Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০
দুই দলের বাইরে ভালো নেই কেউ

বরিশালে আওয়ামী লীগ, বিএনপির বাইরে চরমোনাই পীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আর জাতীয় পার্টি ছাড়া জনসমাগম করার ক্ষমতা নেই কারও। যদিও বিভক্তির কারণে জাতীয় পার্টি এখন নিঃশেষের দিকে।

জামায়াতে ইসলামীর কিছুটা সাংগঠনিক শক্তি থাকলেও সরকারের মামলা-হামলার কারণে এখন মাঠে দাঁড়ানোর অবস্থা নেই।
দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, কাউন্সিল ও বিভিন্ন জাতীয় দিবসে ফুল দেওয়া ছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদ, বাসদের তেমন কোনো তৎপরতা নেই। খেলাফত মজলিশ, ইসলামী ঐক্যজোট, সাম্যবাদী দল, ন্যাপ, গণফোরাম, এনপিপি, জেপি (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু), বিজেপি (নাজিউর রহমান মঞ্জু), জাগপা ও ডেএসডির কাগুজে কমিটি থাকলেও বাস্তবে তাদের খুঁজে পাওয়া ভার। এ ছাড়া বিএনএফ, এলডিপি ও কল্যাণ পার্টির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। চরমোনাইর মরহুম পীর সাহেব ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা হওয়ায় বরিশালে মোটামুটি অবস্থান আছে ধর্মভিত্তিক এই দলটির। জেলা ও মহানগরে রয়েছে শক্তিশালী কমিটি রয়েছে ইসলামী আন্দোলন ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের। তবে কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টেকার মতো ভোটব্যাংক নেই তাদের। কিন্তু স্বল্প সময়ের নোটিশে বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক লোক সমাগম করার সামর্থ্য আছে তাদের। ধর্মভিত্তিক এই দলটির অভ্যন্তরে বিভাজন দেখা যায়নি এখনো।
কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের অযোগ্যতায় বাঘা বাঘা অনেক নেতা দল ত্যাগ করায় বরিশালে অনেকটাই দুর্বল সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি। এর মধ্যেও এখানে দলকে আগলে রেখেছিলেন বরিশালের জনপ্রিয় শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মহসিন-উল ইসলাম হাবুল। কিন্তু এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে বাদ দিয়ে জিয়াউদ্দিন বাবলুকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে একেবারে কোণঠাসা জেলার সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ হাবুল এবং মহানগরের সাবেক সভাপতি মীর জসিমউদ্দিন ও তাদের অনুসারীরা। শুধু রুহুল আমিন হাওলাদারের অনুসারী হওয়ায় গেল মাসে এরশাদের উপস্থিতিতে দলের কাউন্সিলে জসিমকে বাদ দিয়ে মহানগর জাতীয় পার্টির দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মোর্তুজা আবেদীনের হাতে। জেলায় নতুন কমিটি না হলেও ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুকে আহ্বায়ক করে গেল বছর গঠন করা হয় জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি। এ দলের সহযোগী সংগঠন যুবসংহতি, জাতীয় ছাত্রসমাজ ও জাতীয় শ্রমিক পার্টির কোনো কার্যক্রম নেই।
সরকারের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশালে একজন এমপি থাকায় সাংগঠনিক একটা ভিত আছে এই দলের। শওকত হোসেন নীলুকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট শেখ টিপু সুলতান এমপিকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির কমিটি গঠিত হয় গত বছর ১৪ মার্চ। মহানগরে এ দলের কোনো কমিটি নেই। সহযোগী সংগঠনের কমিটি থাকলেও তা দৃশ্যমান নয়। সরকারের আরেক শরিক জাসদের অবস্থা বরিশালে একেবারেই শোচনীয়। শহীদুল ইসলাম মিরনকে সভাপতি, অ্যাডভোকেট আবদুল হাই মাহবুবকে সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বাদলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে জেলা জাসদের সব শেষ কমিটি হয় ২০১১ সালে। স্থানীয় সরকারে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে বরিশালে দীর্ঘদিন এ দলের প্রতিনিধিত্ব করা বাদল বিগত উপজেলা নির্বাচনে সরকারের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের কাছে বিতর্কিত পরাজয়ের পর থেকে রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। মহানগরে মজিবুর রহমানকে সভাপতি ও ইকবাল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠিত হলেও বরিশালে এ দলের সাংগঠনিক তৎপরতা নেই। স্থানীয়ভাবে জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট অনেক আন্দোলনে পাশে থাকেন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ। এ সুবাদে তাকে সভাপতি ও অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে চার বছর মেয়াদি জেলা কমিটি গঠিত হয় দুই বছর আগে। মোসলেম সিকদারকে সভাপতি ও অধ্যক্ষ দুলাল চন্দ্র মজুমদারকে সাধারণ সম্পাদক করে দলের মহানগর কমিটি গঠিত হয় ২০১৪ সালে। জেলা সংগঠক ডা. মণীষা চক্রবর্তীর জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের কারণে বরিশালে কিছুটা পরিচিতি পেয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি বরিশালে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow