Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪২
ফের উত্তাল কাশ্মীর
• ছররা গুলিতে কিশোরের মৃত্যু
• দুই মাসে নিহত ৮৩

মাঝে একটু বিরতির পর আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মীর। পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে আহত এক কিশোরের মৃত্যুকে কেন্দ্র আবারও বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীনগরের বিক্ষোভের সময় আহত কিশোরের মৃত্যু হলে গতকাল থেকে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে কাশ্মীর। এই মৃত্যুর প্রতিবাদে হাজার হাজার কাশ্মীরী গতকাল রাস্তায় নামে। তারা বিক্ষোভের চেষ্টা করে। যদিও পুলিশ তাদের হটিয়ে দিয়েছে। পুলিশের ছররা গুলিতে নিহত ওই কিশোরের নাম মোমিন আলতাফ (১৫)। যদিও পুলিশের দাবি, তারা ছররা গুলি ব্যবহার করলেও এর আঘাতে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়নি। তার জানাজা শেষে মানুষ হারওয়ানের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা পাথর ছোড়ে। পাল্টা জবাব দেয় পুলিশও। নতুন করে উত্তাপ সৃষ্টি হওয়ার পর হারওয়ানে প্রবেশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জারি করা হয়েছে কারফিউ। এই বিক্ষোভের আঁচ যাতে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য শ্রীনগরের বেশ কিছু উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী  মোতায়েন করা হয়েছে। এ কিশোরের মৃত্যুতে ৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এ পর্যন্ত প্রায় ৮৩ জনের মৃত্যু হলো। বিক্ষোভের শুরু হয় রাজ্যের হিজবুল নেতা বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হওয়ার পর। ৮ জুলাই কাশ্মীরের অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় সেনা ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর যৌথ অভিযানে তারা নিহত হন। এরপর কাশ্মীরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ কাশ্মীরীদের দাবি, বুরহানকে ‘ভুয়া এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের কিছু অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভের মাত্রা বেড়ে গেলে কাশ্মীরের ১০টি জেলা, এমনকি দূরবর্তী গ্রামেও কারফিউ জারি করা হয়। তারপরেও বিক্ষোভ দেখিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন মানুষ। আর বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা জারি রাখে নিরাপত্তা বাহিনী। আর তাতে প্রাণ হারায় অন্তত ৬৭ জন। টানা ৫২ দিন পর ২৯ আগস্ট শ্রীনগরের কয়েকটি এলাকা থেকে কারফিউ প্রত্যাহারের  ঘোষণা দেওয়া হয়। যদিও ১৪৪ ধারা জারি থাকে। সর্বশেষ ১৩ জুলাই ঈদুল আজহার দিন কারফিউ  ভেঙে বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশি গুলিতে নিহত হয়েছেন দুই ব্যক্তি। এনডিটিভি।

up-arrow