Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ মার্চ, ২০১৯ ১২:৫২
আপডেট : ১৬ মার্চ, ২০১৯ ১৩:১৬

ক্রাইস্টচার্চের রক্তাক্ত হামলা; যে ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়েছেন ব্রেনটন ট্যারেন্ট

অনলাইন ডেস্ক

ক্রাইস্টচার্চের রক্তাক্ত হামলা; যে ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়েছেন ব্রেনটন ট্যারেন্ট
হামলাকারী ব্রেনটন টেরেন্ট

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে গতকাল শুক্রবার মসজিদে হামলার সময় ৪৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। হামলাকারী ব্রেনটন ট্যারেন্ট একজন অস্ট্রেলিয়ান শ্বেতাঙ্গ। তার রাইফেল ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামের ছবি সামনে এসেছে। এগুলোতে যেসব নাম ও বার্তার কথা লেখা ছিল, তা শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

অস্ত্রের গায়ে লেখা ল্যাটিন, সিরিলিক ও জর্জিয়ান হরফে যেসব শব্দ, তারিখ, ব্যক্তি ও যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে, তা ইতিহাসে খ্রিস্টান ও মুসলমানদের মধ্যের যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট। এর মধ্যে আছে:

Tours 732 
৭৩২ সালে দক্ষিণ ফ্রান্সের তুর ও পোয়াতিয়ে শহরের কাছে ফ্রাংক ও বুর্গুন্দীয় সেনাদের সাথে আরব উমাইয়াহ খিলাফতের সেনাদের যুদ্ধ।  যুদ্ধে ফ্রাংকরা জয়লাভ করে এবং এর ফলে পশ্চিম ইউরোপে মুসলমানদের অগ্রযাত্রা ব্যহত হয়।

Acre 1189 
১১৮৭ সালের সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখ শুরু হওয়া বিখ্যাত হাত্তিন যুদ্ধে বিখ্যাত মামলুক সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি বিজয় লাভ করেন। এরপরই তিনি জেরুজালেম অবরোধ করেন এবং অক্টোবরের ২ তারিখে জেরুজালেম দখল করেন। এর পর ইংল্যান্ডের রাজা রিচার্ড দ্য লায়নহার্টের উদ্যোগে ও অর্থায়নে শুরু হয় থার্ড ক্রুসেড (১১৮৯-১১৯১)। টায়ার শহর থেকে ক্রুসেডার খ্রিষ্টানরা যোগ দেয় তার সাথে। আক্রা শহরে মুসলিম বাহিনীকে পরাজিত করে রিচার্ডের বাহিনী। নারী ও শিশুসহ প্রায় তিন হাজার বন্দী মুসলিমকে হত্যা করেন রিচার্ড। ১১৯১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আরসুফ যুদ্ধে সালাহউদ্দিনের বাহিনীর মুখোমুখি হন রিচার্ড। সে যুদ্ধে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হন সালাহউদ্দিন, যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হন বাহিনীসহ। রিচার্ড জাফফা শহর দখল করে নেন।

Sigismund of Luxembourg 
রোমান সম্রাট চতুর্থ চার্লসের ছেলে সিগিসমুন্ড অব লুক্সেমবার্গ। তার নেতৃত্বে ৯০ হাজার খ্রিষ্টীয় ক্রুসেডার সৈন্য, অপরদিকে অটোমান সুলতান প্রথম বায়েজিদের সঙ্গে ১ লাখ ৪০ হাজার মুসলিম যোদ্ধা। ১৩৯৬ সালে ২৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর সংঘটিত যুদ্ধে খ্রিষ্টীয় বাহিনী সম্পূর্ণরূপে পরাজিত হয় এবং সিগিসমুন্ড পালিয়ে যায়।

lepanto 1571 
১৫৭১ খ্রিষ্টাব্দে উসমানি সুলতান দ্বিতীয় সেলিমের নৌবাহিনীর অন্যতম সেনাপতি ছিলেন অ্যাডমিরাল আলি পাশা। এ অ্যাডমিরাল ১৫৭১ সালের ৭ অক্টোবর ২৮৭টি যুদ্ধজাহাজ, ২২২টি গ্যালি (নৌযুদ্ধযান বিশেষ) এবং ৫৬টি গ্যালিয়টস নিয়ে পেত্রাস উপসাগরে খ্রিষ্টান ‘হলি লিগের’ মুখোমুখি হন।

খ্রিষ্টান নৌবাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন অ্যাডমিরাল জন অব অস্ট্রিয়া স্বয়ং, যিনি স্পেনের শাসক দ্বিতীয় ফিলিপসের সৎভাই ছিলেন; এবং লুইস ডে রেকুয়েসনেস, জন আলভারো ডি বাজান এবং গিয়ানান্দেরা ডরিয়া। অবশেষে ৭ অক্টোবর ইয়োনিয়ান উপসাগরের লেপান্তো অঞ্চলে সংঘটিত ইতিহাসের ভয়াবহতম নৌযুদ্ধে মুসলিম বাহিনী পরাজিত হয়।

Vienna 1683 
১৬৮৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১২ তারিখে উসমানি ও খ্রিষ্টান হলি লিগের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধে উসমানি বাহিনী পরাজিত হয় এবং পশ্চিম ইউরোপে ইসলাম প্রবেশের দ্বার চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

আলেক্সান্ডার বিসোনেট- ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি কিউবিক শহরের একটি মসজিদে হামলা চালান এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। মাগরিবের নামাজের পর আড্ডারত ৪০ ব্যক্তি ও চার শিশুকে টার্গেট করে এলোপাতাড়ি গুলি করেন।

লুকা ট্রাইনি- ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কালো অভিবাসীদের ওপর হামলা চালিয়ে ছয়জনকে আহত করেন এই ইতালি নাগরিক।

জোসু এস্টানবানেজ- স্পেনের নতুন-নাৎসি। ২০১৭ সালে মাদ্রিদের প্রাণকেন্দ্রে ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভকারী ১৬ বছর বয়সী কিশোর কালোর্স পালোমিনোকে ছুরিকাঘাত করেন।

বাজো পিভলজানিন- উত্তর বলকানে ১৭ শতকে উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন এই মিলিশিয়া কমান্ডার। সার্ব ও ক্রোয়েশিয়ার লোকজন তাকে ‘নায়কোচিত’ সম্মান দেন।

চার্লস ম্যানটেল- ফ্রাংকের কার্যত রাজা ছিলেন তিনি। তাকে হ্যামার নামে ডাকা হয়। ফ্রান্সে তুরসের যুদ্ধে উমাইয়া খিলাফতের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেন।

জন হুনিয়াদি- ট্রানসিলভ্যানিয়ার ভইভোডের একজন গভর্নর ও একজন হাংগেরিয়ান জেনারেল। ১৪৪১ ও ১৪৪২ সালে উসমানীয় বাহিনী তার কাছে পরাজিত হয়েছে।

দ্বিতীয় কনস্টানটিন আসেন- বুলগেরিয়ার দ্বিতীয় কনস্টানটিন উসমানীয় খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ছিলেন। অর্ধযুগ ধরে এ বিদ্রোহ চলছিল। কিন্তু পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এ বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

মিলোস অবিলিস- প্রিন্স লাজারের সেবায় একজন সার্বিয়ান নাইট ছিলেন তিনি। তিনি উসমানীয় সুলতান প্রথম মুরাদকে হত্যা করেন।

পেলাইউ- তিনি একজন ভিজিগথিক অভিজাত। কোভাডোঙ্গার যুদ্ধে জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। উত্তর আফ্রিকার মুরসদের কাছ থেকে আইবেরিয়ান উপদ্বীপ পুনর্বিজয়ে তার কৃতিত্ব রয়েছে।

প্রিন্স ফ্রুজিন- দ্বিতীয় বুলগেরিয়ান সাম্রাজ্য জয়ে উসমানীয় শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা একজন বুলগেরিয়ান অভিজাত।

সেবাসটিয়ানো ভেনিয়ার- চতুর্থ উসমানীয়-ভেনিটিয়ান যুদ্ধে তুর্কিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা ডিউক অব ভেনিস।

ফেলিকস কাজিমিয়ারজ পটোকি- ১৬৮৩ সালে গ্রেট তুর্কিশ যুদ্ধের সময় তিনি ভিয়েনা অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন। বিভিন্ন যুদ্ধে তাতারস ও তুর্কিদের বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ করেন।

আইয়োসিফ গুরকো- ১৮৭৭-১৮৭৮ সালে রুশ-তুর্কি যুদ্ধে তুরস্কের বিরুদ্ধে লড়াই করা রুশ ফিল্ড মার্শাল। শিফাকা পাস যুদ্ধে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য