Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪৬
গাছটার বয়স ১০ হাজার বছর
গাছটার বয়স ১০ হাজার বছর
ন্যাশনাল বোটানিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সৌজন্যে

একটি গাছ আর কত দিন বাঁচে। জোর কয়েকশ বছর। কিন্তু সেটি যদি হাজার বছর এমন কী ১০ হাজার বছর বাঁচে তাহলে! সত্যি হ্যাঁ উপরের গাছটির বয়স গোনে গোনে ৯,৫৫৮ বছর। সম্ভবত এ গাছটিই বহু যুগের পত্তন-বিনাশের প্রত্যক্ষদশী। দেখেছে বহু ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, তুষারপাত। এমনকী, দেখেছেন তুষারযুগের শেষটাও। দেখেছে গ্রিক সভ্যতা থেকে শুরু করে আজকের এ বিশ্ব। প্রায় ১০ হাজার বছর ধরে ইনি বহাল তবিয়তেই বেঁচে বর্তমানে রয়েছেন সুইডেনের টালার্না প্রদেশে। ফুলু পর্বতের পাদদেশে। ইনি আদতে একটি স্প্রুস গাছ। যাকে বৃক্ষও বলা যায়। গত শতাব্দীর ৪০-এর দশক থেকে বিষাক্ত মাটি থেকে প্রাণের রসদ তেমন না  পেয়ে তিনি বুক চিতিয়ে বেড়েও উঠতে শুরু করেছেন আকাশের দিকে। যেন এটা তার অস্তিত্বের সদম্ভ ঘোষণা। ২০০৮ সালে সুইডেনের ওমেয়াঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল জিওগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক লিফ কুলমান প্রথম এ গাছটির সন্ধান পান। ফ্লোরিডার মিয়ামিতে তার গবেষণাগারে কুলমানের পর কার্বন পরমাণুর একটি আইসোটোপ (সি-১৪) দিয়ে এর বয়স মেপেছিলেন। তাতে দেখা গিয়েছে, ওই গাছটির বয়স ৯,৫৫৮ বছর। এর চেয়ে দীর্ঘায়ু গাছ এখন পর্যন্ত মেলেনি পৃথিবীতে। এর আগে যে প্রাচীনতম গাছটির হদিস মিলেছিল উত্তর আমেরিকায় সেটি একটি পাইন গাছ। তার বয়স বড়জোর ৪,০০০-৫,০০০ বছর। অধ্যাপক কুলমানের দাবিটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত ও স্বীকৃত হয়েছে। সেই প্রবন্ধটি ছাপা হয়েছে ‘জার্নাল ইভলিউশন’-এর গত মাসের সংখ্যায়। কিন্তু এত দিন ধরে এই গাছগুলো বেঁচে থাকে কী করে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘এদের একটা কাণ্ড মরে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নতুন কাণ্ডের জন্ম হয়। তা ছাড়া এদের শিকড় মাটি ফুঁড়ে গভীরে চলে যেতে পারে খুব দ্রুত। গত ১০০ বছরে পরিবেশ দূষণের ফলে সুইডেনের ওই এলাকায় মাটির তাপমাত্রা এক ডিগ্রি বেড়েছে। তার ফলে মাটি থেকে বাঁচার রসদ জোগাড় করতে এ গাছটির অসুবিধা হওয়ায় গত ৯০ বছর ধরে এটি একটু একটু করে বাড়ছে। মনে করা হচ্ছে এ গাছটি তুষারযুগের সময় স্ক্যানডেনেভিয়ায় ছিল। পরে কোনো ভাবে পাখিদের মাধ্যমে বা বাতাসে উড়ে এসে ওই গাছগুলির বীজ পড়েছিল সুইডেনের ওই এলাকায়। ওই এলাকায় ৩৭৫, ৫৬৬০, ৯০০০ এবং ৯৫৫০ বছর আয়ুর আরও বিভিন্ন প্রজাতির স্প্রুস গাছের হদিস মিলেছে। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow