Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৫:১৩ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৭:২৬
শ্রেণিকক্ষে 'চুমু' খাওয়ার অপরাধে ৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার
দীপক দেবনাথ, কলকাতা
শ্রেণিকক্ষে 'চুমু' খাওয়ার অপরাধে ৬ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় শ্রেণীকক্ষের মধ্যে সহপাঠী তিন ছাত্রীকে চুমু খাওয়ার ঘটনায় ৬ শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রীতিমতো উত্তাল জেলার শিবপুর বি.ই কলেজ মডেল স্কুল। 

ঘটনাটি ঘটেছে গত বছরের অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজার সময়। সে সময় শ্রেণীকক্ষের মধ্যেই নবম শ্রেণীর তিনজন ছাত্র ও তিনজন ছাত্রী একে অপরকে চুমু খায় বলে অভিযোগ। এ সময় অন্য সহপাঠীরা নিষেধ করলেও তা কানে দেয়নি তারা। এরপর অন্য শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পেয়েই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের ভিত্তিতে ক্লাসরুমের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়। অভিযুক্ত ছয় শিক্ষার্থীকেই তখন সাবধান করে দেওয়া হয়। সেই সাথে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও। অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে তাদের সেই ফুটেজও দেখানো হয়। কিন্তু স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষায় বসার সুযোগ করে দেওয়ার কারণেই সেসময় সেই শাস্তি কার্যকর করা হয়নি। গত ২৬ ডিসেম্বর ওই ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

অভিযুক্ত ওই ছয় শিক্ষার্থী পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে ইতিমধ্যেই দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। ইতিমধ্যেই চার শিক্ষার্থী অন্য স্কুলের ভর্তির সুযোগ পেলেও দুইজন এখনও কোনো স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি বলে খবর। সম্প্রতি সেই দুই শিক্ষার্থীর পরিবার এসে স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার সিদ্ধান্তের আবেদন জানান।

এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শুভাশিস দত্ত বুধবার জানান, ‘প্রত্যেক স্কুলেরই একটা নিয়মকানুন থাকে। তার বাইরে গিয়ে আমরা কোন কাজ করতে পারি না। শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি-তে ধারণকৃত ফুটেজ দেখানো হয় স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্যদের। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেন যে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের আর স্কুলে রাখা উচিত নয়। তবুও আমরা মানবিকতার খাতিরে অভিযুক্তদের নবম শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে দিই। সেই পরীক্ষায় ভালভাবে পাসও করে তারা। হিসাবমতো তারা এখন দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রী। এবার পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের আর স্কুলে রাখা সম্ভব নয়। আমরা তাদের টিসি দিয়ে অন্য স্কুলে যাতে ভর্তি হতে পারে সেই ব্যবস্থা করছি।’ 

তবে, স্কুল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে অভিভাবকদের অনেকেই ‘লঘু পাপে গুরুদণ্ড’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। তাদের একটি অংশের মতে, সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা, আর ঠিক তার আগে স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের 'টিসি' দেওয়াটা বিরাট বড় ভুল। একই অভিমত হাওড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) শান্তনু সিংহ। তিনি বলেন ‘এতটা কঠোর না হওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে আবেদন জানিয়েছেন। তবে তাতেও কোন ফল মেলেনি।’ 

তবে, স্কুল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে কার্যত সমর্থন করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়। বুধবার মন্ত্রী বলেন, ‘অভিযুক্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের জানিয়ে দিয়েছেন ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, সেখানে আমার কিছু করার নেই।’ 

বিডি-প্রতিদিন/২৩ জানুয়ারি, ২০১৯/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

up-arrow