Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ৩ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:৪৩ অনলাইন ভার্সন
'বাবা, খুব কষ্ট হচ্ছে'
অনলাইন ডেস্ক
'বাবা, খুব কষ্ট হচ্ছে'
সংগৃহীত ছবি

বয়স হয়েছে। বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছে শরীর। বার্ধক্যজনিত একাধিক সমস্যা, সঙ্গে রোগ-বালাই। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এসবের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে ফের সুস্থ শরীরে প্রিয়জনদের মাঝে ফিরে যাওয়ার জন্য, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও ঘুম ভেঙে উঠে হাসপাতালের বিছানায় অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন তারা। 

কিন্তু হঠাই চারদিকে চিৎকার শুরু হয়। 'আগুন, আগুন'। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ফের তাড়া করা শুরু মৃত্যুভয়ের। দমকলকর্মীদের তত্পরতায় আগুনের করাল গ্রাস থেকে উদ্ধার পেয়েছেন ৪০০ জন রোগী। কিন্তু এখনও তাদের চোখেমুখে আতঙ্ক।

বুধবার সকাল ৮টার দিকে আগুন লাগে কলকাতা মেডিকেল কলেজে। কলেজের এমসিএইচ বিল্ডিংয়ের ওষুধের কাউন্টারে আগুন লাগে। 

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে দমকলের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। আগুন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন দমকলকর্মীরা। ঘণ্টা দু'য়েকের চেষ্টায় ভয়াবহ আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে। স্থানান্তরিত করা হয়েছে এমসিএইচ বিল্ডিংয়ের ৪০০ জন মুমূর্ষু রোগীকে। কাউকে নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। কাউকে অন্য বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই বহু মুমূর্ষু রোগীকে বিল্ডিং থেকে নিচে নামিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়। চাদর পেতে, প্লাস্টিক পেতে মাটিতে শুইয়ে রাখা হয় তাদের। অনেকেই তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ। অক্সিজেনের প্রয়োজন তাদের। কিন্তু খোলা আকাশের নিচে তখন অক্সিজেন কোথায়? 

কপালজোরে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন, সেটাই যথেষ্ট মনে করছেন। সন্তানতুল্য গণমাধ্যম কর্মীদের হাতের সামনে দেখে সে রকমই এক বয়স্ক রোগী বলেন, 'ঘরটা হঠাৎ ধোঁয়ায় ভরে গেল। তাড়াতাড়ি নামিয়ে আনল। কিন্তু অক্সিজেন তো নেই। বাবা, খুব কষ্ট হচ্ছে।'

আরেকজন রোগী জানান, আগুন লাগার সময় তিনি এম-১২ বিভাগে ভর্তি ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। তিনি হাসপাতালের বেডের উপর বসেছিলেন। কোথায় যাবেন, কী করবেন, কিছু বুঝতে পারছিলেন না। এমন সময়ই দমকল ও হাসপাতাল কর্মীরা এসে তাকে উদ্ধার করেন। কোলে করে নিচে নামিয়ে আনা হয় অসহায় রোগীদের। 

কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় জানান, বিল্ডিংয়ের নিচের ফার্মেসিতে হাসপাতালের সব রোগীদের সারা মাসের ওষুধ মজুদ থাকে। কিন্তু আগুনে এখন সব ওষুধই নষ্ট হয়ে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে।

বিডি প্রতিদিন/০৩ অক্টোবর ২০১৮/আরাফাত

আপনার মন্তব্য

up-arrow