Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৮:৫৩ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৩:১৯
স্কুল থেকে বহিষ্কার করায় বাবার পিস্তল দিয়ে অধ্যক্ষকে খুন!
দীপক দেবনাথ, কলকাতা:
স্কুল থেকে বহিষ্কার করায় বাবার পিস্তল দিয়ে অধ্যক্ষকে খুন!
স্কুলের প্রিন্সিপাল রিতু ছাবরা

স্কুলে উপস্থিতির সংখ্যা কম থাকায় স্কুল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন প্রিন্সিপাল। সেই রাগেই বাবার রিভলবার নিয়ে স্কুলে ঢুকে প্রিন্সিপালকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠল এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা ভারতের হরিয়ানায় যমুনানগরের স্বামী বিবেকানন্দ স্কুল নামে একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। গোটা ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অন্য কর্মীদের মধ্যে। প্রাণ বাঁচাতে অনেক শিক্ষার্থীই ভয়ে সিঁটিয়ে থাকে। অন্যদিকে প্রিন্সিপালের মৃত্যুতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। 

জানা গেছে, স্কুলে নিয়মিত অনুপস্থিতি ও স্কুলে মারধরের অভিযোগে ১৫ দিন আগে স্কুলে থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয় দ্বাদশ শ্রেণির বাণিজ্য শাখার ওই শিক্ষার্থীকে। এনিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই বিপর্যস্ত ছিল সে। পাশাপাশি মনের মধ্যে ক্ষোভ জমেছিল স্কুলের প্রিন্সিপাল রিতু ছাবরা’র ওপর। এরপর শনিবার দুপুরে বাবার লাইসেন্সড (অনুমতিপ্রাপ্ত) রিভলবার নিয়ে স্কলে আসে ওই শিক্ষার্থী। স্কুলের নিরাপত্তারক্ষীকে বলে সে প্রিন্সিপালের সাথে দেখা করতে চায়, এরপরই সোজা প্রিন্সিপালের রুমে ঢুকে পড়ে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে। 

মুহুর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ছাবরা। সেখান থেকে দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা দেয়। এদিকে প্রিন্সিপালের ওপর হামলা চালানোর পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেই স্কুলের পিওনসহ পাঁচ কর্মী ওই শিক্ষার্থীকে ধরে ফেলে। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ এসে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে আটক করে। 

জানা গেছে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা পেশায় এক প্রপার্টি ব্যবসায়ী। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণেই তিনি ওই লাইসেন্স রিভলবারটি নিজের কাছে রাখতেন। 

যমুনানগরের পুলিশ সুপার রাজেশ কালিয়া জানান, ‘শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে, তদন্তও শুরু হয়েছে’। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা (প্রপার্টি ব্যবসায়ী)-কেও আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ভারতজুড়েই কয়েকটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেভাবে সহিংসতার ঘটনা ঘটে চলেছে তা নি:সন্দেহে উদ্বেগজনক। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে গুরগাঁও-য়ে একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে খুনের অভিযোগ ওঠে ওই স্কুলেরই ১৬ বছরের শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। প্রস্তুতি ভাল হয় নি, এই অজুহাতে স্কুলের পরীক্ষা পিছনোর জন্যই ওই শিশু শিক্ষার্থীকে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। 

চলতি মাসের গোড়ার দিকেই লখনউতে স্কুল চত্ত্বরেই প্রথম শ্রেণির এক বালক শিক্ষার্থীকে ছুরি দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল এক সিনিয়র নারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। স্কুল তাড়াতাড়ি ছুটির দাবিতেই নাকি ওই খুন করা হয়েছিল বলে জানা যায়। 

 

বিডি প্রতিদিন/২১ জানুয়ারি ২০১৮/হিমেল

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow