Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ জুন, ২০১৬ ২৩:১৫
ইউরোপে ভুয়া কাগজে মানব পাচারে ‘বাংলাদেশি চক্র’
প্রতিদিন ডেস্ক

ইউরোপে ঢোকার ভুয়া কাগজ তৈরি করে বিক্রিতে জড়িত থাকার অপরাধে ১৯ জনকে গ্রিস ও চেক প্রজাতন্ত্রে গ্রেফতার করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পুলিশ। খোঁজা হচ্ছে আরও প্রায় ১০০ জনকে।

মঙ্গলবার গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন। তবে এ সংখ্যা কত তা নিশ্চিত করেনি সংস্থাটি। খবর  বিবিসির। ইউরোপোলের দাবি, এথেন্স-ভিত্তিক দুটি চক্র জড়িত, যাদের একটি বাংলাদেশিরা চালায়। ইইউর জাল পাসপোর্ট ও ভিসা তৈরি করে প্রতিটি তিন হাজার ৬০০ ডলার পর্যন্ত বিক্রি করে এসব চক্র। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এসব জাল কাগজপত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়। ইউরোপোল বলছে, বাংলাদেশিদের চক্রটি গত বছর কুরিয়ারে এসব কাগজপত্রের অন্তত ১২৬টি চালান পাঠিয়েছে। জালিয়াতিতে জড়িত অন্য চক্রটি সুদানিদের জানিয়ে ইউরোপোল জানায়, গত বছর তারা কুরিয়ারে পাঠিয়েছে ৪৩১টি চালান। এই অপরাধীরা বিভিন্ন সীমান্তে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত বলে গ্রিস পুলিশের ভাষ্য। এথেন্স থেকে এই চক্রের ১৬ জন এবং চেক রিপাবলিক থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ইউরোপোল জানিয়েছে। আর জাল কাগজ ব্যবহারে চেক রিপাবলিকে আরও সাতজনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে বিবিসি। গ্রিস ও অন্যান্য দেশে এসব কাজে জড়িত আরও প্রায় ১০০ জনকে এখনো খোঁজা হচ্ছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়। এথেন্স-ভিত্তিক দুটি জালিয়াত চক্র পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, শেনজেন ভিসা (ইউরোপের ২৬টি দেশে অবাধে চলাচলের অনুমতিপত্র), ড্রাইভিং লাইসেন্স, শরণার্থীদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও রেসিডেন্স পারমিট জাল করে বলে গ্রিস পুলিশ জানায়। এ দুটি চক্রের পাশাপাশি চেক প্রজাতন্ত্রে আরেকটি চক্র সক্রিয় থাকার কথা জানিয়ে ইউরোপোল বলেছে, ওই চক্রটি চুরি হওয়া বা হারিয়ে যাওয়া পরিচয়পত্র ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত কাগজপত্র কিনত। তারপর এথেন্সের ওই চক্রগুলোর কাছে সেগুলো পাঠালে তারা তাতে ঘষামাজা করে মক্কেলদের ব্যবহারের উপযোগী করে ফেরত পাঠাত। এরপর চেক প্রজাতন্ত্র থেকে কুরিয়ারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে তা পাঠানো হতো।

চেক প্রজাতন্ত্রের এই সংঘবদ্ধ চক্রটি ভুয়া শেনজেন ভিসা তৈরিতেও জড়িত বলে ইউরোপোল জানিয়েছে। ২৫ মে গ্রিসে জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে এ অভিযান পরিচালিত হয়। বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দাতথ্য বিশ্লেষণের জন্য এথেন্সে একটি মোবাইল অফিস বসায় ইউরোপোল। এর সূত্র ধরে ইতালি, স্পেন ও অস্ট্রিয়ায়ও তদন্ত শুরুর অনুমতি এসেছে।

up-arrow