Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১২:৩৭ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১২:৪৩
কেউ কিনলেন না হিটলারের ছবি!
অনলাইন ডেস্ক
কেউ কিনলেন না হিটলারের ছবি!
হিটলারের আঁকা বলে দাবি করা হলেও এসবকে জাল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে

অ্যাডলফ হিটলারের আঁকা পাঁচটি ছবি জার্মানিতে নিলামে তোলা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এর কোনোটিই বিক্রি হয়নি। হিটলারের আঁকা বলে দাবি করা হলেও এসবকে জাল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

ওয়েইলডার অকশন হাউস ছবিগুলো নিলামে তুলেছিল। নিলামে সর্বনিম্ন দাম ঠিক করা হয়েছিল ৪৫ হাজার ইউরো। যে নুরেমবার্গ শহরে হিটলার তার সমাবেশগুলো করতেন, সেখানেই এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নাৎসী নেতাদের বিচারও হয়েছিল এই শহরে।

হিটলারের ছবিগুলো নিলামে ওঠানো হবে, এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। শহরের মেয়র উলরিখ ম্যালি এটিকে কুরুচিপূর্ণ কাজ বলেও মন্তব্য করেছিলেন। আবার ছবিগুলো আসলেই হিটলারের আঁকা কি না, তা নিয়েও বিতর্ক ছিল। ফলে এক সময় মনে করা হচ্ছিল এ নিলাম আর হবে না।

তবে শেষ পর্যন্ত হিটলারের স্বাক্ষর সংবলিত এসব ছবি নিলামে তোলে অকশন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো ছবিই কোনো ক্রেতার হাতে যায়নি। নিলামে হিটলারের কিছু ব্যক্তিগত ব্যবহৃত সামগ্রীও তোলা হয়েছিল।
গত সপ্তাহে জার্মান পুলিশ এ অকশন হাউসে তল্লাশি চালায়। তারা সেখান থেকে বেশ কিছু ছবি আটক করে। সেখানে মোট ৬৩টি ছবিতে হিটলারের নামের আদ্যাক্ষর 'এএইচ' বা 'এ হিটলার' লিখে স্বাক্ষর দেয়া ছিল। এগুলো জাল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

হিটলারের আঁকা বলে দাবি করার ছবির বিক্রি নিয়ে বিতর্ক এটাই প্রথম নয়। আগেও তার ছবি বলে বিক্রির চেষ্টা করা শিল্পকর্ম আসলে জাল বলে অভিযোগ ওঠে। হিটলার তার প্রথম জীবনে ছবি আঁকতেন, কিন্তু তিনি ভিয়েনা একাডেমি অব ফাইন আর্টসে দুবার ভর্তি হবার চেষ্টা করে বিফল হন।

২০১৫ সালে অবশ্য এই ওয়েইল্ডার অকশন হাউস হিটলারের আঁকা বলে দাবি করা কিছু ছবি বিক্রি করে। নিলামে সেগুলোর দাম উঠেছিল প্রায় চার লাখ ইউরো।

জার্মানিতে বর্তমানে নাৎসীদের কোনো প্রতীক প্রকাশ্যে দেখানো নিষেধ। তবে শিক্ষামূলক কাজে এই প্রতীক ব্যবহারে বাধা নেই।

অ্যাডলফ হিটলার ১৯৩৩ হতে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানি শাসন করেন। তার নেতৃত্বেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে জার্মানি। ওই সময় হিটলারের হামলার শিকার হয়ে ৬০ লাখ ইহুদী নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে সাত বছর ধরে ওই যুদ্ধে আরো লাখ লাখ সৈনিক ও বেসামরিক মানুষ নিহত হন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

বিডি প্রতিদিন/কালাম

আপনার মন্তব্য

up-arrow