Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ মে, ২০১৬ ২৩:২৬
আধুনিক বিশ্বেও সাড়ে চার কোটি মানুষ দাসত্বের শিকার
আধুনিক বিশ্বেও সাড়ে চার কোটি মানুষ দাসত্বের শিকার

বিশ্বে এক সময় যারা সমাজে প্রভাবশালী ছিলেন তারা দাস রাখতেন। আর সেটা মানুষকেই।

টাকার বিনিময়ে মানুষকে কিনতেন। তার পর তাকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতেন। এরপর এক সময় এটা মানবতার লঙ্ঘন বলে সেটা থেকে মুক্ত হতে চেষ্টা করে পৃথিবী। কিন্তু সেই অবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। এখনো গোটা বিশ্বে ৪ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ দাসের মতো জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশন গতকাল চলতি বছরের যে গ্লোবাল স্লেভারি ইনডেক্স প্রকাশ করেছে, তাতে এ ধরনের দুর্দশার ছবি প্রকাশ পেয়েছে। আর এই বিচারে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে দশম। বাংলাদেশে এ ধরনের ১৫ লাখ মানুষ আছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। যারা কারখানা, খনি বা খামারে নামমাত্র মজুরিতে দাসের মতো শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছেন, দালালের খপ্পরে পড়ে বাধ্য হচ্ছেন যৌনকর্মীর জীবন যাপনে, এ যুগেও যাদের ঋণ শুধতে না পেরে কাটাতে হচ্ছে গোলামের জীবন, অথবা বাবা-মায়ের ঋণের দায় মাথায় নিয়ে যাদের জন্ম হচ্ছে কৃতদাসের মতো— তাদের সংখ্যা ধরেই এ সূচক তৈরির কথা জানিয়েছে ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশন। গ্লোবাল স্লেভারি ইনডেক্স বলছে, বিশ্বজুড়ে যে চার কোটি ৫৮ লাখ মানুষ এভাবে ‘আধুনিক দাসের’ জীবন কাটাচ্ছে, তাদের ৫৮ শতাংশই ভারত, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান— এই পাঁচ দেশের বাসিন্দা।   বিশ্বের ১৬৭ দেশে গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া পাওয়া গেছে। গবেষণাকালে ৫৩টি ভাষায় ৪২ হাজার মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশনের ২০১৪ সালের সমীক্ষায় তিন কোটি ৫৮ লাখ মানুষের একটি হিসাব পাওয়া গেছে, যারা ‘দাসের জীবন যাপনে’ বাধ্য হচ্ছেন। অর্থাৎ, মাত্র দুই বছরে সেই কাতারে যুক্ত হয়েছে এক কোটি মুখ। আধুনিক এই দাসদের দুই তৃতীয়াংশই এশিয়ার বাসিন্দা। ভারতে এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ১ কোটি ৮৩ লাখ। সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ চীন এই তালিকায় আছে দ্বিতীয় অবস্থানে; সেখানে ৩৪ লাখ মানুষ এ ধরনের দুর্দশার জীবনে বাধ্য হচ্ছেন। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানে ‘দাসের জীবনে’ বাধ্য হচ্ছেন ২১ লাখ মানুষ। ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ডরু ফরেস্ট বলেন, আগের জরিপের তুলনায় এবার তথ্য সংগ্রহের হার ভালো হওয়ায় আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া গেছে। এ কারণে ‘দাসের জীবন যাপনে’ বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে বলে মনে হতে পারে।   তিনি বলেন, আধুনিক দাসত্ব বলতে বঞ্চনামূলক পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে যেখানে কোনো ব্যক্তি হুমকি, সহিংসতা, জুলুম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতারণা এড়াতে পারে না। আধুনিক দাসদের অনেকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাছ ধরার নৌকায় গোলামি করছেন, অনেকে গৃহকর্মী হিসেবে বা অনেকে পতিতালয়ে আটকা পড়ে রয়েছেন। বিবিসি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow