Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:১৬
আইএসের যৌনদাসী থেকে জাতিসংঘের দূত
আইএসের যৌনদাসী থেকে জাতিসংঘের দূত

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর যৌনদাসী হিসেবে দিনের পর দিন গণধর্ষিতা হয়েছেন। সইতে হয়েছে অকথ্য অত্যাচার। কিন্তু জঙ্গিরা তাদের অনেকের মন ভাঙতে পারেনি। সুযোগ খুঁজছিলেন একবার কোনোরকমে পালিয়ে যাওয়ার। সংকল্প— পালাতেই হবে। চরম ঝুঁকি নিয়ে সেই নরক থেকে বেরিয়ে আসা একজন নারী নাদিয়া মুরাদ। এই নারী সেই নরক যন্ত্রণা থেকে পালিয়ে এসে হলেন জাতিসংঘের ‘গুডউইল অ্যাম্বাসাডর’।

গত বছর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নিজের ‘পুনরুজ্জীবন’-এর কাহিনী শুনিয়েছেন নাদিয়া। শিউরে ওঠার মতো সেই কাহিনী। ইরাকের কুর্দ জনগোষ্ঠীর ইয়াজিদি ধর্মের মেয়ে নাদিয়া মুরাদ। ২০১৪ সালে ইরাক যখন ইসলামিক স্টেটের দখলে একটু একটু করে চলে যাচ্ছিল তখন তরুণী নাদিয়া। ১৯ বছর বয়স। ইসলামিক স্টেটের তখন তাণ্ডব চলছে ইরাকের নানা অংশ জুড়ে। তখন চারদিকে ইয়াজিদি মেয়েদের জোর করে ধরে নিয়ে যায় আইএসের জঙ্গিরা। নাদিয়াও বাদ গেলেন না। সে সময় যে ৫ হাজার মেয়েকে অপহরণ করেছিল আইএস, তাদের মধ্যে তিনিও ছিলেন। এরপর সেই নারীদের ওপর চলে অমানবিক অত্যাচার। তবে শেষ পর্যন্ত পালাতে পারেন নাদিয়া। পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় পান এক জার্মান শিবিরে। সেখানে তার চিকিৎসা হয়। এ অবস্থা থেকে তাকে আলোর পথ দেখান আমল ক্লুনি নামে এক মহিলা আইনজীবী। ক্লুনি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মী। এখন নাদিয়াও কাজ শুরু করেছেন তারই মতো অত্যাচারিত, নির্যাতিত মহিলা ও শিশুদের নিয়ে। আর সেই কাজের জন্যই নাদিয়া মুরাদকে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গুডউইল অ্যাম্বাসাডর করল জাতিসংঘ।

up-arrow