Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:৫৮
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৫:০৪

পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ চায় ভারতের ৩৬ শতাংশ মানুষ

দীপক দেবনাথ, কলকাতা:

পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ চায় ভারতের ৩৬ শতাংশ মানুষ

পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ হিসাবে ভারতের কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সেই প্রশ্নের উত্তরে এক জরিপে দেখা গেছে বেশিরভাগ উত্তরদাতাই মনে করেন সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধই একমাত্র সমাধানের পথ। শতকরা ৩৬ ভাগ উত্তরদাতাই চাইছেন যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পুরোদমে যুদ্ধ করা হোক। ২৩ শতাংশ উত্তরদাতা যুদ্ধের বদলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক অর্থাৎ এলওসি পেরিয়ে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করার ওপরই বেশি ভরসা করছেন। ১৮ শতাংশ মনে করেন ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেনকে যেভাবে আমেরিকা হত্যা করেছিল, ঠিক সেভাবেই জয়শ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহারকেও নিকেশ করা হোক। আর ১৫ শতাংশ জরিপদাতা বলছেন পাকিস্তানকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে বিচ্ছন্ন করা হোক।

ইন্ডিয়া টুডে-এক্সিক মাই ইন্ডিয়া যৌথ জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুর পরই দেশটির ২৯ টি রাজ্যে এই জরিপ চালায় তারা।

দেখা গেছে জরিপকৃত উত্তরদাতাদের শতকরা ৪৯ ভাগই ব্যাপক ভাবে বিশ্বাস করেন যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের হয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতম নরেন্দ্র মোদি। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর থেকে অনেকটাই পিছনে রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। জরিপদাতার মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন সন্ত্রাসবাদ দমনে রাহুলই যোগ্য নেতা। অন্যদিকে ৩ শতাংশ উত্তরদাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-কে সন্ত্রাসবাদ দমনে যোগ্য নেতা হিসাবে বলে মনে করেন। এক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, বিএসপি নেত্রী মায়াবতী, সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব-রা প্রত্যেকেই মাত্র এক শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পরই দেশ জুড়ে এই ঘটনার পাল্টা প্রতিশোধের দাবি উঠেছে। হামলার পরই পাকিস্তানকে কার্যত কোণঠাসা করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে ভারত। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানকে দেওয়া ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ (এমএফএন) বা সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ-এর তকমা প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারত। এরপর পাকিস্তান থেকে সমস্ত পণ্যের ওপরই আমদানি শুল্ক ২০০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী পদক্ষেপ হিসাবে পাকিস্তানকে নদীর পানি সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত।

জরিপে আরও দেখা গেছে শতকরা ৪৭ ভাগ উত্তরদাতা মনে করেন ‘পাকিস্তান ও কাশ্মীর’ ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের নীতি বিগত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট (ইউপিএ) (২২ শতাংশ) এবং অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রশাসনের (১২ শতাংশ) চেয়ে অনেক ভাল।

পুলওয়ামা জঙ্গি হামলায় এতগুলো ভারতীয় জওয়ানের প্রাণ চলে যাওয়ার পিছনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সেদেশের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-ই প্রধান চক্রী হিসাবে মনে করেন ৩০ শতাংশ জরিপদাতা। ১৯ শতাংশের অভিমত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানই এর জন্য দায়ী। ১৩ শতাংশ দায়ী করেন হামলার মূল চক্রী জয়শ-ই-মহম্মদ-কে। অন্যদিকে ২৫ শতাংশের অভিমত এই ঘটনায় দায়ী জয়শ, আইএসআই, পাক সেনা এবং ইমরান খান।

কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল এত বড় হামলা সংগঠিত হল কি করে। এর উত্তরে ১৩ শতাংশ জরিপদাতার অভিমত গোয়েন্দা ব্যর্থতাই দায়ী, ১৭ শতাংশের অভিমত সন্ত্রাস দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্বল নীতির কারণেই এই হামলা। নিরাপত্তা এজেন্সিগুলির মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণে এই হামলা বলে মনে করেন ৭ শতাংশ উত্তরদাতা।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য