Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৬ জুলাই, ২০১৮ ১৯:৪৩ অনলাইন ভার্সন
‘সিন্ডিকেট ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে কোনো কাজ হয় না’
দীপক দেবনাথ, কলকাতা
‘সিন্ডিকেট ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে কোনো কাজ হয় না’

পশ্চিমবঙ্গে সিন্ডিকেটের রাজ চলছে অভিযোগ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সিন্ডিকেটের অনুমতি ছাড়া এই রাজ্যে কোনো কাজই হয় না। 

সোমবার পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কলেজ মাঠে কৃষক কল্যাণ সমাবেশে ‘সিন্ডিকেট’ ইস্যুতে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও তার সরকার তৃণমূল কংগ্রেসকে তুলোধোনা করেন তিনি। 

মোদি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে জগাই-মাধাই উন্নয়ন চলছে। মা-মাটি-মানুষ সরকারের আসল চেহারা সকলের সামনে চলে এসেছে। সকলেই জানে যে- সিন্ডিকেট ছাড়া এখানে কোনো কাজ হয় না। এ রাজ্যে ভোট ব্যাংকের জন্য সিন্ডিকেট রাজ চলছে। কৃষকদের আয়ের অংশও সিন্ডিকেটে চলে যাচ্ছে, কৃষকরা কোথায় সব্জি বিক্রি করবেন সেটাও সিন্ডিকেট ঠিক করে। গরীবদের ওপর অত্যাচারেও সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে। এছাড়া বিরোধীদের হত্যা করার জন্য সিন্ডিকেট। কারখানা, রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ নির্মাণেও সিন্ডিকেট। পুজো করতেও সিন্ডিকেট। এমনকি সিন্ডিকেট ছাড়া কলেজেও ভর্তি হওয়া যায় না। ভবন নির্মাণের জন্য কোথা থেকে বালু, সিমেন্ট কেনা হবে সেটাও সিন্ডিকেট ঠিক করে। যত রকমের অনৈতিক, বেআইনি কাজ-সবকিছুতেই জড়িত এই সিন্ডিকেট। এ রাজ্যের মানুষ খুবই কষ্টে জীবনযাপন করছেন। আসলে সিন্ডিকেট ছাড়া কোনো কাজ করা এখানে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে’। 

এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হয়ে লড়াই করার আহ্বান জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘একজোট ও সাহসী হয়ে সামনের দিকে এগোতে হবে। সংঘবদ্ধ হওয়ার ফলেই প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরাতে পরিবর্তন এসেছে’। 

মোদির অভিযোগ ‘বিগত বাম আমলে রাজ্যের অবস্থা যেখানে ছিল তৃণমূলের সরকার ক্ষমতায় এসে অবস্থার আরও অবনতি ঘটিয়েছে। বাংলায় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। পঞ্চায়েতে জোর জুলুমের মধ্যে ভোট হয়েছে। এখানে দলিত সন্তানদের হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এটাই বাংলার ভবিষ্যত নয়’। 

বামদের সরাতে অনেক সময় লেগেছে কিন্তু এবার কয়েক মাসেই তৃণমূলের জুলুমের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দেওয়া হবে বলেও জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। 

আগামী বছরেই দেশটিতে লোকসভার নির্বাচন। বর্তমানে এই রাজ্যের ৪২ জন সাংসদের মধ্যে বিজেপির সাংসদ সংখ্যা মাত্র দুইজন। কিন্তু সেই সংখ্যাটাকে ২২’এ নিয়ে যাওয়াই এখন তাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্যেই এদিনের সভা থেকে কৃষকদের প্রতি তার আহ্বান, ‘আমার সরকার সাধারণ মানুষের সরকার। আমার সরকার কৃষকদের সরকার। ২০২২ সালের মধ্যে কেন্দ্রের সরকার কৃষকদের আয় দ্বিগুন করার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে’। 

মেদিনীপুর শহর জুড়ে মোদির বড় বড় হোর্ডিং, পোস্টারের পাশেই তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির হাত জোড় করা ছবি নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মোদি। 

মমতাকে উদ্দেশ্য করে মোদি বলেন, ‘আজ আমাকে স্বাগত জানাতে মমতা ব্যানার্জি এত বড় বড় পোস্টার, ব্যানার লাগিয়েছে যে এজন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। মমতা দিদি যেভাবে হাত জোড় করে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাচ্ছেন তাতেও আমি তাকে হৃদয় থেকে ধন্যবাদ জানাই’। বিজেপি কৃষকদের জন্য এত কাজ করেছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেও বিজেপিকে স্বাগত জানাতে হচ্ছে। এটা বিজেপির নয়, কৃষক ভাই-বোনদের জয়’।  

উল্লেখ্য, আগামী ২১ জুলাই তৃণমূলের শহীদ দিবস উপলক্ষে মেদিনীপুর শহর জুড়ে মমতার ছবি দেওয়া ওই পোস্টার লাগানো হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow