Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ৩০ জুন, ২০১৬ ১০:১২
আপডেট :
ধর্মতত্ত্ব
মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর
মুফতি মো. এহসানুল হক মোজাদ্দেদী

মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রমজান মাস হলো সেই মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে আল-কোরআন, যা মানব জাতির জন্য হেদায়াত ও সুস্পষ্ট পথনির্দেশ এবং ভালো-মন্দ ও ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্যকারী। ’ (সূরা বাকারাহ : ১৮৫। ) মহাগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হওয়ার কারণে অন্যসব মাস ও দিনের চেয়ে রমজান মাস বেশি ফজিলতময় হয়েছে। আর রমজানের রাতগুলোর মধ্যে কোরআন নাজিলের রাত, লাইলাতুল কদর সবচেয়ে তাত্পর্যমণ্ডিত একটি রাত। এ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি একে নাজিল করেছি কদরের রাতে। তুমি কি জান কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সূরা কদর : ১-৩। ) এ আয়াতের ব্যাখায় মুফাসসিরকুলশিরোমণি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘এ রাতের ইবাদত অন্য হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম’। (তানবিরুল মিকবাস মিন তাফসিরে ইবনে আব্বাস : ৬৫৪ পৃষ্ঠা। ) তাবেয়ি মুজাহিদ (র.) বলেন, এর ভাবার্থ হলো, ‘এ রাতের ইবাদত, তেলাওয়াত, কিয়াম ও অন্যান্য আমল লাইলাতুল কদর ছাড়া হাজার মাস ইবাদতের চেয়েও উত্তম। ’ মুফাসসিররা এমনই ব্যাখ্যা করেছেন। আর এটিই সঠিক ব্যাখ্যা। (ইবনে কাসির : ১৮ খণ্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা। )  সূরা কদরের শানে নুজুল সম্পর্কে ইবনে কাসির (র.) বলেন, আলী ইবনে উরওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বনি ইসরাইলের চারজন আবেদ সম্পর্কে বলছিলেন, তারা আশি বছর ধরে অনবরত আল্লাহর ইবাদত করছিল। এর মধ্যে মুহূর্ত সময়ের জন্যও ইবাদত থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হননি। বিখ্যাত এ চারজন আবেদ হলো আল্লাহর নবী জাকারিয়া (আ.), আইউব (আ.), হাজকিল ইবনে আ’জূজ (আ.) এবং ইউশা ইবনে নূহ (আ.)। এমনটি শুনে সাহাবিরা (রা.) রীতিমতো অবাক হলেন। এ সময় জিবরাইল (আ.) এসে বললেন, ‘হে মোহাম্মদ (সা.)! আপনার উম্মতরা এ কথা শুনে অবাক হচ্ছে? তাদের জন্য আল্লাহতায়ালা এর চেয়ে উত্তম কিছু রেখেছেন। এরপর সূরা কদর পাঠ করা হয়। (ইবনে কাসরি : ১৮ খণ্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা। )

লাইলাতুল কদরের মর্যাদা সম্পর্কে অনেক সহি হাদিস রয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রমজান মাস এলে রসুল (সা.) বলতেন, ‘হে জনমণ্ডলী! তোমাদের কাছে মহিমান্বিত রমজান এসে পড়েছে। এ মাস খুবই বরকতময়। এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আর জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ মাসে এমন একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়, সে প্রকৃতপক্ষেই হতভাগ্য। (মুসনাদে আহমাদ : ৭১০৮; সুনানে নাসায়ি : ২১০৬। ) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমান ও ইহতেসাবের সঙ্গে কদরের রাতে ইবাদত করবে আল্লাহতায়ালা তার পেছনের জীবনের সব গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। (বুখারি : ৩৫; মুসলিম : ৭৬০ ও ১২৬৮। )

লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য নবীজী (সা.) শেষের দশ দিন ইতেকাফ করতেন। হজরত আয়শা (রা.) বলেন, ‘ওফাতের আগ পর্যন্ত প্রত্যেক রমজানের শেষের দশ দিন রসুল (সা.) ইতেকাফ করতেন। ’ (বুখারি : ২৩২৬, মুসলিম : ১১৭২। ) ‘কিন্তু তিনি যে বছর ওফাত পান, সে বছর বিশ দিন ইতেকাফ করেন। ’ (বুখারি : ৪৯৯৮। ) ‘রসুল (সা.)-এর ওফাতের পর তাঁর স্ত্রীগণ ইতেকাফ করতেন। (বুখারি : ২০২৬, তিরমিজি : ৭৯০। ) সুতরাং নারী-পুরুষ সবার উচিত সাধ্য অনুযায়ী লাইলাতুল কদর খোঁজ করা। এ উদ্দেশ্যে ইতেকাফ করা খুবই পুণ্যের কাজ। মহান আল্লাহ আমাদের লাইলাতুল কদর ও রমজানের পূর্ণ বরকত অর্জনের তৌফিক দান করুন। আমিন।  

লেখক : খতিব, মনিপুর বাইতুর রওশন জামে মসজিদ মিরপুর, ঢাকা।

বিডি-প্রতিদিন/৩০ জুন, ২০১৬/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow