Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০৯:২৬
সাপ মেলায় জনতার ঢল
অনলাইন ডেস্ক
সাপ মেলায় জনতার ঢল

I

পঞ্চাশ বছরের পুরনো মনষা পূজা উপলক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থানার শুলনী গ্রামে শুরু হয়েছে সাপের মেলা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া সাপের মেলা আগামী ৪ দিন ধরে চলবে।

রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সাপুড়েরা প্রতি বছর আশ্বিন মাসের শেষ দিনে সাপের খেলা দেখাতে এই গ্রামে হাজির হন। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়।

প্রতি পদে পদে মৃত্যুর হাতছানি, একটু অসতর্ক হলেই বিষধর সাপের ছোবল খেতে হতে পারে। তারপরও যাবতীয় ভয়ভীতিকে সরিয়ে রেখে প্রতি বছর এই বিশেষ দিনটিতে সাপুড়েরা সাপ খেলা দেখান শুলনীতে। আর কোলাঘাটের এই প্রত্যন্ত গ্রামে সাপের খেলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজির হন বহু মানুষ।

মেলা কমিটির দুই সদস্য সুবোধ পাত্র ও মানিক সামন্ত বলেন, এই মেলার সঙ্গে সাধারণ মানুষের আবেগ ও ভালবাসা জড়িয়ে আছে। মেলার বিভিন্ন দিনে পুতুল নাচ, যাত্রাপালা সহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়।

কোলাঘাটের দেউলিয়া বাজার থেকে অটোয় চেপে শুলনী গ্রামে এই সাপের মেলা দেখতে যেতে হয়। শুলনী হাইস্কুল মাঠে এই মেলা বসে। হাইস্কুলের অদূরে রয়েছে মনষা মন্দির। এই মন্দিরে সাপের পূজা হয়। তার আগে মনষা মন্দির লাগোয়া পুকুরে সাপুড়েরা স্নান করেন। এরপর তারা সাপ নিয়ে মন্দির সংলগ্ন মাঠে খেলা দেখাতে হাজির হন। পিংলার গোবর্ধনপুর এলাকার সাপুড়ে রাম দাস বলেন, সারা বছর ধরে গ্রামেগঞ্জে মাঠেঘাটে ঘুরে তারা সাপ ধরে বেড়ান৷ এরপর আশ্বিন সংক্রান্তির দিন মনষা মন্দিরে ওই সাপকে পূজা দেওয়া হয়। তারপর সাপ নিয়ে খেলা দেখানো হয়। অনেক সময় খেলা দেখানোর পর ওই সাপগুলিকে তারা ছেড়ে দেন।

কালনাগিনী, খরিশ, কেউটে, গোখুরে, লাউডগা সাপ গলায় ও কোমরে জড়িয়ে মেলায় খেলা দেখাচ্ছেন ঘাটালের সাপুড়ে তিমির বর্মন। তিনি বলেন, ‘‘একটু অসাবধান হলেই সাপের ছোবল খেতে হবে। কিন্তু সব অভ্যাস হয়ে গেছে। তাই সাপ দেখলে আর ভয় করে না। তবে লোভে পড়ে কখনও আমরা সাপের বিষ বিক্রি করি না। ”

দশ বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে হাওড়া জেলার বাগনান থেকে সাপ খেলা দেখাতে এসেছেন সমর দিন্দা। সমর ছেলের গলায় দু’টি বিষধর সাপ জড়িয়ে ডান হাতে আরও একটি সাপ নিয়ে দুঃসাহসিকভাবে সাপ খেলা দেখাচ্ছেন।

কোলাঘাট ব্লক তৃণমূল নেতা রাজকুমার কুণ্ডু বলেন, “এই সাপের মেলার সঙ্গে এলাকার মানুষজনের আবেগ ও সংস্কৃতি জড়িয়ে রয়েছে। আগামীদিনে এই মেলাকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ”

বিডি-প্রতিদিন/১৯ অক্টোবর, ২০১৬/মাহবুব

 

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow