Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৩১ মে, ২০১৬ ২৩:৩৮
চার ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড
শিশু রবিউল ও শুক্কুর হত্যা
প্রতিদিন ডেস্ক

নেত্রকোনায় শিশু মো. শুক্কুর আলীকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে ৩ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত। এদিকে, বরগুনায় শিশু রবিউল হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি মিরাজের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বরগুনা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর— নেত্রকোনা : কেন্দুয়ায় ১২ বছরের শিশু মো. শুক্কুর আলীকে অপহরণ করে মুক্তিপণের দাবিতে হত্যার দায়ে ৩ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়াও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। গতকাল বেলা ১টার দিকে ৩ আসামির মধ্যে দুজনের উপস্থিতিতে বিচারক ড. কে এম আবুল কাশেম এ রায় দেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, কেন্দুয়া উপজেলার চিটুয়া নওয়াপাড়া গ্রামের মো. কাঞ্চন খানের ছেলে মো. শামীম খান ও আ. সালামের ছেলে মো. সোহাগ এবং তারাকান্দি রাজিবপুর গ্রামের সলতু মিয়ার ছেলে পলাতক মো. শরিফুজ্জামান ওরফে হুমায়ূন। আদালত সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৯ জুন কেন্দুয়ার চিটুয়া নওয়াপাড়া গ্রামের মো. ফারুক ভুইয়ার ছেলে শিশু শুক্কুর আলী বাজারে ঔষুধ আনতে গেলে আসামিরা তাকে অপহরণ করে। ১২ জুন কেন্দুয়া থানায় শিশুর বাবা একটি জিডি করেন। ২৫ জুন বাদীর মোবাইল ফোনে     ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি বিকাশ নম্বর পাঠায় অপহরণকারীরা। পুলিশ মোবাইল ফোন ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে আসামিদের ধরে তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী সুতি নদীর তলদেশ থেকে ১ জুলাই শুক্কুর আলীর মাথা, হাত, ১৪টি পাঁজরের হাড়, পরনের কালো হাফপ্যান্ট উদ্ধার করে। ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক এ রায় প্রদান করেন।

বরগুনা : বরগুনায় শিশু রবিউল হত্যা মামলায় একমাত্র আসামি মিরাজের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। গতকাল দুপুর ১২টায় বিচারক মো. আবু তাহের এ রায় দেন। বিচারক আবু তাহের মামলার লিখিত রায়ে বলেন, রবিউল হত্যা মামলায় আসামি মিরাজকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং লাশ গোপন করার অভিযোগে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেয় আদালত। রায়ে মিরাজের পরিবারের সদস্য বাবা, নানী, ভাই এবং স্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে জরিমানা আদায় করে বাদী রবিউলের বাবা দুলাল মৃধাকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি আক্তারুজ্জামান বাহাদুর বলেন, আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ায় আমরা খুশি। আসামি পক্ষের আইনজীবী আবদুর রহমান নান্টু বলেন, আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। গত বছর ৩ আগস্ট রাতে মাছ ধরার জাল চুরির অভিযোগে তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ছোট আমখোলা গ্রামের ১১ বছরের শিশু রবিউলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন ৪ আগস্ট বিকালে লকরার খালে রবিউলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচ আগস্ট রবিউলের বাবা দুলাল মৃধা বাদী হয়ে তালতলী থানায় মিরাজকে প্রধান আসামিসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। শিশু রবিউলের বাবা মো. দুলাল মৃধা বলেন, এ রায়ে আমি খুশি। 




up-arrow