Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৫ মার্চ, ২০১৯ ২০:৫৩
আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০১৯ ২২:০৪

জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারত-মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারত-মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান

সীমান্ত পেরিয়ে ফের একবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালালো ভারতীয় সেনাবাহিনী। তবে এবার মিয়ানমার সীমান্তে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে যৌথ অভিযানে সামিল হল মিয়ানমার সেনাবাহিনীও। ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত বরাবর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়ে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও মিয়ানমার সেনাবাহিনী যৌথভাবে সীমান্তে একাধিক অভিযান চালায়।

দুই দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর দুইটি দেশের অবকাঠামোগত একটি প্রজেক্টকে ঘিরে বহুদিন থেকেই জঙ্গি সংগঠন আরাকান আর্মির হুমকি ছিল। আর সেই হুমকির প্রেক্ষিতেই আরাকান আর্মির ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে যৌথ অভিযান চালানো হয়।

প্রথম দফায় অভিযানটি চালানো হয় মিজোরাম সীমান্তে আরাকান আর্মির নতুন করে গড়ে ওঠা জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে। দ্বিতীয় দফার অভিযানে নাগা জঙ্গি গোষ্ঠী ন্যাশনালিস্ট সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ড-খাপলং এর ঘাঁটিগুলি ধ্বংস করা হয়। জঙ্গিদের অবস্থান নির্ভুলভাবে জানতে অভিযানের সময় হেলিকপ্টার, ড্রোন সহ অন্য প্রযুক্তিরও সাহায্য নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের কালাদান বহুমুখী প্রকল্প ঘিরে বহুদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল আরাকান আর্মি জঙ্গি সংগঠন। এই প্রজেক্টের ফলে কলকাতা থেকে মিয়ানমারের সিত্বে বন্দরের সাথে সংযোগ রক্ষা করা সম্ভব হবে। কলকাতা হয়ে মিজোরামের সাথে জুড়ে শেষ হবে এই প্রকল্পের কাজ। এর ফলে উত্তরপূর্ব ভারতের নতুন গেটওয়ে হযে উঠতে পারে মিজোরাম। এই প্রকল্পের ফলে কলকাতা থেকে মিজোরামের দূরত্বও প্রায় এক হাজার কিলোমিটার কমে যাবে, সময় কমবে চার দিনের মতো। কিন্তু কিছুতেই ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হতে দিতে চায়নি আরাকান আর্মি। 

নাম না জানানোর শর্তে ভারতের নিরাপত্তা সম্পর্কিত এক জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গত প্রায় দুই বছর ধরেই কাচিন স্বতন্ত্র আমি (কেআইএ) আরাকান আর্মিকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। প্রায় ৩০০০ জঙ্গি মিয়ানমার সীমান্তের দক্ষিণে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের রাংগতলা জেলার দিকে সরে এসেছে। আরাকান আর্মি যেমন অত্যন্ত প্রশিক্ষিত জঙ্গি সংগঠন তেমনি আইইডি প্রস্তুতে পারদর্শী। এরা কালাদান প্রকল্পের ক্ষেত্রে বহু হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা ভারত ও মিয়ানমার উভয়ের পক্ষেই উদ্বেগজনক।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য