Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ জুন, ২০১৬ ০১:২৯
বাড়ি বানাতে জমি ও টাকা পেল বৃক্ষমানব
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরল রোগে আক্রান্ত বৃক্ষমানব আবুল বাজনদারকে জমি কেনা ও বাড়ি তৈরির জন্য ছয় লাখ টাকার চেক দিলেন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এম ইউ কবির চৌধুরী। গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে অনুদান হিসেবে আবুলের হাতে এ চেক হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বার্ন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম, সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেনসহ আবুলের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রতি আবুলের গ্রামের বাড়িতে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের তিন কাঠা জমি কিনে দিয়েছেন কবির চৌধুরী। একই সঙ্গে ঘর তৈরি ও আসবাবপত্র কেনার জন্য আরও ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। সর্বমোট ৬ লাখ টাকা বাজানদারকে অনুদান হিসেবে দেন তিনি। আবুল বাজনদার বলেন, একদিকে আমি সুস্থ হওয়ার পথে, অন্যদিকে নতুন জমি ও ঘর পেলাম। সুস্থ হয়ে আমি ওই খানেই থাকব। আমি খুবই আনন্দিত। যা ভাষায় প্রকাশের মতো না। যতদিন বেঁচে থাকব সবার কাছে ঋণী হয়ে থাকব। আবুলের স্ত্রী হালিমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী সুস্থ হচ্ছে, মাথা গোঁজার ঠাঁই পাচ্ছি। খুব ভালো লাগছে। বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. নুরুন্নাহার লতা বলেন, আবুলের চিকিত্সায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে কবির চৌধুরীও একজন। আশা করি আবুল দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। গতকাল তার দুই হাতে ও দুই পায়ে ড্রেসিং সম্পন্ন হয়েছে। হাত-পায়ের অবস্থা বেশ ভালো। খুলনার পাইকগাছা থানার সরল গ্রামের আবুল বাজনদার ৩০ জানুয়ারি বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন। পরে আবুলের চিকিত্সায় ৯ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ২০ ফেব্রুয়ারি আবুলের ডান হাতের পাঁচটি আঙ্গুলে গাছের মতো গজিয়ে ওঠা বর্ধিত অংশ এবং ১৯ মার্চ তার বাম হাতের পাঁচটি আঙ্গুলের বর্ধিত অংশ ফেলে দেওয়া হয়।

৩০ এপ্রিল আবুলের দুই পায়ের বর্ধিত অংশ ফেলে দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, এ পর্যন্ত আবুলের হাতে ও পায়ে একাধিকবার ড্রেসিং করা হয়েছে। বর্তমানে তার দুই হাত, দুই পা ও শরীরের সৌন্দর্যের কাজ চলছে। আশা করছি আবুল দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বিশ্বের চতুর্থ বৃক্ষমানব আবুল বাজনদার সুস্থ হলে চিকিত্সায় সাফল্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য তা হবে একটি মাইলফলক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow