Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০১৮ ০৬:১১ অনলাইন ভার্সন
অবশেষে দেখা হলো ভালোবাসা, বেদনায়
অনলাইন ডেস্ক
অবশেষে দেখা হলো ভালোবাসা, বেদনায়
bd-pratidin

সাং চোই। ৬৮ বছর পরে ৭২ বছরের ছেলেকে দেখে উচ্ছ্বাসে চিৎকার করে উঠেছিলেন ৯২ বছরের মা লি কিউম-সিওম। ছেলে তাকে উত্তর কোরিয়ায়, মা দক্ষিণে। সেই কোরিয়ার যুদ্ধের সময় মা-ছেলে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। আর তাদের দেখা হয়নি। 

সোমবার সকালে উত্তর কোরিয়ার মাউন্ট কুমগাংয়ের এক রিসোর্টে ছেলেকে দেখেই কান্না থামেনি মায়ের। যখন শেষবারের মতো ছেলেকে দেখেছিলেন, সাং চোইয়ের বয়স ছিল চার। এখন সে নিজেই বৃদ্ধ। ছেলে আর বউকে নিয়ে মায়ের অপেক্ষায় বসেছিলেন তিনি। তার ছেলে তার দাদিকে দেখেইনি কখনও।

কান্নায় কিছু মুহূর্ত ভেসে যাওয়ার পর সাং চোই মাকে দেখিয়ে তার স্বামীর ছবি। সাংয়ের বাবা রয়ে গিয়েছিলেন উত্তরেই। মারা গিয়েছেন তিনি। এখানে আসার আগে লি বারবার বলেছিলেন, তার ছেলে যেন ভালো থাকে। উত্তরের লোকদের আবার স্বাস্থ্য ভালো হয় না। একেবারে ছোটবেলায় দেখেছিলেন নিজের ছেলেকে। 

দেখা হলে কোথা থেকে কথা শুরু করবেন, ভেবেই পাচ্ছিলেন না। 'কী বলব তাকে? জিজ্ঞেস করব, তার বাবা তাকে আমার সম্বন্ধে কী বলেছেন? নিশ্চয়ই ওর বাবা সব বলে গিয়েছেন ওকে। বলে গেছে, আমাদের বাড়ি কোথায় ছিল।' অবশ্য কথা হল কম। মা-ছেলে পরস্পরকে জড়িয়ে বসে থাকলেন পুরো সময়টা।

বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারের সঙ্গে সাময়িক মিলনের জন্য আবেদন জমা পড়েছিল ৫৭ হাজারেরও বেশি। তাদের মধ্যে বেছে নেওয়া হয়েছিল ভাগ্যবান ৮৯ জনকে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন আর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের মধ্যে এবছরের গোড়ার দিকে যে ঐতিহাসিক বৈঠক হয়েছিল, এই মিলন তারই ফল। যারা পুনর্মিলনের জন্য বাসে চেপে গিয়েছিলেন তাদের ৬০ ভাগের বয়সই ৮০ বছরের বেশি। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন ছেলে-মেয়ে, নাতি-পুতিদের।

কেউ চেনেনই না পরিজনকে। সত্তরের কাছাকাছি বছরের পর চেনা মুখও পাল্টে গেছে কত। তবু সম্বন্ধটা যে রক্তের। তারা বেঁচে আছে না নেই, অজানা। লি-র মতো সংশয় সবারই মনে, দেখা হলে কী বলবেন, কী করবেন। তবু দেখা হলো যখন, বাঁধ ভাঙল আবেগের। যে যার সঙ্গে নিয়ে ফিরলেন ফটো আর স্মৃতি নিয়ে। এক যুদ্ধ তাদের আলাদা করে রেখেছে দশকের পর দশক। সদিচ্ছা মেলাল তাদের।

প্রেসিডেন্ট মুন দুই কোরিয়াকে এরকমের আরও পুনর্মিলনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নিজেও উত্তর কোরিয়ার উদ্বাস্তু। তাই তিনি ভাগ হয়ে যাওয়া পরিবারের বেদনা বুঝতে পারেন সহজেই। সূত্র: সিএনএন

বিডি প্রতিদিন/২১ আগস্ট ২০১৮/আরাফাত

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow