Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : ২০ মার্চ, ২০১৭ ২২:১৯ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
চার বছর ধরে দেশে ফেরার অপেক্ষায় দুই বাংলাদেশি কিশোরী
দীপক দেবনাথ, কলকাতা:
চার বছর ধরে দেশে ফেরার অপেক্ষায় দুই বাংলাদেশি কিশোরী
প্রতীকী ছবি

২০১৩ সালের ১০ মে কলকাতার মিলেনিয়াম পার্ক থেকে উদ্ধার করা হয় দুই বাংলাদেশি কিশোরী রুবিয়া (১৫) ও সায়েরা(১৩) (দুইটি নামই পরিবর্তিত)-কে। তাদের সঙ্গেই আটক করা হয় পাচারকারী সন্দেহে এক যুবককেও।

মিলেনিয়াম পার্কে সন্দেহহীন ভাবে ঘুরতে দেখেই তাদের আটক করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা দফতরের অধীন অবৈধ পাচার বিভাগের কর্মকর্তারা। এরপর পশ্চিমবঙ্গেরই একটি হোমে পাঠানো হয় সম্পর্কে বোন দুইটিকে। তারা দুই জনই বাংলাদেশের ভোলা জেলার চারফ্যাশন উপজেলার হাজারিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা। আটক যুবকও ওই দুই কিশোরীর আত্মীয় বলে জানা গেছে। পাচারের অভিযোগে বর্তমানে জেলে কাটাতে হচ্ছে ওই যুবককে।
কিন্তু দীর্ঘ চার বছর পর কেটে গেলেও এখনও দেশে ফিরতে পারছে না ওই দুই কিশোরী। বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর যাবতীয় সরকারি কাগজপত্রও তৈরি, কিন্তু তাদের দেশে ফেরার পথে বাধা হয়েছে আদালতের নির্দেশ কারণ বিষয়টি এখনও কলকাতার সিটি সেশন কোর্টের বিচারাধীন। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ওই দুই কিশোরী এখনই দেশে ফিরতে পারবে না কারণ তারা দেশে ফিরে গেলে তাদের বয়ান নথিভুক্ত করা যাবে না এবং তাদের জেরাও করা যাবে না ফলে স্বাক্ষের অভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগই দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
যদিও এবিষয়ে মুখ খুলতে চায়নি রুবিয়া নামে ওই কিশোরী। কখনও স্কুলের মুখ না দেখা ওই কিশোরী জানায় ‘আমি তখনই মুখ খুলবো যদি আপনারা আমাকে দেশে ফেরত পাঠানো প্রক্রিয়া দ্রুত করতে পারেন। দীর্ঘ সময় ধরে আমরা দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি’।
যদিও কলকাতায় পাচারের আগে পর্যন্ত পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে তারই তুতো বোন সায়েরা। সে জানায় ‘আমরা আর একমুহুর্ত এই বন্দি জীবন সহ্য করতে পারছি না’।
পাচারের পর থেকেই দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠায় আদালতের অনুমতি নিয়েই দুই কিশোরীকে দেশে বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করেন এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাষ্ট্র পক্ষের উকিল। কিন্তু তবু মন মানছে না। যদিও এখনও পর্যন্ত কেউই জানে না বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে রুবিয়া ও সায়েরাকে।
তবে শুধুমাত্র এরাই নয়, বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলার নরাইল গ্রামের ১৬ বছর বয়সী সুইটিও দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করে আছে, কবে দেশে ফিরবে। ২০১৪ সালের মে মাসে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা থেকে উদ্ধার করা হয় সুইটিকে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত সুইটির নাগরিকত্বের নিশ্চিত করে চিঠি এসে পৌঁছায় নি ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। স্বাভাবিক ভাবেই ভারতের হোমেই কাটাতে হচ্ছে সুইটিকে।
তবে এদের মধ্যেই ভাগ্যবান হল খুলনার বাসিন্দা শম্পা আখতার। দুই বছরের কিছু বেশি সময় ধরে ভারতের হোমে কাটানোর পর ২০১৭ সালে ৭ মার্চ নিজের দেশে ফিরে যায় শম্পা।
শম্পার মতোই সমস্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে যায় রোশেনারা খাতুন। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর হুগলী জেলার চন্ডীতলা থানার অন্তর্গত একটি জায়গা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ জনক ঘটনা হল রোশেনারাকে পাচারের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তিনমাস পর জামিন হলেও পাচারকারীকে টানা পাঁচ বছর হোমে কাটাতে হয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ২০১৭’এর জানুয়ারিতে তার স্বাক্ষ্য রেকর্ড করা হয় আদালতে।
কিন্তু দিনের পর দিন এভাবে কেন ভারতের হোমে কাটাতে হচ্ছে রুবিয়া, সায়েরা কিংবা সুইটিদের। এবিষয়ে কলকাতার এনজিও ‘সংলাপ’এর নারী কর্মকর্তা তপতি ভৌমিক জানান ‘আদালত এবং সরকারী তরফে সমস্ত প্রক্রিয়া দেরী হওয়ার কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে একটা বিপুল সংখ্যায় পাচার হওয়ার কিশোর-কিশোরীরা ভারতের বিভিন্ন হোমে আটকে রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে তিন থকে চার বছরও সময় লেগে যাচ্ছে তাদের নিজেদের দেশে ফেরত যেতে। এই সব বিষয়ে আদালতের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত কিন্তু সরকারি টাস্ক ফোর্স এবং বিচারব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়কারী হিসাবে কেউ নেই। বিচারব্যবস্থা কিংবা টাস্ক ফোর্স কারও তরফেই কোন প্রতিনিধি নেই। ফলে এই বিলম্বতা’।

আইনজীবীদের মতেও পাচার হয়ে আসা কোন কিশোর-কিশোরীকেই নিজেদের দেশে প্রত্যর্পণের জন্য বেশি সময় নেওয়া উচিত নয়। হুগলী জেলার শ্রীরামপুর মহুকুমা আদালতের আইনজীবী ঘনশ্যাম আগরওয়াল জানান এদের প্রত্যর্পণের জন্য সর্বাধিক ছয় মাস সময় নেওয়া যেতে পারে, এর বেশি নয়।

বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

 

আপনার মন্তব্য

up-arrow