Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২ জুন, ২০১৬ ১৭:৪৪
বিশ্বভারতীর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় যাবজ্জীবন
দীপক দেবনাথ, কলকাতা
বিশ্বভারতীর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি

পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিদ্যালয়ে পড়তে আসা এক নাবালিকা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সাজা দিলেন বীরভূম জেলার সিউড়ির জুভেনাইল আদালত। বৃহস্পতিবার আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা হাকিম মহানন্দ দাস এই সাজা ঘোষনা করেন। 

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের উকিল সৈয়দ সামিদুল আলম জানান, ‘গতকাল বুধবার ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সফিকুলকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি ছাত্র সফিকুল ইসলামকে ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রোটেকশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেনসেস অ্যাক্ট (পসকো) আইন অনুযায়ী যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে  এবং সেই সাথে ব্যক্তিগত ১০ হাজার রুপি জরিমানাও করা হয়। এই অর্থ অনাদায়ে অতিরিক্ত ছয় মাসের কারাগারের সাজা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে’। 

রাষ্ট্রপক্ষের উকিল আরও জানান, ‘নির্যাতিতা ওই বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে এদিন নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী এক মাসের মধ্যেই ক্ষতিপূরণের এই অর্থ ওই নারী শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিতে হবে’। এদিন সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সফিকুলকে আদালতে তোলা হয়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা ওই নাবালিকা বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থীর সাথে পরিচয় হয় বাংলাদেশেরই সিরাজগঞ্জের দাদপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রুরাল এক্সটেনশন সেন্টারের পিএইচডি-পাঠরত মোহাম্মদ সফিকুল ইসলামের। একই দেশের বাসিন্দা হওয়ায় ওই নাবালিকা ছাত্রীটিকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় সফিকুল। কিন্তু ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে সফিকুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনে ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই পাঠভবনের দ্বাদশ শ্রেণির ওই নারী আবাসিক শিক্ষার্থী। শান্তিনিকেতনের পশ্চিম গুরুপল্লীতে নিজের ভাড়া করা বাসায় জোর করে আটকে রেখে তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হত বলে অভিযোগ ওঠে সফিকুলের বিরুদ্ধে। 

এরপর ছাত্রীটির পরিবারের তরফে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে বোলপুর থানায় ওই গবেষক ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৬ ডিসেম্বর গুরুপল্লীর বাসা থেকে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ। বোলপুর আদালতে শুনানি চলাকালীন ১৯ জন সাক্ষ্য দেন। 

শফিকুলের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির পসকো আইনের ৪ নম্বর ধারা, ৩৪২ ধারায় বে-আইনিভাবে আটক রাখা, ৩২৩ ধারায় পেটানো, ৩৫৪ (বি) ধারায় বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি, ৫০৬ ধারায় হুমকিসহ একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। 

 

বিডি-প্রতিদিন/ ০২ জুন, ২০১৬/ আফরোজ




আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow