Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৭:৫২
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৭:৫৭

কাশ্মীরের চিকিৎসককে কলকাতা ছাড়ার হুমকি

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

কাশ্মীরের চিকিৎসককে কলকাতা ছাড়ার হুমকি
ফাইল ছবি

গত ২২ বছর ধরে কলকাতার কুষ্টিয়া রোডে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন শ্রীনগরের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক। ডাক্তারি পাশের পর কলকাতার মেয়েকে বিয়ে করার পর এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তিনি। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ-এর গাড়িবহরে জঙ্গি হামলার পরই ওই চিকিসক পরিবারকে শহর ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

শহর না ছাড়লে তার ফল ভয়ানক হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। তবে রাজ্য সরকারের তরফে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়ায় আপাতত এরাজ্যেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৪২ বছর বয়সী ওই চিকিৎসক। 

জানা গেছে, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নিজের চেম্বার থেকে রাতে বাড়ি ফেরার পর ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচ-ছয় জন যুবক ওই চিকিৎসকের বাড়িতে আসেন এবং সেই মুহূর্তে তাকে পাকিস্তানে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়। এসময় তারা বলে কাশ্মীরিদের এদেশে কোনো জায়গা নেই।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই চিকিৎসক নিজেই জানান, ‘ওই যুবকরা আমাকে হেনস্থা করে এবং আমাকে হুমকি দেয়। প্রাথমিক ভাবে আমি তা অগ্রাহ্য করি কারণ গত ২২ বছরে এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়নি। কিন্তু  ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি যখন আমার কর্মক্ষেত্র হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলাম, আমি দেখলাম বাড়ির বাইরে ওই যুবকেরা অপেক্ষা করছে। তখন তারা ফের হুমকি দিয়ে বলে যদি আমি এই শহর না ছাড়ি আমার কন্যাকে কঠিন মূল্য দিতে হবে।’ 

চিকিৎসকের অভিমত দ্বিতীয়বারের হুমকি খুব জোরালো ছিল এবং তিনি শহর ছাড়ার মনস্থিরও করেন। যদিও শহর ছাড়ার আগে শেষ চেষ্টা হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হন তিনি। আর তাতেই সিদ্ধান্ত বদল। 

তিনি জানান, ‘আমি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে গোটা ঘটনাটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে জানানোর ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করি এবং ফেসবুকে কিছু পোস্টও করি। আমি মুখ্যমন্ত্রীর ফেসবুক পেজেও একটি বার্তা দিই।’ 

এরপর গতকাল রবিবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিশন (শিশু অধিকার রক্ষা কমিটি)-এর তরফে ওই চিকিৎসককে ফোন করে সহায়তার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়। 

এব্যাপারে কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী জানান, ‘ওই চিকিৎসকের ফেসবুক পোস্ট দেখে আমি নিজে তার সাথে ফোনে কথা বলি। আমি তাকে বলি উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, সবকিছুর দিকে নজর দেওয়া হবে। ওই পরিবারকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় থানার পুলিশ প্রতিনিয়ত ওই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ রাখছে।’ 

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টা ১৫মিনিটের দিকে পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে হামলা চালিয়ে ৪৪ জওয়ানকে হত্যা করে জঙ্গি গোষ্ঠী। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জইশ-ই-মোহাম্মদ। তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবারের হামলাকে সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলা বলা হচ্ছে।

 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য