Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : ২ মার্চ, ২০১৭ ১৪:৩৭ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
বিএসএফ'র তথ্য প্রকাশ; বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ৪ হাজার গুলি
দীপক দেবনাথ, কলকাতা

বিএসএফ'র তথ্য প্রকাশ; বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ৪ হাজার গুলি

বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে ২০১৬ সালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর দক্ষিণ বঙ্গ ফ্রন্টিয়ার ৪ হাজার গুলি চালিয়েছে। অর্থাৎ ওই বছরে দক্ষিণ বঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের অধীনে থাকা ১১৫০ কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্ত বরাবর প্রতিদিন গড়ে ১০ টিরও বেশি গুলি চালানো হয়েছে বিএসএফ’এর পক্ষ থেকে

বুধবার পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় বাহিনীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত একটি নাগরিক কর্মসূচী চলাকালীন বিএসএফ’এর তরফে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।

এই তথ্য অনুযায়ী অপরাধীদের ঠেকাতে লিথাল (প্রাণঘাতী) ও নন-লিথাল (প্রাণঘাতী নয়) মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম ৫৮ দিন বিএসএফ ৭৩৮ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। এব্যাপারে বিএসএফ’এর সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ‘যত গুলি চালানো হয়েছে তার মধ্যে বেশিরভাগই নন-লিথাল। তবে নিজেদের প্রাণ রক্ষার তাগিদে শেষ অস্ত্র হিসাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে বাহিনীকে। টহলরত অবস্থায় কোন বিএসএফ সদস্য হামলার শিকার হলে বা তাঁর অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে একমাত্র তখনই বাহিনীকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারে অনুমতি দেওয়া হয়’।

 একটি পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালে অপরাধী ও পাচারকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪১ বিএসএফ সদস্য আহত হয়েছেন। ২০১৫ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ৬০ এবং সেবছর হামলায় আমাদের বাহিনীর ৩ সদস্য নিহত হয়েছিল’।

ওই কর্মকর্তা জানান, ‘২০১৬ সালে পাম্প গান ব্যাবহার করে ৩৮৪৩ রাউন্ড নন-লিথাল গুলি (রাবার বুলেট) চালানো হয়েছে, যেখানে রাইফেল ব্যবহার করে ১৬২ রাউন্ড প্রাণঘাতী গুলি ছোঁড়া হয়েছে। চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭০৩ নন-লিথাল এবং মাত্র ৩৫টি প্রাণঘাতী গুলি ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর

দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৯ বিএসএফ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন’।

বিএসএফ’এর অন্য আরেক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ‘সীমান্তে বিএসএফ’এর এই পদক্ষেপের ফলে ২০১৫ ও তার আগের বছরের তুলনায় ২০১৬ সালে জাল ভারতীয় নোট(এফআইসিএন), স্বর্ণ, অস্ত্র উদ্ধারের পরিমাণ অনেকটা কমেছে। গত বছরে আমরা (বিএসএফ) ৭১টি অস্ত্র ও ১০৩ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছি, অথচ তার আগের বছর ২০১৫ সালে ১৪৫টি অস্ত্র ও ৭১ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের আটকের সংখ্যাও অনেকটাই বেড়েছে। ২০১৬ সালে মোট ২৫০৭ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছিল এর মধ্যে ৯১১ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে, বাকীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ভারতে বিচার চলছে’।

বিডি-প্রতিদিন/০২ মার্চ, ২০১৭/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

up-arrow