Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ১১ মার্চ, ২০১৭ ০৯:৩১ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
বাংলাদেশে আটক আইএস জঙ্গিকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চায় এনআইএ
দীপক দেবনাথ, কলকাতা
বাংলাদেশে আটক আইএস জঙ্গিকে 
নিজেদের হেফাজতে নিতে চায় এনআইএ

বাংলাদেশ পুলিশের হাতে আটক ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) এক শীর্ষ জঙ্গিকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চাইছে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ।  

পশ্চিমবঙ্গসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের চারটি রাজ্যের দায়িত্বে থাকা এই জঙ্গি নেতাকে সম্প্রতি আটক করে বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরা।

 

পুলিশ সূত্রে খবর শেখ ওবাইদুল্লা নামে ওই জঙ্গির বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়াতে। তার কাজই ছিল পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির যুবকদের এই জঙ্গি সংগঠনের জন্য নিয়োগ করা।  

ওবাইদুল্লাকে আটকের পরই তার সঙ্গীদের খোঁজে বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে কড়া নিরাপত্তা জারি করা হয়েছে।  

সূত্রে খবর, ৯০ এর দশকে জিহাদী কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে ওবাইদুল্লা (৪৫) ওরফে তৌফিক ওরফে এমাদুল্লা। প্রথমেই পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি)-তে যোগ দেয় সে। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৩ দুই বছর আফগানিস্তানে গিয়ে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেয়। ২০০৪ সালে লস্করের এক শীর্ষ নেতার নির্দেশে ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে গা ঢাকা দেয় ওবাইদুল্লা। জানা যায় এরপর থেকে ভারত-বাংলাদেশের অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে বেশ কয়েকবার সীমান্ত পারাপার করে সে। আর এই কাজে সহায়তা করার অভিযোগ ওঠে দেবাশিস রায় ও তারক মজুমদার নামে অন্য দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পশ্চিমবঙ্গেও বিভিন্ন জঙ্গি সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তারা।  

পশ্চিমবঙ্গেও লস্কর-ই-তৈয়বার স্লিপার সেল গঠন করার দায়িত্ব নেয়। বাংলাদেশে মাদ্রাসায় শিক্ষকতাকালীন সময়ে আরেক আইএস জঙ্গি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মুহাম্মদ মসিরুদ্দিন ওরফে মুসার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি। এরপর থেকেই আইএসের সংগঠন বিস্তারের ওপর জোর দেন ওবাইদুল্লা। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন আইএসের পূর্ব-ভারতের প্রধান। তার কাছ থেকে ভারতের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনার কথাও জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।  

উল্লেখ্য, ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জেএমবি সদস্য মহম্মদ ইদ্রিস নামে এক ব্যক্তিকে সম্প্রতি কলকাতা থেকে আটক করা হয়। দিল্লি পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দল যৌথ অভিযান চালিয়ে কলকাতার বড়বাজার থেকে তাকে আটক করে। এরপরই তাকে রিমান্ডে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লিতে। সূত্রে খবর, ইদ্রিসকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ভারতে আসতে পারে বাংলাদেশ পুলিশের এক বিশেষ প্রতিনিধি দলও।


বিডি প্রতিদিন/১১ মার্চ, ২০১৭/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

up-arrow