Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৩১ মে, ২০১৬ ২৩:৩২
সুন্দরবনে মাস্টার বাহিনীর আত্মসমর্পণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি
সুন্দরবনে মাস্টার বাহিনীর আত্মসমর্পণ

আত্মসমর্পণ করেছে সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু মাস্টার বাহিনী প্রধান মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টারসহ ১০ বনদস্যু। গতকাল বিকালে বাগেরহাটের মংলায় বিএফডিসির জেটিতে ৫২টি বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫ হাজার রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বনদস্যু আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুন্দরবনের অন্যান্য বনদস্যু বাহিনীগুলোকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে তারাও এই সুযোগ পাবেন। তবে দস্যুতা চালিয়ে যেতে থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বনদস্যুদের গডফাদারদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। সুন্দরবনসহ উপকূলের জেলে-বনজীবী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত জিরো টলারেন্সের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, দস্যু দমনে এই এলাকায় র‌্যাব ও কোস্টগার্ডের শক্তি বাড়ানো হয়েছে। তাদের তত্পরতার ফলে সুন্দরবনে টিকতে না পেরে বনদস্যুরা এখন আত্মসমর্পণ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোস্টগার্ডের জন্য ইতালি থেকে ৪টি নতুন টহল জাহাজ কেনা হয়েছে। সহসাই ওইসব জাহাজ কোস্টগার্ডের বহরে যুক্ত হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করে সুন্দরবনসহ উপকূলে টহল জোরদার করা হচ্ছে। সুন্দরবনসহ উপকূল দস্যু মুক্ত করে পর্যটক ও জেলে-বনজীবীদের চলাচল নিরাপদ করা হবে। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, র?্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (গোয়েন্দা) কর্নেল আনোয়ার হোসেন, পুলিশের খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মনিরুজ্জামান, র‌্যাব-৮ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফরিদুল আলম, র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশ সুপার মো. নিজামুল হক মোল্যা প্রমুখ। এর আগে গত রবিবার ভোর ৬টায় আত্মসমর্পণের সুযোগ নিতে মাস্টার বাহিনীর প্রধানসহ ৭ বনদস্যু বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের চরাপুটিয়া খালে এসে তাদের ব্যবহূত ৫১টি বিভিন্ন ধরনের দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদসহ র‌্যাব-৮ এর কাছে আত্মসমর্পণ করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মংলার ওই দিনের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে আসতে না পারায় দুপুরে তা স্থগিত করে দেয় র‌্যাব। আত্মসমর্পণকৃত বনদস্যুরা হলো বাগেরহাটের মংলা উপজেলার মিঠাখালী এলাকার আবদুল লতিফ শেখের ছেলে বনদস্যু মাস্টার বাহিনী প্রধান মো. মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টার, রামপাল উপজেলার বড় কাঁঠালিয়া এলাকার ইউসুফ আকনের ছেলে মাস্টার বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড সোহাগ আকন. মংলা উপজেলার মিঠাখালী এলাকার ইসমাইল খানের ছেলে  মো. সুলতান খান, একই এলাকার আহাদ আলী শেখের ছেলে মো. ফজলু শেখ, রামপাল উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের সফরুল শেখের ছেলে সোলাইয়াম শেখ, খুলনার দাকোপ উপজেলার মো. মোতালেব শেখের ছেলে শাহীন শেখ, সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার মোনাগাছার নুরুল ইসলাম সরদারের ছেলে সুমন সরদার, মো. হারুন, মো. আরিফ সরদার ও আসাদুল ইসলাম কোকিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে দাপিয়ে বেড়ানো বনদস্যু মোস্তফা শেখের নেতৃত্বে মাস্টার বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্নভাবে আত্মসমর্পণের সুযোগ খুঁজছে, এমন খবরের ভিত্তিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা দল তত্পরতা শুরু করে। এক পর্যায়ে মাস্টার বাহিনীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে র‌্যাবের কাছে নিশ্চয়তা চায়। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র-গোলাবারুদ তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করল মাস্টার বাহিনী প্রধানসহ ১০ বনদস্যু। এদিকে সুন্দরবনের আন্ডারওয়ার্ল্ভ্র সম্পর্কে হাল নাগাদ খোঁজখবর রাখেন এমন একাধিক সূত্র সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণকৃত মাস্টার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সুন্দরবনের এলাকাগুলো গত দু-তিন দিনে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। মাস্টার বাহিনীর আত্মসমর্পণ না করা সদস্যরাও জাহাঙ্গীর বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। এতে করে জাহাঙ্গীর বাহিনী এখন সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় বাহিনীতে রূপ নিয়েছে।




up-arrow