Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৩:৩১
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৬:২৪

কলকাতার বাংলাদেশ দূতাবাসে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

কলকাতার বাংলাদেশ দূতাবাসে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন

যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস। এ উপলক্ষে  কলকাতাস্থত বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে এক গুচ্ছ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপ হাইকমিশন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ করা হয়। 

এরপর কলকাতার ৩, সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ’তে অবস্থিত বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্য কেন্দ্রর সামনে থেকে একটি  প্রভাতফেরি বের হয়। হাতে নানা বর্ণের পোস্টার, ফুলের মালা সহ প্রভাতফেরিতে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ছাড়াও অসংখ্য মানুষ অংশ নেয়। এরপর তারা কলকাতার পার্কসার্কাস সেভেন পয়েন্টে ক্রসিং-আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোড ধরে পৌঁছায় উপ হাইকমিশন প্রাঙ্গণ পর্যন্ত। পরে মিশন প্রাঙ্গনে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক দিয়ে সালাম-বরকতদের স্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানানো হয়। 

উপ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান, পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্র প্রমূখ।

আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস নিয়ে এক বাণী পাঠ ও আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয় মিশন প্রাঙ্গণে। এদিন বিকালে কলামন্দিরের কলাকুঞ্জ সভাগৃহে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

এই দিনের মাহাত্ম তুলে ধরে বিমান বসু জানান, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সারা বিশ্বে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে একটা উজ্জ্বল দিন। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি...’ এই কথা বাংলা ভাষী সমস্ত মানুষের মননে, চিন্তায় আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এই ভাষা আন্দোলনের উৎপত্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, অধ্যাপক, গবেষক-যা সারা পূর্ব পাকিস্তানে বিস্তারিত হয়ে এক অগ্নিগর্ভ আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিল।’

তার অভিমত, ভাষা স্বাধীকারের প্রশ্ন যে কত বড় মাহাত্ম্যপূর্ণ বিষয় হতে পারে-তা বিশ্বের ইতিহাসে স্বাক্ষ্য বহন করছে বর্তমান বাংলাদেশ গড়ে ওঠার ঐতিহাসিক প্রেক্ষপট বিচার বিশ্লেষণের মধ্যে দিয়ে।’ 

উপ হাইকমিশনার তৌফিক হাসান বলেন, ‘এই দিনটি প্রতিটি বাঙালির জন্য অবিস্মরণীয় ঘটনা। কারণ এই বাংলা ভাষার জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার প্রধান উদ্দেশ্যই হল যে ভাষার প্রতি যে আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধা তা প্রদর্শন করা এবং বিশ্বে যে সমস্ত লুপ্তপ্রায় ভাষা রয়েছে সেগুলিকে সংরক্ষণ করার ব্যাপারে উদ্যোগী হওয়া। স্বাভাবিক ভাবেই এর একটি তাৎপর্য আছে।’  

বাংলাদেশ মিশন ছাড়াও কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের জেলা ও মহুকুমাগুলিতেও যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে এই দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে কলকাতায় সারারাত ব্যাপী অনুষ্ঠান করেছে ভাষা ও চেতনা সমিতি। 

বুধবার বিকাল থেকে কলকাতার রবীন্দ্রসদন লাগোয়া ‘একাডেমী অব ফাইন আর্টস’এর সামনে ছাতিম তলায় শুরু হয় বাংলা ভাষা উৎসব। বৃহস্পতিবার ভোরে প্রভাতফেরির মধ্যে দিয়ে তা শেষ হয়। সারা রাত ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে নাটক, বাউল, লোকউৎসব অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১২ টায় হয় মশাল মিছিল। উৎসবে যোগ দেন বাংলাদেশ, আসাম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের প্রায় দুই শতাধিক শিল্পী। 

ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের জিরো পয়েন্টে ‘দুই বাংলা মৈত্রী সমিতি’র তরফে ভাষা শহীদ দিবস পালন করা হচ্ছে। একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে আন্তর্জাতিক সীমান্তে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। 

শান্তি নিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়েও এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ভবনে অস্থায়ী ‘শহীদ মিনার’ তৈরি করে সেখানে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনের কাউন্সেলর শাহনাজ আখতার রানু এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এছাড়াও এদিন ধর্মতলায় ২১শে উদ্যান শহীদ স্মারক এবং দেশপ্রিয় পার্কের ভাষা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। 


বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য