Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:৩০ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১৪:৪৫
ভারতেও নিষিদ্ধ হচ্ছে জেএমবি
দীপক দেবনাথ, কলকাতা:
ভারতেও নিষিদ্ধ হচ্ছে জেএমবি

বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-কে ভারতেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হতে পারে। ভারতে দ্রুতগতিতে উত্থানের চার বছর পর অবশেষে আনফুল অ্যাক্টিভিটিস প্রিভেনশন অ্যাক্ট (ইউপিএ) অনুযায়ী দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার ব্যাপারে প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। 

সম্প্রতি জেএমবি সংগঠনটি ভারতের বিভিন্ন শহরে তাদের সংগঠন বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এমন এক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ওই জঙ্গি সংগঠনকে অর্থায়ন, নিয়োগ কার্যক্রম এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রোধে সমস্ত রাজ্যের পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর হাতে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করবে।  

সূত্রের খবর, ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-এর পক্ষ থেকে জেএমবিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার প্রস্তাব পাওয়ার পরই দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে এবং খুব শিগগির এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানা গেছে। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অভিমত, জেএমবি-কে নিষিদ্ধ করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে ইতিমধ্যেই এই জঙ্গি সংগঠনটি ভারতেও তাদের শাখা খুলেছে যার নাম দেওয়া হয়েছে জামায়ত-উল মুজাহিদিন ইন্ডিয়া (জেএমআই)। সালাউদ্দিন সালেহ এবং তার সহকারী জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বেই জেএমআই-এর প্রধান উদ্দেশ্যই হল ধর্মান্তকরণ, প্রশিক্ষণ ও সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে এই ভারত উপমহাদেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এই সালাউদ্দিনকে ধরতেই এনআইএ’এর পক্ষ থেকে ৫ লাখ আর্থিক পুরস্কারেরও ঘোষণা দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গেই কোথাও আত্মগোপনে রয়েছে সালাউদ্দিন। 

গত জানুয়ারী মাসেই বিহারের বুদ্ধগয়া মন্দির চত্বরে শক্তিশালী ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণের পিছনে নাম জড়িয়েছে এই সংগঠনটির। এই ঘটনায় গত কয়েকমাসে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে আটকও করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও এনআইএ। ঘটনার পর থেকেই জেএমবি’এর নেতারা ও তাদের সঙ্গীরা গা ঢাকা দিয়েছে। 

২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড় বিস্ফোরণেও নাম জড়িয়েছিল জেএমবি’র। ওই বিস্ফোরণে নিহত হয়েছিল দুই সন্দেহভাজন জেএমবি জঙ্গি। ওই ঘটনার পরই তদন্তভার হাতে নিয়ে এনআইএ দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় এক শতাধিকের বেশি আইইডি উদ্ধার করে, আটক করা হয় ৫০ এর বেশি জেএমবি সদস্যকে।  গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অভিমত ওই ঘটনার পরই ভারত ও বাংলাদেশ-উভয় দেশে ধরপাকড়ের পর জেএমবি নেতারা নতুন করে গ্রুপ শুরু করে কার্যকলাপ চালাতে থাকে। 

খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর এনআইএ তদন্তেই প্রকাশ পায় যে জেএমবি কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গ, অাসাম, ঝাড়খন্ড বা ভারতের অন্য শহরগুলিতেই ঘাঁটি গড়ছে না বরং অর্থ সংগ্রহ করা, মুসলিম যুবকদের নিজেদের দলে টানা, জেহাদি ও তীর-ধনুকের মতো প্রশিক্ষণ দেওয়া ভারতের মাটিতে অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপেও মদদ দিচ্ছে। ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিয়ে স্থানীয় নারীদের বিয়ে করার মতো কৌশলও অবলম্বন করছে জেএমবি জঙ্গিরা। আর এই কাজে লস্কর তৈয়বার মতো পাকিস্তানের মদদপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলিরও সহায়তা পাচ্ছে। সেইসাথে বিভিন্ন দেশ থেকেও আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। বিদেশ থেকে আসা সেই অর্থ মাদ্রাসা, মসজিদ ও মুসলিম যুবকদের দলে টানতে সোশ্যাল মিডিয়াতেও লাগানো হচ্ছে। 

সাম্প্রতিক গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রকাশ হয়েছে, জেএমবি সদস্যরা হায়দরাবাদ, মুম্বাই, পুনে, জম্মু-কাশ্মীরসহ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে আস্তানা গেড়েছে এবং আধার কার্ড, প্যান কার্ড সংগ্রহ করে ভারতীয় পরিচয়পত্রও বানিয়ে নিয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় ইঁট ভাটার শ্রমিক, কাগজকুড়ানিসহ দৈনিক মজুরের কাজে যুক্ত হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য এও বলছে যে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় কমপক্ষে ৬০ টি মডিউল সক্রিয় রয়েছে যার এক-একটি মডিউলে ১০ থেকে ১২ জন করে সদস্য রয়েছে। 


বিডি প্রতিদিনি/১৪ নভেম্বর ২০১৮/হিমেল

আপনার মন্তব্য

up-arrow