Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ১৭ মার্চ, ২০১৭ ১২:৫৮ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
মার্কিন অভিবাসন দপ্তরের বিরুদ্ধে ইমিগ্র্যান্টদের মামলা
এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে:
মার্কিন অভিবাসন দপ্তরের বিরুদ্ধে ইমিগ্র্যান্টদের মামলা
বিক্ষোভ করছেন আমেরিকা অভিবাসীরা (ফাইল ছবি)

''মানবাধিকার লংঘনের ব্যাপারগুলো স্বীকার করতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার লংঘনের ঘটনাগুলো এতই গুরুতর যে, নিরাপত্তার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়া বিদেশিদের সাথেও তারা ভালো আচরণ করে না।

কারাগার কিংবা ডিটেনশন সেন্টারে আটক বিদেশিদের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যদিও এ কর্মের জন্যে ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে না। দৈনিক মাত্র এক ডলার করে প্রদান করা হয় কঠোর পরিশ্রমের জন্যে। '' এমন অভিযোগে মামলা হয়েছে ২০১৪ সালে। যুক্তরাষ্ট্রে বৃহত্তম একটি প্রাইভেট প্রিজন কোম্পানীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি গত সপ্তাহে ক্লাস-এ্যাকশন স্ট্যাটাসে পরিণত হয়েছে অর্থাৎ কমপক্ষে ৬০ হাজার অভিবাসী ওই মামলার অংশ হলেন। এরা সকলেই বেআইনীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকালে ধরা পড়েছিলেন এবং ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বন্দীকেই বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ডিটেনশন সেন্টার অথবা কারাগারে রাখা হয়। আরও উল্লেখ্য, বন্দীদের জোরপূর্বক কাজে নিযুক্তির অভিযোগে এটাই প্রথম মামলা।
 
কলরাডোভিত্তিক অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘টুওয়ার্ডস জাস্টিস’র নির্বাহী পরিচালক নিনা ডিস্যালভো এ মামলার সাথে জড়িত। তিনি বলেন, ঘটনাটি সত্যি বিস্ময়কর। সরকার নিযুক্ত কন্ট্রাক্টররা অসহায় বন্দীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছে, অথচ ন্যায্য পারিশ্রমিক দিচ্ছে না। এটি খুবই অন্যায় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি রাখে। শুধু তাই নয়, যারা শ্রম দিয়েছেন তারা ক্ষতিপূরণও পেতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ আশ্রয় এবং উন্নত জীবন-যাপনের প্রত্যাশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার সময় গ্রেফতার হওয়া লোকজনদের মানিবাধিকার এভাবে লংঘনের ঘটনা কোনভাবেই আইনের শাসনের পরিপূরক নয় বলে উল্লেখ করেন নিনা।

কলরাডো ফেডারেল কোর্টে দায়েরকৃত এ মামলায় প্রথমে ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু জজ জন কেইন কর্তৃক সর্বশেষ এ রুলিংয়ের কারণে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ কয়েক শত গুণ বাড়বে। মূল মামলার আবেদনকারি একজন গ্রীণকার্ডধারী। এসাইলাম মঞ্জুর হবার আগে তাকে আটক রাখা হয়েছিল ওই ডিটেনশন সেন্টারে। তার সাথে ছিলেন আরও নয় জন। তারা অভিযোগ করেছেন, ইমিগ্রেশন এ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট-আইস এজেন্টরা জোর করে তাদের দিয়ে কাজ করিয়েছে। কাজের বিনিময়ে কোন পারিশ্রমিক দেয়া হয়নি। কাজ করতে না চাইলে নানা ধরনের ভীতি প্রদর্শন করা হতো বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
 
কলরাডোর অরোরা সিটিতে অবস্থিত ডেনভার কন্ট্রাক্ট ডিটেনশন ফ্যাসিলিটির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিদিন সকালে ৬ জন নেওয়া হয় পুরো সেন্টার পরিস্কার করার জন্যে। আরেক গ্রুপ দিয়ে খাবার তৈরিসহ যাবতীয় কাজ করানো হয়। সারাদিন কাজের জন্যে মাত্র এক ডলার করে দেওয়া হয় বন্দীদের। এভাবে কলরাডো অঙ্গরাজ্যের শ্রম আইনও লংঘন করা হয়েছে। সে রাজ্যে ন্যূনতম মজুরি হচ্ছে ঘন্টায় ৯ ডলার করে।
এ মামলার রায় হলে কমপক্ষে ৩০ লাখ অভিবাসী ক্ষতিপূরণ পাবে বলে আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন।

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

up-arrow