Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৭
ঘটা করে সিঙ্গুরের কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দিলেন মমতা

ভারতে পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে টাটা শিল্পগোষ্ঠীর কারখানার জন্য ১০ বছর আগে অধিগৃহীত প্রায় এক হাজার একর জমি গত পরশু আবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় কৃষকদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। গত মাসে এই জমি ফেরানোর জন্য সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশের পর বুধবার সিঙ্গুরে এক বিশাল উৎসবের মধ্যে দিয়ে কৃষকদের মধ্যে ৯ হাজারেরও বেশি জমির পর্চা বিলি করেছেন তিনি।

তুলে দিয়েছেন ক্ষতিপূরণের চেক। তবে মুখ্যমন্ত্রী সেই সঙ্গেই জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিল্প ও কৃষি দুই-ই চায় এবং টাটা বা বিএমডব্লিউ কারখানা গড়তে চাইলে রাজ্যের অন্যত্র সরকার তাদের জমির ব্যবস্থা করে দিতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে সাড়ে তিন দশকের বামপন্থি শাসনের অবসান ঘটিয়ে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসার পেছনে এককভাবে যে ইস্যুটির সবচেয়ে বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করা হয়, সেই সিঙ্গুরের কৃষিজমি আন্দোলন আজ একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ করল বলা যেতে পারে। বিবিসি

জমি ফেরত দেওয়ার অনুষ্ঠানে সিঙ্গুরের আন্দোলনকে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করে মিস পাটেকর বলেন, মানুষের জল-জঙ্গল-জমির ওপর যে চিরন্তন অধিকার, সিঙ্গুরে তাকেই মা-মাটি-মানুষের তকমা দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি— এবং সেই আন্দোলনকে সফল করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, ক্ষমতায় আসার পরও এই রাজনৈতিক দলটি তাদের অঙ্গীকার ভোলেনি, এটাও প্রায় এক নজিরবিহীন ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রী নিজে তার বক্তৃতায় যেমন তার সিঙ্গুর আন্দোলনের সহকর্মীদের অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তেমনি তার সরকার যে শিল্পের বিরোধী নয় সেটাও বারবার তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যে টাটা শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে গত পাঁচ বছর ধরে তার সরকার মামলায় লড়ছে, এমন কি তারাও যে পশ্চিমবঙ্গে স্বাগত সে কথাও এদিন বারবার উল্লেখ করেছেন মমতা ব্যানার্জি।

তিনি বলেন, টাটাবাবুরা হয়তো এখানে কারখানা করতে পারেননি, কিন্তু আমরা বিষয়টা স্পোর্টিংলি নিতে চাই। আমি তাদের এক মাস সময় দিলাম, ভেবে দেখুন পশ্চিমবঙ্গে কারখানা করবেন কি না। যদি রাজি থাকেন, তাহলে গোয়ালতোড়ে সরকার নিজের ল্যান্ডব্যাংক থেকে এক হাজার একর জমি দেবে। কিন্তু কারও জমি কেড়ে নিয়ে সরকার কারখানা করতে দেবে না। বিবিসি।

up-arrow