Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২০ মে, ২০১৮ ০৮:৪৪ অনলাইন ভার্সন
রমজানে কাশ্মীরি যুবকদের যুদ্ধবিরতির আহ্বান মোদির
দীপক দেবনাথ, কলকাতা
রমজানে কাশ্মীরি যুবকদের যুদ্ধবিরতির আহ্বান মোদির
ফাইল ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, রমজান মাসে যুদ্ধবিরতির মধ্যে দিয়ে কাশ্মীরের যুবকদের কাছে একটি স্থিতিশীল ও প্রগতিশীল রাজ্য গঠনের সুযোগ রয়েছে এবং যারা ইসলামকে শোষণ করছে তাদের কাছেও এটা একটা শুধরানোর আহ্বান। শনিবার জম্মু-কাশ্মীর সফরে গিয়ে তিনি একথা বলেন। 

শ্রীনগরে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মোদি বলেন, ‘রমজানে যুদ্ধবিরতি কেবলমাত্র একটি যুদ্ধবিরতি নয়, বরং ইসলামের শোষণকারীদের কাছেও তাদের শুভবুদ্ধি জাগ্রত করার আহ্বান। অনেক রাষ্ট্র আছে যারা একটা নির্দিষ্ট পথ বেছে নিয়েছিল তারা এখন মূল স্রোতে ফেরার পথ খুঁজছে। যে সকল যুবকরা বিদেশি শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিজের মাতৃভূমির ওপর হামলা চালাচ্ছে-তাদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসা উচিত এবং জম্মু-কাশ্মীরের স্থিতিশীলতা ও প্রগতিশীলতার প্রতি তাদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা উচিত। এছাড়া রাজ্যকে আরও গৌরবান্বিত করতে অবদান রাখা উচিত’। 

রমজান মাসে শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখতে কাশ্মীরে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত তথা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় ভারত সরকার। বুধবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। 

এরপর শনিবার উপত্যকা সফরে যান প্রধানমন্ত্রী। জম্মু-কাশ্মীরকে দেশের মুকুট হিসাবে গড়ে তুলতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সব রকমের সহায়তা করা হবে বলেও ঘোষণা দেন মোদি। 
 
মোদি জানান ‘শতাব্দী ধরেই একই ভারত মা’য়ের সন্তান হয়ে আছে জম্মু-কাশ্মীর। মা’য়ের দুধ কখনওই কারও মধ্যে ভেদাভেদ করে না। এই ভূখন্ডে সবসময়ই স্বাগত এবং ধর্মনিরপেক্ষ ঐহিত্য বজায় রয়েছে’। 

মোদি জানান, উপত্যকায় শান্তি প্রক্রিয়া বজায় রাখতে সমস্ত পক্ষের সাথে আলোচনার জন্য কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন ‘যারা আলোচনা করতে চায় তারা তাদের মত প্রকাশ করুক। আমাদের প্রতিনিধিরা শান্তি প্রক্রিয়া জোরদার করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কাশ্মীরিয়ত (কাশ্মীরের মতো করে) এবং জামুরিয়ত (গণতন্ত্র)-এর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে। জম্মু-কাশ্মীরের প্রগতির জন্য নাগরিক সমাজ, বিদ্বজন এবং ধর্মীয় নেতাদের সমস্ত কর্মশক্তিকে কাজে লাগানো উচিত। কারণ একমাত্র উন্নয়নই পারে একটি নতুন স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও প্রগতিশীল জম্মু-কাশ্মীর গড়তে’।

এদিন কাশ্মীরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। যার মধ্যে অন্যতম কাশ্মীরে এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ দ্বিমুখী সুড়ঙ্গ জোজিলা টানেলের শিলন্যাস ও কিশেনগঙ্গা বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন। 

প্রধানমন্ত্রী এই সফর ঘিরে কড়া নিরাপত্তা মুড়ে ফেলা হয়েছিল শহর। কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোদির জন্য তেরি করা হয়েছিল বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। 


বিডি প্রতিদিন/২০ মে ২০১৮/হিমেল

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow