Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১০:০১ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:২৪
খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
অনলাইনে বাংলাদেশের ভিসা পেতে নাজেহাল
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইনে বাংলাদেশের ভিসা পেতে নাজেহাল
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশি ভিসা পেতে শতাধিক মানুষ দিনভর কলকাতার ডেপুটি হাই কমিশন অফিসের কাউন্টারে কাউন্টারে ঘুরে চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশিদের অতি সহজে ভিসা দিতে অনলাইন পদ্ধতি চালু করার পর থেকেই শুরু হয়েছে এ সমস্যা।

ভিসা পাওয়া তো দূরের কথা, নতুন অনলাইন পদ্ধতির চক্করে পড়ে আবেদনই জমা দিতে পারছেন না মানুষ। আর তা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি, এমনকী কান্নাকাটিও চলছে। ডেপুটি হাই কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অসুবিধা হচ্ছে জেনেও তাঁদের কিছু করার নেই। কারণ এটা ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, গত শুক্রবার থেকে অনলাইনেই ভিসার আবেদন জমা দিতে হবে। অন্যথায় কাউকে ভিসা দেওয়া যাবে না।

এ দিকে কারও বাবা মারা গিয়েছেন বলে এখনই চট্টগ্রাম দৌড়তে হবে, কারও বা চাকরি রাখতে ঢাকা ফেরার তাড়া। সবার জন্যই এক্ষুণি ভিসা পাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু উপস্থিত সবারই অভিযোগ, ভিসার আবেদনের জন্য যে ওয়েবসাইটটির কথা বলা হয়েছে, ঠিকমতো কাজই করছে না সেটা। অধের্ক ফর্ম পূরণের পরে সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। কারও বা ছবিই আপলোড হচ্ছে না। অনেক বার চেষ্টায় যদিও বা ছবির সমস্যা মিটছে, ততক্ষণে পূরণ করা বাকি তথ্য গিয়েছে মুছে।  

সব মিলিয়ে ফর্ম পূরণ করতেই নাজেহাল হচ্ছে মানুষ। অথচ, তার প্রিন্ট আউট সঙ্গে নিয়ে না-এলে ভিসাই মিলবে না!
বেকবাগানে বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনে গিয়ে দেখা গেল, কী ভাবে আবেদনপত্র জমা হবে— বেশির ভাগ মানুষের কাছেই তা স্পষ্ট নয়। অথচ নতুন ব্যবস্থা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কাউকে দেখা যায়নি। কাউন্টার থেকে জবাব মিলছে, ‘‘আমরাই জানি না, তো আপনাদের কী জবাব দেব!’’

জীবন দাস (৪০) নামের একজন জানালেন, বাবা হঠাৎ মারা গিয়েছেন। এখনই চট্টগ্রাম যেতে হবে। হাজার চেষ্টা করেও অনলাইনে আবেদনপত্র পূরন করতে পারেননি। রবিবার রাতে মালদহ থেকে ছুটে এসে লাইন দিয়েছিলেন তিনি। রাতভর লাইনে দাঁড়িয়েও সমস্যা মেটেনি। কাউন্টার থেকে বলা হয়েছে, আবার চেষ্টা করুন। ‘‘আবার চেষ্টা করেও যে কাজ হবে, তার নিশ্চয়তা কী?’’ এ কথা বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন তিনি।

লাইনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ঢাকার একটি কলেজের শিক্ষক সুব্রত মজুমদার। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছেন তিনি। জানান, শুক্রবার থেকে চেষ্টা করেও ভিসা পুনর্নবীকরণের আবেদনটাই এখনও জমা দিতে পারেননি।

এক বিদেশিনীও সামান্য তথ্য জানতে এসে বিপদে পড়লেন এ দিন। অনলাইনে আবেদনপত্র পূরন করতে গিয়ে আটকে গিয়েছিলেন ওই তরুণীও। কিন্তু বিদেশি নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত কাউন্টারে ভিড় প্রবীণদের। ফলে কাউন্টারে যেতে গেলে বাধা দেওয়া হয় তাঁকে। অনেক চেষ্টায় কাউন্টারে পৌঁছেও সমস্যা মেটেনি। কী ভাবে ভিসার টাকা জমা দেবেন, তা জানতে চাইলে উত্তর আসে, ‘‘ঠিক জানা নাই!’’ এই জবাব দিয়েই কাউন্টার ছেড়ে উঠে যান ওই কর্মী। জনরোষ গিয়ে পড়ে তরুণীর উপরে। এতক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকেই তাঁর জামা ধরে টানাটানি, ধাক্কাধাক্কি শুরু করে দেন।

আবেদনপত্র পূরনে ভিড় জমতে থাকে ডেপুটি হাইকমিশনের কাছের সাইবার কাফেতেও। একটা সময়ে দেখা যায়, ভিসার লাইনে যত লোক, প্রায় ততটাই ভিড় জমেছে ওই সাইবার কাফের লাইনেও। কেউ কেউ আবার কাজ খানিকটা সহজ করতে শরণাপন্ন হন ল্যাপটপ হাতে ঘুরে বেড়ানো দালালদের। কিন্তু তারাও অন্ধকারে। টাকা নিয়েও সাহায্য করতে না-পারায় দালালদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন অনেকে।

ডেপুটি হাই কমিশন সূত্রের বক্তব্য— যে কোন নতুন জিনিস শুরু হলে প্রথমে কিছু অসুবিধা হয়। অচিরেই তা কেটে যাবে বলে তাঁরা আশাবাদী। উপ দূতাবাসের এক কর্তার বক্তব্য, অনলাইনে আবেদন জমা দিতে সকলেরই যে সমস্যা হচ্ছে, এমন নয়। শুক্রবার প্রথম দিনে ১১৩টি আবেদন জমা পড়েছিল, সোমবারও জমা হয়েছে ২০২টি। এক অফিসারের কথায়, মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে জেনেও কিছু করার নেই। কারণ, এটা ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। উপ-দূতাবাস সূত্রের খবর, নতুন পদ্ধতিতে ঠিকঠাক আবেদন করার পরেও ভিসা পেতে অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে। কারণ অনলাইনে আবেদন জমা পড়ার পরে অনুমোদন প্রক্রিয়ার অনেকটাই এখন ঢাকায় হবে। আগে কলকাতার হাতে ভিসা দেওয়ার দায়িত্ব ছিল।


বিডি প্রতিদিন/০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/হিমেল

আপনার মন্তব্য

up-arrow