Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০
টালমাটাল বরিশালের রাজনীতি
নেতৃত্বের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ
টালমাটাল বরিশালের রাজনীতি

২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল মহানগর সভাপতি ও সদর আসনের এমপি সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরণের মৃত্যুর পর থেকে কার্যত বিভক্ত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ। আগে এক কাতারে থাকলেও নেতৃত্বশূন্যতার কারণে হিরণ-পরবর্তীকালে নেতা-কর্মীদের আগলে রাখতে না পারায় অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বড় ছেলে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সাদিক আবদুল্লাহর ছায়াতলে।

একসময় যারা দিনরাত হিরণের হাতকে শক্তিশালী করেছেন, সেই নেতাদের অনেকেই এখন ভিড় করছেন সাদিক আবদুল্লাহর কালিবাড়ী রোডের বাসভবনে। অবশ্য মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজালুল করিমের মতে, সাদিক কেন্দ ীয় যুবলীগের সদস্য। তিনি সাবেক চিফ হুইপ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে-শুধু এই পরিচয়ের কারণে, একসময় যারা প্রয়াত হিরণের কাছ থেকে মধু খেয়েছেন তাদের নিয়ে তিনি রাজনীতির নামে মহানগর আওয়ামী লীগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। এর বাইরে তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের কেউ নন।
তবে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ‘আগে মহানগর আওয়ামী লীগ বিভক্ত ছিল। হিরণ কাকার মৃত্যুর পর ৩০ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ও সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে রেজুলেশন দিয়েছেন। সেখানে তারা আমাকে নেতৃত্বে চাইছেন। ’ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম বলেন, ‘মহানগর আওয়ামী ঐক্যবদ্ধ। সাবেক মেয়র হিরণ ভাইয়ে মৃত্যুর পর সাময়িক নেতৃত্বের শূন্যতা সৃষ্টি হলেও পরবর্তী সময়ে তার সহধর্মিণী জেবুন্নেছা আফরোজ এমপিকে সামনে রেখে এগিয়ে চলছে আওয়ামী লীগ। ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত কমিটির পূর্ণাঙ্গ আকার কেন্দে  জমা দেওয়া আছে। ’ এই কমিটি পাস হলে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে আরও গতি আসবে বলে আশা করেন তিনি। সাদিক আবদুল্লাহর মতে, তাদের কমিটির মেয়াদ প্রায় শেষ। মহানগর আওয়ামী লীগের ৩০টি ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য তাকে এখানকার নেতৃত্বে পেতে চান। কোনো পদ প্রত্যাশা করছেন কি না এমন প্রশ্নে সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, আগামী সম্মেলনে দলের নেতা-কর্মীরাই ঠিক করবেন তিনি কোন পদের যোগ্য। জাতীয় ও কেন্দ ীয় কর্মসূচি ছাড়া বরিশালে আওয়ামী লীগের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই বলে স্বীকার করেছেন দুই নেতা। একই দিন অর্থাৎ ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপিকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস এমপিকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি এখনো।
সভাপতি হাসানাত এমপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঝেমধ্যে বরিশাল এলেও সভা ছাড়া তাকে তেমন একটা কাছে না পাওয়ার আক্ষেপ আছে তার ভক্ত-অনুরাগীদের। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে সম্পাদক ইউনুস ঢাকায় চিকিৎসাধীন অনেক দিন ধরে। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় আশাহত নেতা-কর্মীরা। এখানে গ্রুপিং না থাকলেও ভেতরে ভেতরে বিভাজন আছে বলে মনে করেন দলের অনেক নেতা-কর্মী। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউনুস এমপি বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি সবার প্রত্যাশা। শিগগিরই হয়ে যাবে। জেলা আওয়ামী লীগে কোনো বিভাজন বা গ্রুপিং নেই বলে তার দাবি। আওয়ামী লীগের মতো যবুথবু অবস্থা যুবলীগেও। ২৪ বছর আগে গঠিত জেলা যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম শাহিনের বয়স হয়ে গেছে। জেলা যুবলীগের তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। ১৯৯৬ সালে গঠিত মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম এখন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দৌড়ে রয়েছেন। যুগ্ম-আহ্বায়ক তিনজনের মধ্যে মেজবাউদ্দিন জুয়েল ও শাহিন সিকদার নিষ্ক্রিয়। বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী হওয়ায় অপর যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন মূল স্রোতের বাইরে। ১৯৯২ সালে জগলুল হায়দার শাহিনকে সভাপতি ও মনিরুল ইসলাম মনিরকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং ২০০৬ সালে আজিজুর রহমান শাহিনকে আহ্বায়ক ও অপর দুজনকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে গঠিত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের অস্তিত্ব কেবল বিশেষ বিশেষ দিনে ফুল দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ২০১১ সালের ৯ জুলাই সুমন সেরনিয়াবাতকে সভাপতি ও আবদুর রাজ্জাককে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়েছে বছরখানেক আগে। একই দিন জসিমউদ্দিনকে সভাপতি ও অসীম দেওয়ানকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি আজও। জেলা সভাপতি বাদে ছাত্রলীগের অন্যরা ব্যস্ত টেন্ডারবাজিতে। বছর পাঁচেক আগে সাইফুল আলম গিয়াসকে সভাপতি ও শেখ মিজানকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কৃষক লীগও ফুলের তোড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। মহানগরীতে কৃষক লীগের কমিটি নেই। মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগের কমিটি থাকলেও নেই কার্যক্রম।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow