Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:১০
কলকাতায় আমেরিকান সেন্টারে হামলার 'মূল হোতা' আটক
দীপক দেবনাথ
কলকাতায় আমেরিকান সেন্টারে হামলার 'মূল হোতা' আটক

২০০২ সালে কলকাতায় আমেরিকান সেন্টরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী ইমাম হাসান (৪৪)-কে আটক করল গুজরাটের অপরাধ দমন শাখা বা এটিএস। সোমবার এটিএস’এর পুলিশ সুপার হিমাংশু শুক্লা জানান, ‘গত শনিবার রাতে বিহারের আওরঙ্গবাদ থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।

আটক ইমামকে কলকাতা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে’।  

এটিএস জানিয়েছে, বিহারের গয়া জেলার বাসিন্দা ইমাম নাম পরিবর্তন করে আওরঙ্গবাদে একটি পোশাকের দোকান চালাতেন। আমেরিকান সেন্টারে হামলার মূল চক্রী আফতাব আনসারীর ঘনিষ্ঠ ছিল ইমাম। জঙ্গিরা যে বাইকে চেপে এসে আমেরিকান সেন্টারে হামলা চালিয়েছিল সেই বাইক যোগন দিয়েছিল এই ইমাম। হামলার পরই বিহারের হাজারীবাগে গা ঢাকা দেন তিনি। হামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগ ফাঁসির খাড়া ঝুলছে আফতাব আনসারি ও ইমামেরর মামা জামালউদ্দিন নাসিরের ওপর।  

এটিএস’এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকত-উল-জিহাদ-ই-ইসলামি (হুজি)-এর অন্যতম সদস্য হল এই ইমাম। আরেকটি জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ইমামের। এছাড়াও ‘আসিফ রাজা কমান্ডো ফোর্স’ (এআরসিএফ) নামে আরেকটি ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ইমাম। ২০০১ সালে গুজরাট পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আসিফ রাজার প্রতিশোধ নিতেই আসিফ রাজা কমান্ডো ফোর্স তৈরি করা হয়েছিল। এদের লক্ষ্য ছিল রাজকোটে পুলিশ থানায় হামলা চালানো যদিও পরবর্তী সময়ে তারা সেই পরিকল্পনা বাতিল করে।  

গুজরাট পুলিশের এটিএস জানিয়েছে ইমামের গোপন আস্তানার ব্যাপারে কলকাতা পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আটক করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদর দফতর ভবানী ভবনেও হামলার ছক কষেছিল এআরসিএফ। যদিও নিরাপত্তার কথা ভেবেই সেই ছক বদলায় তারা। এরপরই আমেরিকান সেন্টারে হামলা চালায় এআরসিএফ সংগঠনটি।  

২০০২ সালের ২২ জানুয়ারি সকাল সোয়া ৯টার দিকে কলকাতার আমেরিকান কালচারাল সেন্টারে জঙ্গিরা হামলা চালায়। শীতের সকালে জঙ্গিরা পুরো শরীর শালে ঢেকে মোটরসাইকেলে চেপে আমেরিকান সেন্টারে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মীদের দিকে জঙ্গিরা একে-৪৭ থেকে গুলি চালায়। হামলায় ৬ পুলিশ কর্মী নিহত হয়, আহত হয় ১৪ জন।  

ওই হামলার পরই দুইটি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করে। এর মধ্যে একটি হুজি, অন্যটি আসিফ রাজা কম্যান্ডো নামে আরেকটি ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী।  


বিডি-প্রতিদিন/ ০৩ অক্টোবর, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow