Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২০
মহাকাশে গ্রহের ভয়ে সূর্য!
মহাকাশে গ্রহের ভয়ে সূর্য!

মহাকাশে এমন একটি নক্ষত্র বা সূর্যের হদিস পাওয়া গেছে যে, তারই ‘সন্তান’ একটি গ্রহের ভয়ে সর্বদা আড়ষ্ট হয়ে থাকে! আমাদের সূর্যের মতোই সেটি ‘সূর্য’। কিন্তু তার চারপাশে (কক্ষপথে) পাক মারছে যে ভিনগ্রহটি, তার ভনভন করে ঘুরে চলার তালে-ছন্দে ভয়ে থরথর করে কাঁপছে তার ‘জন্মদাতা’ তারা ‘এইচএটি বা হ্যাট-পি-২’।

আর তার ভয়ঙ্কর বাউন্ডুলে ‘প্রবলেম চাইল্ড’ ভিনগ্রহটির নাম- ‘এইচএটি বা হ্যাট-পি-২বি’। মহাকাশের এই ‘প্রবলেম চাইল্ড’ বিশ্বের বড় বড় জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত ব্রহ্মাণ্ডে যতগুলি সৌরমণ্ডলের খোঁজ পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, তাদের সবকটিতেই দেখা গেছে, আমাদের সূর্যের মতো তাদের তারা বা নক্ষত্রগুলি দারুণভাবে দাপটে ‘সংসার’ চালাচ্ছে গ্রহ, উপগ্রহদের নিয়ে। সব সৌর-সংসারেই তাই আপাতভাবে রয়েছে শান্তি, সুস্থিতি। কিন্তু এই প্রথম এমন কোনো সৌরমণ্ডলের হদিস মিলল, যেখানে কোনো তারা বা নক্ষত্রকে সামলাতে হচ্ছে এক ‘প্রবলেম চাইল্ড’কে! এই সাড়াজাগানো আবিষ্কারটি করেছেন ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) আর্থ, অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস বিভাগের এক গবেষকদল। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম— ‘প্ল্যানেট-ইনডিউসড স্টেলার পালসেশন্স ইন হ্যাট-পি-টু’জ এক্সেন্ট্রিক সিস্টেম’। যা একেবারে হালে ছাপা হয়েছে ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ। এমআইটি গবেষক জুলিয়েন দ্য উইট ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাকে জানান, ‘পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ আলোকবর্ষ দূরত্বে রয়েছে ওই সৌরমণ্ডলটি। তার নক্ষত্রটির নাম- ‘এইচএটি বা হ্যাট-পি-২’। সেই তারাটিকে ঘিরে পাক মারছে আমাদের বৃহস্পতির চেয়েও কম করে ৮ গুণ ভারী একটি ভিনগ্রহ (এক্সোপ্ল্যানেট)। এখন পর্যন্ত যতগুলো প্রচণ্ড ভারী ভিনগ্রহের হদিস মিলেছে, এই ‘প্রবলেম চাইল্ড’ তাদের অন্যতম। আমাদের বৃহস্পতির মতোই ওই গ্রহটি আপাদমস্তক গ্যাসে ভরা (গ্যাস জায়েন্ট)। তার নাম— ‘এইচএটি বা হ্যাট-পি-২বি’। আর এই গ্রহটি ভীষণ রকমের পাগলাটে। নিজের কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে তার তারাটিকে পাক মারতে গিয়ে কোনো সময় সেই ভিনগ্রহটি হুট করে চলে আসছে তার নক্ষত্র ‘এইচএটি বা হ্যাট-পি-২’-র কাছে। আবার তার পরেই সাঁ করে আপন খেয়ালে চলে যাচ্ছে তার নক্ষত্র থেকে অনেক দূরে। আমরা এটাকেই বলি, গ্রহদের ‘এক্সেন্ট্রিক অরবিট’।

up-arrow