Bangladesh Pratidin

শিরোনাম

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১৮:২৫ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ২১:৩৮
'নামাজে' তাজমহলের পবিত্রতা নষ্ট, তাই শুদ্ধিকরণ করতে 'আরতি'! ভারতে তোলপাড়
দীপক দেবনাথ, কলকাতা
'নামাজে' তাজমহলের পবিত্রতা নষ্ট, তাই শুদ্ধিকরণ করতে 'আরতি'! ভারতে তোলপাড়

নামাজ আদায়ের ফলে প্রেমের স্মৃতিসৌধ তাজমহলের পবিত্রতা নাকি নষ্ট হয়েছে, তাই পবিত্রতা ফিরিয়ে আনতে তাজমহল চত্বরেই ধূপ-ধুনো দিয়ে পূজা-আরতি করার অভিযোগ উঠল ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠী বজরং দলের এক নারী নেত্রী ও তার দুই সঙ্গীর বিরুদ্ধে। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন এক দৃশ্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড়। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই) ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ)-এর পক্ষ থেকে ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে। 

রাষ্ট্রীয় বজরং দলের (আরবিডি) নারী শাখার জেলা সভাপতি মীনা দিবাকর নিজেও বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ‘আমরা ধূপকাঠি, দেশলাই আর গঙ্গাপানি নিয়ে তাজমহল চত্বরে প্রবেশ করি এবং মসজিদে আরতি করি। আমরা আসলে জায়গাটি পবিত্র করছিলাম। কেননা এটি একটি শিব মন্দির। প্রতিদিন নমাজ পড়ে এই মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে।’ 

তিনি আরও জানান ‘তেজো মহালয়া বা শিব মন্দিরের জন্যই তাজমহল তার পরিচিত পেয়েছে। এই স্থানে কেবলমাত্র শুক্রবারই নামাজ আদায়ের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও অন্য দিনগুলোতেও এখানে নামাজ আদায় করা হচ্ছে। তাই আমরা আরতি করে জায়গাটাকে পবিত্র করছি।’ কর্তৃপক্ষের উচিত সপ্তাহের অন্য দিন নামাজ আদায় ঠেকানো না হলে তাদের পূজা-আরতি করাও রোধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মীনা দিবাকর। তাঁর সাফ যুক্তি ‘তারা (মুসলিম) যদি কোরআন সাথে করে নিয়ে এসে নামাজ আদায় করতে পারে, তবে আমরা কেন ধূপ-গঙ্গাপানি সাথে করে এনে আরতি করতে পারবো না?’

তবে বিষয়টি নিয়ে এএসআই বা সিআইএসএফ’এর পক্ষ থেকে কোন যথোপযুক্ত ব্যখ্যা দেওয়া হয়নি। তাজমহলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এএসআই-এর সহকারী কর্মকর্তা অঙ্কিত নামদেব জানান, ‘আমরা আরতি-র ভিডিওটির ব্যাপারে জানতে পেরেছি। সেই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।’ 

সিআএসএফ-এর কমান্ডান্ট ব্রীজ ভূষণ জানান, ‘বিষয়টি এখনও আমার কাছে আসেনি, যদি এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটে তার যথার্থতা যাচাই করে দেখা হবে।’ 

কংগ্রেসের সিটি ইউনিটের সভাপতি হাজি জামিউদ্দিন কুরেশি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মীনা দিবাকরসহ যারা তাজমহল চত্বরে আরতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার আগুন জ্বালানোর প্রচেষ্টা হচ্ছে বলেও কুরেশির অভিযোগ। 

উল্লেখ্য, তাজমহলে নামাজের আদায়ের লক্ষ্যে প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশের পরই ২০১৩ সালে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া-এর পক্ষ থেকে তাজমহলের ভিতর মুমতাজ মসজিদে শুক্রবারে জুমার নামাজ আদায়ের ওপর বিদেশিদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

বিডি-প্রতিদিন/১৮ নভেম্বর, ২০১৮/মাহবুব

 

আপনার মন্তব্য

up-arrow