Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪৪
যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি চীনের
সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি চীনের

যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করে চীন বলেছে, রাশিয়ার কাছ থেকে জেট ও ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য চীনের সেনাবাহিনীর ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেওয়া হলে ওয়াশিংটনকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড ও মার্কিন রাজনীতিতে রুশ হস্তক্ষেপের জেরে মস্কোর ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা চীন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।

আর সে কারণেই বেইজিং সম্প্রতি রুশদের কাছ থেকে ১০টি সুখোই-৩৫ যুদ্ধবিমান ও এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পর চীনা সামরিক বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া অধিগ্রহণের পর থেকে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তি একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিলেও বেইজিং তাতে কখনই সমর্থন দেয়নি। সে কারণে মস্কোর কাছ থেকে অস্ত্র কেনাও বন্ধ রাখেনি তারা। চীনা সামরিক বাহিনী এ মাসের শুরুতে রাশিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের সামরিক মহড়ায়ও অংশ নিয়েছে। সামরিক বাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং সুয়াং। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ককেও সমস্যাসংকুল করে তুলেছে। ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে এ ভুল শোধারানোর ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে,’ বলেন সুয়াং। যুক্তরাষ্ট্র চীনের সামরিক বাহিনীর হাতিয়ার উন্নয়ন বিভাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং রাশিয়া থেকে অস্ত্র ও জঙ্গিবিমান কেনার জন্য ওই বিভাগের পরিচালক লিং শেংফুকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করেছে। চীন তাদের নিজেদের প্রতিরক্ষার খাতিরে অত্যাধুনিক অনেক অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করছে। কিন্তু দেশটি এর পাশাপাশি রাশিয়া থেকে আরও উন্নত অস্ত্র কিনতে আগ্রহী। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে। আর মস্কোও আগের চেয়ে বর্তমান সময়ে বেইজিংয়ের কাছে এ ধরনের অস্ত্র বিক্রি করতে অনেক বেশি আগ্রহী। 

ওয়াশিংটন আগুন খেলছে :  রাশিয়া

রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কেনার কারণে চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া ও চীন উভয়েই। মস্কো বলছে  যে ওয়াশিংটন আগুন নিয়ে খেলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগেই হুমকি দিয়েছিল ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকারী রাশিয়ার কাছ থেকে কোনো দেশ অস্ত্র কিনলে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। সম্প্রতি চীন রাশিয়ার কাছ থেকে সুখই যুদ্ধ বিমান এবং ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছে। তাই চীনের  সেনাবাহিনীর ক্রয় শাখা এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন।

এসবের মধ্যে রয়েছে ১০টি সুখই যুদ্ধবিমান এবং এস-৪০০  ক্ষেপণাস্ত্র। এই বিভাগ এবং তার পরিচালক লি শাংফু এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রপ্তানি লাইসেন্সের আবেদন করতে পারবেন না এবং মার্কিন অর্থ ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবেন না। ওয়াশিংটন বলছে, রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র কিনে চীন রাশিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে। ২০১৪ সালে ইউক্রেনে মস্কোর হস্তক্ষেপের জবাবে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞায় তখন যোগ দেয়নি চীন। এতে ক্ষুব্ধ চীনের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র বলেছেন, তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য  জোর আহ্বান জানাচ্ছেন— অন্যথায় তাদেরকে এর পরিণতি  ভোগ করতে হবে। বেইজিং-এ বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া খুবই কঠোর। কিন্তু বেইজিং কতোটা ক্ষুব্ধ হয়েছে সেটা পরিষ্কার হবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কী দাঁড়াবে সেটা প্রকাশ করার পর। বিবিসির বিশ্লেষক জোনাথন মার্কাস বলছেন, এখানে আসল লক্ষ্য রাশিয়া - চীন নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের ফলে এসব বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে এমন সম্ভাবনা কম, বরং এর ফলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে পারে— চীন ও রাশিয়ার সহযোগিতা আরও বেড়ে যেতে পারে, বলেন তিনি। —বিবিসি

এই পাতার আরো খবর
up-arrow