Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২০:৪০ অনলাইন ভার্সন
রাত পোহালেই ত্রিপুরায় বিধানসভার ভোট
দীপক দেবনাথ, কলকাতা:
রাত পোহালেই ত্রিপুরায় বিধানসভার ভোট
প্রতীকী ছবি
bd-pratidin

রাত পোহালেই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭ টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ইতিমধ্যেই ভোটের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। ভোট কর্মীরাও ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বুথগুলিতে পৌঁছে গেছেন।

ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভার ৬০ আসনের মধ্যে ৫৯টি আসনে এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চড়িলাম (তফসিল উপজাতি সংরক্ষিত) কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী রমেন্দ্র নারায়ন দেব বর্মার মৃত্যুর কারণে ওই আসনটিতে ভোট নেওয়া হবে আগামী ১২ মার্চ। 

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২৫,৭৩,৪১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩,০৫,৩৭৫ এবং নারী ভোটার ১২,৬৮,০২৭ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১১ জন। মোট ৩১৭৪ টি বুথে ভোট গ্রহণ হবে। 

এদিকে ৬০ আসনের মধ্যে বামফ্রন্ট সবক'টি আসনেই তাদের প্রার্থী দিয়েছে (সিপিআইএম-৫৭, আরএসপি-১, ফরওয়ার্ড ব্লক-১, সিপিআই-১ টি আসন)। বিজেপি ৫১ টি আসনে ও তাদের জোট সঙ্গী ইন্ডিজিনাস পিপলস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরাকে (আইপিএফটি) ৯ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।  অন্যদিকে কংগ্রেস ৫৯ টি আসনে, তৃণমূল কংগ্রেস ২৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
 
এবারের নির্বাচনে মোট ৩০৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে ত্রিপুরার চতুর্থ বারের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, স্বাস্থ্য ও পূর্ত দফতরের মন্ত্রী বাদল চৌধুরী, উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী অঘোর দেববর্মা, সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক বিজন ধর, দলের মুখ্য প্রবক্তা গৌতম দাস, শিক্ষামন্ত্রী তপন চক্রবর্তী, বিদ্যুৎ মন্ত্রী মানিক দে, তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ভানুলাল সাহা। বিজেপির প্রতিমা ভৌমিক, রতন লাল নাথ, সুদীপ রায় বর্মন, সুরজিত দত্ত, আশিস কুমার সাহা, দিলীপ সরকার, সুবল ভৌমিক, প্রাণজিত সিং রায়। জাতীয় কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি ব্রিজিত সিনহা, কংগ্রেস বিধায়ক গোপাল রায়, সাবেক মন্ত্রী লক্ষী নাগ, ফণি লাল দেববর্মা। আইপিএফটি বৃষকেতু দেববর্মা, ধীরেন্দ্র দেববর্মা। ত্রিপুরা পিপলস পার্টি (টিপিপি)’এর অনন্ত উরং, প্রবীন সিংহ। তৃণমূল কংগ্রেসের সৌমেন মজুমদার, কৃষ্ণ কান্ত দেবনাথ প্রমুখ।

গত শুক্রবার বিকালে শেষ হয় নির্বাচনী প্রচারণা। শাসকদল সিপিআইএম থেকে শুরু করে বিরোধী কংগ্রেস, বিজেপি প্রতিটি দলই তাদের সাধ্যমতো প্রচারনা শেষ করেছে। গত প্রায় কয়েক সপ্তাহ ধরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী অরুন জেটলি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপি নেতা শাহনাওয়াজ হোসেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, অভিনেত্রী-মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, বলিউড অভিনেত্রী হেমা মালিনী, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেতা সিপি যোশী, সিপিআইএম’এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি, দলের নেত্রী বৃন্দা কারাট-রা ত্রিপুরায় উড়ে এসে নিজেদের দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণায় ঝড় তুলেছেন। মাটি কামড়ে প্রচারণায় ব্যস্ত থেকেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার সহ অন্য বাম নেতারাও। ভোট প্রচারে নজরকাড়া কভারেজে হাজির ছিলেন দেশটির জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও। 

তবে সিপিআইএম’এর এবারের লড়াইটা বিজেপি’র বিরুদ্ধে। গত বছরে কংগ্রেসের ছয় বিধায়ক দল পরিবর্তন করে বিজেপি’তে যোগ দেওয়ায় কংগ্রেস এখন ওই রাজ্যের সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে। 

২০১৮ ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচন সবদিক থেকেই ঐতিহাসিক হয়ে পড়েছে। কারণ এবারের ভোটে যেভাবে গোটা রাজ্যে নজিরবিহীন নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে সেটা অতীতের কোন নির্বাচনেই নেওয়া হয়নি। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষ্যে গোটা ত্রিপুরাকেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। প্রায় ৩০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্য পুলিশ ও ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (টিএসআর)-এর সদস্যরাও মোতায়েন থাকছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় নজরদারির পাশাপাশি আকাশপথেও নজরদারি করা হবে। যে কোন নাশকতা রুখতে বিভিন্ন হোটেল, লজ, রিসোর্টগুলিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। 

এছাড়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে যাতে অনুপ্রবেশসহ অন্য অপরাধ সংঘটিত না হয় তা নিশ্চিত করতে সিল করে দেওয়া হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত। সীমান্ত এলাকায় সজাগ দৃষ্টি রেখে চলেছে বিএসএফ সদস্যরাও। 

তবে পরিবর্তনের ডাকে ভর করে ত্রিপুরায় টানা ২৫ বছরের বাম যুগের অবসান হবে না কি ফের লালের ওপরেই ভরসা রাখবেন-তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৩ মার্চ ভোটের ফলাফলের দিকে। যদিও এবারও তারাই ক্ষমতা দখল করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সিপিআইএম।

বিডিপ্রতিদিন/ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮/ ই জাহান

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow