Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৬:২০ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:৫৯
বাংলাদেশি নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সেই বিএসএফ সদস্য আটক
দীপক দেবনাথ, কলকাতা:
বাংলাদেশি নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে সেই বিএসএফ সদস্য আটক
ফাইল ছবি

মৈত্রী এক্সপ্রেসের ভিতর এক বাংলাদেশি নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা রবি মহাপাত্র। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্যকে আটকের কথা জানান তিনি। 

এসময় তিনি বলেন, ‘কলকাতা স্টেশন থেকে ‘এন্ড টু এন্ড’ ইমিগ্রেশনসহ যাবতীয় পরীক্ষার পরই ট্রেনটি বিএসএফ’এর আওতায় চলে যায়। যাত্রীরা ট্রেনের মধ্যে প্রবেশের পরই ট্রেনের দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ভারতের অংশে শেষ স্টেশন গেদে গিয়ে ট্রেনের দরজা খোলা হয়। ওই চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই বিএসএফ সদস্যের বিরুদ্ধে এক বাংলাদেশি নারীকে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। '

তিনি আরও জানান, 'আইন আইনের পথেই চলবে।'

জানা যায়, কলকাতার চিৎপুর স্টেশন থেকে সকাল ৭.১০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি ছেড়ে আসার পর দমদম ও ব্যারাকপুরের মাঝে ওই শ্লীলতাহানি ঘটনাটি ঘটে। ট্রেনের ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে নিজের আসনের দিকে আসার পথে অভিযুক্ত সদস্য ওই নারীর গায়ে অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে স্পর্শ ও আপত্তিকর ব্যবহার করছিলেন বলে অভিযোগ আসে। এসময় দুই জনের মধ্যে ধস্তাধস্তিতে ওই বাংলাদেশি নারী পড়ে যায় এবং হাঁটুতে সামান্য আঘাত পান। 

এরপরই ওই নারী বিষয়টি তার স্বামীকে জানান। পরে স্বামী ট্রেনের মধ্যেই টিকিট পরীক্ষক (টিটিই)-কে জানান কিন্তু ওই টিকিট পরীক্ষক তাকে লিখিত অভিযোগ জানাতে বলেন। সেইমতো গেদে স্টেশনে (ভারতীয় সীমানায় শেষ স্টেশন) নেমে স্টেশন মাস্টারের কাছে অভিযুক্ত সদস্যের বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৫৪ নম্বর ধারায় (মোলেস্টশন) লিখিত অভিযোগ জানান ওই নারী। অভিযোগের পরই মুহূর্তের মধ্যে সেই ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় যথেষ্ট শোরগোল পড়ে যায় রেল, বিএসএফ, জিআরপি সহ বিভিন্ন এজেন্সিগুলির মধ্যে। খোঁজ চলে অভিযুক্ত সেই সদস্যের। পরে রাতের দিকেই অভিযুক্তকে আটক করা হয়।

মৈত্রী এক্সপ্রেসই হল ভারতের মাটি থেকে ছাড়া প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রেন, যেটি সরাসরি অন্য রাষ্ট্রে গিয়ে পৌঁছায়। ২০০৮ সালের এপ্রিল-এ যাত্রা শুরুর পর থেকেই এই ট্রেনটি কলকাতা (চিৎপুর) স্টেশন থেকে ছেড়ে সোজা চলে যায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। সেদিক দিয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেসের একটা আলাদা গুরুত্ব আছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই রকম একটি ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নিরপত্তা নিয়ে যাত্রীরাও যথেষ্ট আতঙ্কিত। 

যদিও ‘মৈত্রী’র যাত্রীদের নিরপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বা বিপদের কোন সম্ভাবনা নেই বলে সমস্ত যাত্রীদের আশ্বস্ত করেছেন রবি মহাপাত্র। ওই ঘটনা ভারতের পক্ষে যে যথেষ্ট অস্বস্তিকর সেকথা স্বীকার করেই রেলের এই কর্মকর্তা জানান, ‘এতদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও কোন দিনই এরকম অভিযোগ আসেনি। গতকালই প্রথম এরকম একটি অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটল। বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে আর এই ধরনের ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করতে বিএসএফ-এর সাথেও কথা বলা হচ্ছে’।  

দুই দেশের মধ্যে ট্রেন বাড়ানো নিয়ে তিনি জানান, ‘বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দুইটি ট্রেন চলাচল করে। মৈত্রী আগে থেকেই চলছিল, গত বছর থেকে ‘বন্ধন’ এক্সপ্রেস যাতায়াত করছে। ভবিষ্যতে যদি চাহিদা থাকে তবে আরও নতুন ট্রেন বাড়ানোর ব্যাপারে বিবেচনা করা হতে পারে’। 


বিডি প্রতিদিন/২৩ জানুয়ারি ২০১৮/হিমেল

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow