Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০২
ভারত কি সত্যিই পাকিস্তানে হামলা চালাতে চাইছে
বিবিসির বিশ্লেষণ
ভারত কি সত্যিই পাকিস্তানে হামলা চালাতে চাইছে

কাশ্মীরে সেনা দফতরে হামলা চালিয়ে ১৮ জন ভারতীয় সেনাকে হত্যার ঘটনায় ভারত দায়ী করেছে পাকিস্তানকে। যদিও পাকিস্তান বরাবরই তা অস্বীকার করছে।

কিন্তু এ ঘটনার পর ভারত ও পাকিস্তান কি যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে? ভারতের সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামগুলো দেখলে একটি বিষয় পরিষ্কার, তা হচ্ছে— এ হামলা নিয়ে ভারতের ক্রোধ এখন চরমে। এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু ভারত কি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর মতো অবস্থায় রয়েছে? তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি। ভারতের অনেক রাজনীতিবিদ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘সমুচিত জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। বিজেপির একজন সিনিয়র নেতা রাম মাধব বলেছেন, তথাকথিত কৌশলগত কারণে সহ্য করার সময় শেষ হয়ে গেছে। ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তারাও একই ধরনের মনোভাব পোষণ করছেন। তারা মনে করেন ভারতের পাল্টা আঘাত করা উচিত। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, পাকিস্তানের ভূখণ্ডে পাল্টা আঘাত হানার জন্য ভারতের সামর্থ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য আছে কিনা? অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন ভারতের সরকারগুলো সে ধরনের সামর্থ্য গড়ে তুলেছে বলে মনে হয় না।

পাকিস্তানের ভিতরে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ভারত যেন হামলা চালায় সেজন্য সংবাদমাধ্যমে কথাবার্তা হচ্ছে। কিন্তু অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভারতের জন্য এটা সহজ হবে না। কারণ পাকিস্তানের রয়েছে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ভারতের একজন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে বিশ্লেষক অজয় শুক্লা মনে করেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নানা রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম রেখেছে। কিন্তু কোনো সন্ত্রাসী হামলার বিপরীতে কড়া জবাব দেওয়ার মতো সামরিক শক্তি এবং পরিকল্পনা তৈরি করেনি নরেন্দ্র মোদির সরকার।

তবে লেখক ব্রাহ্মা চেলেনি মনে করেন, ভারত যদি নিশ্চুপ থাকে তাহলে সেটি তার পারমাণবিক এবং সামরিক শক্তিকে অবজ্ঞা করা হবে এবং শত্রুরা তাদের হামলা অব্যাহত রাখবে। কিন্তু একই সঙ্গে এ কথাও ঠিক নয় যে, ভারত তার মাটিতেই পাকিস্তানের হামলার বিরুদ্ধে লড়াই করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সুতরাং বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রতিশোধ নেওয়ার কথা জনসম্মুখে না বলে ভারতের ভিন্ন উপায় বের করতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow