Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৩
চীনের বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে নেপাল

নেপালকে চীন তাদের চারটি সমুদ্রবন্দর ও তিনটি স্থলবন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে বলে জানিয়েছে নেপালি সরকার। শুক্রবার দেশ দুটির কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত একটি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর কাঠমান্ডু চীনের তিয়ানজিন,  শেনজেন, লিয়ানইয়ুংগাং ও ঝানজিয়াং সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করতে পারবে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে নেপালের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর পাশাপাশি চীনের তিনটি স্থলবন্দর লানঝৌ, লাসা ও জিগােস ব্যবহারেরও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। খসড়ায় বন্দর সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোও নেপাল ব্যবহার করতে পারবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘ভারতের দুটি বন্দরের পাশাপাশি আমরা এখন থেকে চীনেরও চারটি সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সুযোগ পেতে যাচ্ছি, এটি একটি মাইলফলক,’ বলেছেন নেপালের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা রবি শংকর সাইনজু। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলেও, কবে চুক্তি স্বাক্ষর হবে তা জানাতে পারেননি তিনি।

 সিদ্ধান্তটি কার্যকর হওয়া শুরু করলে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে  নেপালে আসা কার্গোবাহী জাহাজের সময় ও খরচ দুই-ই বাঁচবে। বেইজিং ও কাঠমান্ডুর মধ্যে এই সমঝোতা দিল্লির কপালে ভাঁজ ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। স্থলবেষ্টিত  নেপালের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর বাণিজ্য ও যোগাযোগের  ক্ষেত্রে ভারত যে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নিত, চীনা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ তা খর্ব করবে বলেই ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

এশিয়ার দুই প্রভাবশালী দেশ চীন ও ভারতের সঙ্গে সীমান্ত থাকা নেপাল এতদিন জ্বালানিসহ জরুরি পণ্য সরবরাহ ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দিল্লির বন্দরগুলোর ওপরই নির্ভরশীল ছিল। ২০১৫-১৬’র কয়েক মাস ভারত  নেপালের ওপর অবরোধ আরোপ করলে জ্বালানি ও ওষুধ সংকটে পড়া কাঠমান্ডু তখন থেকেই বিকল্প পথ খুঁজতে থাকে। শুক্রবারের সমঝোতাকে হিমালয়ের দুই পাশের  দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির নিদর্শন হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। স্থলবেষ্টিত নেপালের বাণিজ্য  যোগাযোগ এখন পর্যন্ত ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় কলকাতা বন্দরকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে; নয়াদিল্লি সম্প্রতি নেপালের জন্য দক্ষিণের বিশাখাপট্টম বন্দরও খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চীনের সঙ্গে নেপালকে যুক্ত করতে চাইলে সীমান্তের নেপাল অংশের সড়ক ও শুল্ক ব্যবস্থাপনার ঘাটতি মেটাতে হবে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত নেপাল থেকে চীনের সবচেয়ে কাছের বন্দরের দূরত্বও দুই হাজার ছয়শ কিলোমিটারের বেশি। ‘চীনের বন্দরে দ্রুত প্রবেশাধিকারের জন্য নেপালকে অবশ্যই তাদের অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটাতে হবে,’ বলেছেন উলের কার্পেট রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী অনুপ মাল্লা। পর্যবেক্ষকরা বলছেন,  নেপালে ভারতের প্রভাব কমাতে দেশটিতে বিনিয়োগ ও সহায়তার পরিমাণ বাড়াচ্ছে বেইজিং; এর মাধ্যমে দিল্লির প্রতি চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিচ্ছে তারা। নেপালের ভেতর  রেলওয়ে, বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন নির্মাণ এবং দুই দেশের মধ্যে অবাধ বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও বেইজিং ও কাঠমান্ডুর মধ্যে আলোচনা চলছে। এশিয়া ও এর বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে চীনকে সংযুক্ত করতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পুরনো সিল্ক  রোডের মতো করে যে উচ্চাভিলাষি ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন, ভারতের তাতে সমর্থন  নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। দিল্লির আপত্তিতেই ৫৭ বিলিয়ন ডলারের চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর স্থাপনের কাজ থমকে আছে; এ করিডরটিকে শি-র ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা। অর্থনৈতিক এ করিডর পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ভিতর দিয়ে যাওয়াতেই ভারতের প্রধান আপত্তি বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীরের ওই অংশকেও দিল্লি নিজেদের ভূখণ্ড বলেই দাবি করে আসছে।

up-arrow