Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ২ জুন, ২০১৬ ২৩:৫৮
প্রবাসে বহিষ্কার আতঙ্কে বাংলাদেশিরা
ভালো নেই ৩০ দেশের প্রায় ৫ লাখ প্রবাসী
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে বড় একটি অংশ এখন বহিষ্কার আতঙ্কে রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ৩০ দেশে প্রায় ৫ লাখ প্রবাসী রয়েছেন এই আতঙ্কে। সঠিক কাগজপত্র ছাড়া অবস্থান ও মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় এই বড়সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী বহিষ্কার হতে পারেন। সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রবাসীদের সঠিক পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিশেষ টাস্কফোর্স।

পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া মিলিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বহিষ্কার আতঙ্কে রয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৮টি দেশ ৮০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি সরকারকে জানিয়েছে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য এটি চরম দুঃসংবাদ। অবৈধভাবে বসবাসের কারণে এসব বাংলাদেশিকে দেশে পাঠাতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা সেরে ফেলেছে ইইউ। এ জোটভুক্ত দেশগুলোয় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করেন। অবৈধ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশকে তাগিদ দিয়েছে ইইউ। ভিসার মেয়াদ না থাকা, ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে এসব বাংলাদেশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবৈধ হয়ে পড়েছেন। এদিকে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৩ লাখ বাংলাদেশির ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অবৈধদের ধরতে দেশটির সরকার ব্যাপক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সেখানে নানা কারণে অবৈধ হয়ে পড়া বিপুল বাংলাদেশি এখন বনে-জঙ্গলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এর পরও দেশি দালালচক্রের খপ্পরে পড়ে বাংলাদেশি তরুণরা প্রতিদিনই বিভিন্ন পন্থায় মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ শিক্ষা ও ভ্রমণ ভিসায় মালয়েশিয়া গেলেও প্রতারণার কারণে সেখানে গিয়ে তারা অবৈধ হয়ে পড়ছেন। গত এক বছরের হিসাবেই কমপক্ষে ৩ লাখ বাংলাদেশি দেশটিতে প্রবেশ করে এখন অবৈধভাবে জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়তে থাকায় মালয়েশিয়া সরকার সম্প্রতি অবৈধ বিদেশি শ্রমিক ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছে। এবার তারা অবৈধদের ধরতে বন-জঙ্গলেও অভিযান চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রেও রয়েছেন কয়েক হাজার অবৈধ বসবাসকারী। যুক্তরাষ্ট্র সরকার সম্প্রতি অবৈধ হয়ে পড়া ৩০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে। নিকট-অতীতে বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নজির নেই। তাই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রবাসীরা। একই অবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও। সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কাগজপত্র ছাড়াদের ধরতে কয়েকটি দেশে চলছে অভিযান।

একসঙ্গে এত মানুষকে দেশে ফেরত পাঠালে তাদের পরিবার এবং অর্থনীতির ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমস্যা হবে এই বড়সংখ্যক মানুষের পুনর্বাসনেও। ইরাক বা লিবিয়াফেরত অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য রাইটস অব ইমিগ্রান্টসের কর্মকর্তা সাইফুল হকের মতে, একসঙ্গে এত মানুষ বেকার অবস্থায় বাংলাদেশে ফেরত চলে এলে অর্থনীতিতে খুব খারাপ প্রভাব পড়বে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের পরিবার। হঠাৎ করে যাদের এভাবে পাঠানো হয়, প্রথমেই তারা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত খারাপ অবস্থার মধ্যে পড়ে যান। তিনি বলেন, ইউরোপে বাংলাদেশ থেকে বেশির ভাগই বৈধভাবে যান। কিন্তু ওখানে গিয়ে তারা অনিয়মিত হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে অনেকেই ১০-১৫ বছর ধরে আছেন। চেষ্টা করছেন নিয়মিত হওয়ার। এখানে সরকারের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। প্রবাসী নীতিমালায় ফিরে আসাদের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন সময়ের দাবি।




up-arrow