Bangladesh Pratidin

ফোকাস

  • ফুটবল বিশ্বকাপে বিদেশি পতাকা উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টে রিট
  • নারায়ণগঞ্জে পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
  • নাশকতার দুই মামলায় খালেদা জিয়ার ৬ মাসের জামিন, মানহানির মামলায় খারিজ
  • রাঙামাটিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ৩ ইউপিডিএফ কর্মী নিহত
প্রকাশ : বুধবার, ১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩১ মে, ২০১৬ ২৩:৪৩
চট্টগ্রামে অচিন বাবার কবর ঘিরে রহস্য, নানা কাণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

বিশ্বজিৎ বড়ুয়া বাবুল। রাউজান উপজেলার রমজান আলী হাট এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বড়ুয়া বাবুল ২৫ বছর আগে সপরিবারে পাড়ি জমান আমেরিকায়। কিডনি রোগে এ বছর এপ্রিলে তিনি মারা যান। বিশ্বজিতের মরদেহ দেশে এনে সব ধর্মের রীতি অনুসরণ করে হাটহাজারীর দক্ষিণ পাহাড়তলীতে সমাধিস্থ করা হয়। মৃত্যুর পর বিশ্বজিৎ বড়ুয়া হয়ে গেলেন সব ধর্মের আধ্যাত্মিক গুরু! তার নাম দেওয়া হয় ‘অচিন বাবা’। সর্বত্র প্রচার করা হয়— এই আধ্যাত্মিক গুরুর মাজারে প্রার্থনা করলে পূরণ হবে মনের সব আশা! কথিত এ আধ্যাত্মিক গুরুর অনুসারীদের কর্মকাণ্ডে ফুঁসে উঠেছেন চট্টগ্রামের মুসলিম, বৌদ্ধসহ অন্য ধর্মাবলম্বীরাও। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কথিত অচিন বাবার কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যভাষা বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু বলেন, ‘কোনো গুরুর অনুসারী একসঙ্গে সব ধর্মের রীতি অনুসরণ করতে পারেন না। সব ধর্মের রীতি অনুসরণ করা কোনো ধর্ম সমর্থন করে না।’ বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব এম এ মতিন বলেন, ‘অচিন বাবার কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ওলি ও পীরদের সঙ্গে বেআদবির শামিল। অচিন বাবার সমাধিতে কর্মকাণ্ড প্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।’

সমাধি ঘিরে বিতর্ক : আমেরিকা থেকে বিশ্বজিৎ বড়ুয়ার লাশ চট্টগ্রামে আনার পর ১৩ মে সকালে নগরীর নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা তাকে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বেলা ১১টার দিকে তার কফিন নিয়ে যাওয়া হয় হাটহাজারীর দক্ষিণ পাহাড়তলীর ব্রাহ্মণপাড়ায়। সাড়ে ১১টার দিকে মাওলানা আবু সুফিয়ান তার নামাজে জানাজার জন্য আহ্বান করেন। জানাজা চলার সময় হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা উচ্চৈঃস্বরে উলুধ্বনি দিতে থাকেন। নামাজ চলার সময় উলুধ্বনি দেওয়ার ঘটনা সবাইকে হতবাক ও বিব্রত করেছে। পরে তাকে মুসলিম, হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে সমাধিস্থ করা হয়। মাজারের মতো সমাধিস্থলে নীল রঙের ঘর তৈরি করা হয়। সমাধিস্থলে মুসলিম, হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মাবলম্বী মানুষের জন্য আলাদা প্রার্থনার ঘর তৈরি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে এ সমাধি ঘিরে তৈরি হয়েছে ২০-২৫ জনের একটি সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কথিত অচিন বাবার ছোট ভাই টিকলু বড়ুয়া ওরফে ছোট বাবা।

কে এই অচিন বাবা : অচিন বাবা হয়ে পড়া ব্যক্তির নাম বিশ্বজিৎ বড়ুয়া ওরফে বাবুল। জন্ম ১৯৫৮ সালে রাউজান উপজেলার মুহাম্মদপুর গ্রামের রমজান আলী হাটের বড়ুয়াপাড়ায়। পিতা মানিক বড়ুয়া ও মাতা মঞ্জুশ্রী বড়ুয়া। আশির দশকের শুরুতে জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিশ্বজিৎ। কথিত রয়েছে, তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করে মোহাম্মদ হক নাম ধারণ করেন। ১৯৯০ সালে আমেরিকা পাড়ি জমান। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে তিনি কিডনি রোগে ভুগে গত ২৩ এপ্রিল মারা যান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow