Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৩:৪৪ অনলাইন ভার্সন
কলকাতার জেল থেকে পালাল তিন বাংলাদেশি
দীপক দেবনাথ, কলকাতা:
কলকাতার জেল থেকে পালাল তিন বাংলাদেশি

কলকাতার আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়েছে তিন বাংলাদেশি বিচারাধীন বন্দী। কারাগার সূত্রের খবর, রবিবার সকালে বন্দীদের গণনার সময় ওই তিন বন্দীর অনুপস্থিতির বিষয়টি নজরে আসে কারাগার কর্তৃপক্ষের। এরপরই তাদের খোঁজখজর শুরু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। কারাারের চারদিকে তন্ন তন্ন করে অভিযান চালানো হলেও এখনও পর্যন্ত তাদের খোঁজ পাওয়া যায় নি। 

পলাতক বন্দীরা হলেন, ফারুক হাওলাদার, ইমন চৌধুরী ও ফিরদৌস শেখ। ফারুক ২০১৩ সালে ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্ত। ইমন চৌধুরী ২০১৪ সালে অপহরণ মামলায় আটক হয়। অন্যদিকে বেআইনি অনুপ্রবেশ ও ডাকাতির অভিযোগে আটক করা হয় ফিরদৌসকে। 

চাদর দিয়ে দড়ি বানিয়েই ওই তিন বন্দী রাতের অন্ধকারে কারাগারের পাঁচিল টপকে পালায় বলে পুলিশের অনুমান। আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের চার ও পাঁচ নম্বর ওয়াচ টাওয়ারের মাঝ বরাবর বিশাল উঁচু পাঁচিলের গায়ে পায়ের ছাপ দেখে তদন্তকারীদের আরও সন্দেহ হয় যে এই অংশ দিয়েই বন্দীরা অন্য জায়গায় চলে যেতে পারে। কিংবা পাঁচিল টপকে আদি গঙ্গা সাঁতরে অন্য পারে উঠেও জঙ্গিরা গা ঢাকা দিতে পারে। বন্দিদের খোঁজে খতিয়ে দেখা হচ্ছে কারাগারের সিসিটিভির ফুটেজ-ও। 

এদিকে আলিপুরের মতো একটি হাইপ্রোফাইল কারাগারের ওয়াচ টাওয়ার থাকা সত্ত্বেও বন্দীদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কেন কারাগার কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বন্দী পলাতকের ঘটনায় কারাগার কর্তৃপক্ষের কোন জোগসাজশ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই তিন বন্দী যাতে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন সেদিকে লক্ষ্য রেখে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের জেলা থানাগুলিতে তাদের ছবি পাঠিয়ে দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। কারণ কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হাতে গ্রেফতারি এড়াতে ওই তিন বিচারাধীন বন্দী বাংলাদেশেই ফিরে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই কারণেই বনগাঁ, বসিরহাট সহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ওই বন্দীরা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে সম্ভাব্য সেই ব্যক্তিদের ওপরও নজর রাখছে পুলিশ। 

এই কারাগারেই বন্দি আছে মুসা’র মতো আইএস জঙ্গি। পাশাপাশি বাংলাদেশের মোস্ট ওয়ান্টেড সুব্রত বাইন’এর মতো কুখ্যাত জঙ্গিও এই কারাগারে রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে এই ঘটনার পরই কারাগারের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। 

 

বিডি প্রতিদিন/১৪ জানুয়ারি ২০১৮/হিমেল

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow