Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ এপ্রিল, ২০১৫ ০০:০০
ডরপ ও কালের কণ্ঠের গোলটেবিল
পানিকে সম্পদ বিবেচনায় বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে

বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য দূরীকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু প্রতি মুহূর্তে যে উপাদানটি দরকার, সেই অপরিহার্য পানির অধিকার এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এখনো সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে। এ খাতের বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তাই পানিকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে সংকট মোকাবিলায় এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পানিসম্পদের উন্নয়নে বাজেটে বিপুল অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। গতকাল রাজধানীর বারিধারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার মিলনায়তনে দৈনিক কালের কণ্ঠ ও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডরপ)-এর উদ্যোগে ‘বাজেট এবং পানি অধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. এখলাসুর রহমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব শামসউদ্দিন আহমদ, পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম-প্রধান নকিব বিন মাহমুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডরপের চেয়ারম্যান আজহার আলী তালুকদার। এ ছাড়া কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামালসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইএসএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মাহফুজ কবীর বলেন, পানি শুধু মানুষের নয়, প্রতিটি প্রাণীর জীবন-ধারণের অপরিহার্য উপাদান। সমাজে পানির বহুমুখী ব্যবহার হয়ে থাকে। সরকারের মূল বাজেটের মাত্র তিন শতাংশ পানির জন্য বরাদ্দ থাকে। প্রয়োজনের তুলনায় এটি অনেক কম। তাই বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এ ছাড়া শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষের জন্য সুপেয় পানির জোগান বাড়াতেও বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি পানির অপচয়রোধে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো বড় কথা নয়, বড় কথা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন হওয়া এবং পানির অপচয় রোধ করা। অনেকে বলেছেন, গ্রামাঞ্চলে মানুষদের টিউবওয়েল ফ্রি করে দিতে। কিন্তু কথা হলো মাত্র পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে যারা সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে না পারবে তারা জীবন নিয়ে সচেতন নয়, এটা বলতে হবে। কারণ একটি টিউবওয়েলের মাধ্যমে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে পারলে শুধু একটি পরিবার নয়, কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে। এ ছাড়া পানির অপচয় রোধে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নদীগুলোকে রক্ষা করতে হবে। বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যায় কিনা সেটাও ভাবা হচ্ছে। তিনি বলেন, শত বাধাসত্ত্বেও বাংলাদেশ ছয় বছর ধরে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে- যা বিস্ময়কর। ড. জাফর আহমেদ খান বলেন, এ ধরনের গোলটেবিল আলোচনায় অনেক বিষয় মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরা হলে জাতি উপকৃত হবে। সরকারও বিষয়গুলো নিয়ে পরিকল্পনা করতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আন্তরিক। ড. জাফর বলেন, ঢাকার আশপাশের যে চারটি নদী আছে তা আমাদের ভাগ্য। সরকার জনগণের উন্নয়নে অনেক কিছু করেছে। পানিসম্পদ নিয়েও সরকারের অনেক ভাবনা রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow