন্ত ড্রোনকে মাঝ আকাশেই ভেঙে দিয়েছে এই ঈগলগুলি, তারপর নামিয়ে দিয়েছে কোন ঘাস জঙ্গলে।

উড়ন্ত ড্রোনকে গুলি করেও আকাশ থেকে নামানো যায়। কিন্তু তাতে অন্য আশঙ্কা থাকে। জনবহুল এলাকার উপর সেটি ভেঙে পড়লে বড় ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ফরাসি বিমান বাহিনী যে ঈগলগুলিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, তারা ড্রোনকে আকাশে ভেঙে দেবে। কিন্তু নীচে পড়তে দেবে না। টেনে নিয়ে যাবে লোকালয় থেকে দূরবর্তী কোন এলাকায়। ঈগলের গলায় চামড়ার বেল্টে বিস্ফোরক অকোজো করার যন্ত্রও লাগানোর তোড়জোড় শুরু করেছে ফ্রান্স। কারণ ঈগল ড্রোনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেই রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঈগলটিকেও শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করবে জঙ্গিরা। সেই ছক ভেস্তে দিতেই বিস্ফোরক অকেজো করার যন্ত্র লাগানো হবে ঈগলের গলায়।

কীভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল এই ঈগলগুলিকে? ফরাসি বিমানবাহিনী সূত্রের খবর, চারটি ঈগলের ডিমকে ড্রোনের উপর রেখে দেওয়া হয়েছিল। ডিম ফুটে ঈগলগুলির জন্মও হয় ড্রোনের উপরেই। যত দিন পর্যন্ত ঈগলের ছানাগুলিকে খাইয়ে দিতে হচ্ছিল, তত দিন ওই ড্রোনের উপরেই রাখা হয়েছিল তাদের। ফলে জন্মমুহূর্ত থেকে ড্রোন চিনে গিয়েছিল তারা। এর পর ড্রোনের উপর মাংসের টুকরো রেখে সেগুলিকে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। ঈগলগুলি সেই ড্রোনকে তাড়া করে ধরছিল, তার পর ঘাসের জঙ্গলে নামিয়ে নিয়ে মাংস খাচ্ছিল। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মাত্র ২০ সেকেন্ডের মধ্যে ২০০ মিটার উড়ে গিয়ে একটি ড্রোনকে মাঝ আকাশে ভেঙে দিচ্ছে প্রশিক্ষিত ঈগল।

ফরাসি বিমান বাহিনী ঈগলগুলির সক্ষমতায় উচ্ছ্বসিত। এই ভাবে আরও ঈগলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

 


বিডি-প্রতিদিন/২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

up-arrow