Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুন, ২০১৬ ২৩:৪৩
নিত্যপণ্যের বাজার বেসামাল
মোস্তফা কাজল
নিত্যপণ্যের বাজার বেসামাল
বাজার দর

একে তো রমজানের প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজার ছিল লাগামছাড়া, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন বাজেটের প্রভাব। দুইয়ে মিলে এখন রাজধানীর বাজার বেসামাল। গতকাল রাজধানীর কলমিলতা,  মিরপুর বাজার ও গুলশান ১ নম্বর সিটি করপোরেশন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়— ডাল, ছোলা, চিনি, মাছ, সবজিসহ প্রায় সব পণ্যের দাম আরেক দফা বেড়েছে। সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।

ছোলা, চিনি ও ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১৫ টাকা। আলুর দাম বেড়েছে ২-৩ টাকা। মাছের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ টাকা। বাজার করতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, সরকারের কোনোরকম মনিটরিং না থাকায় নিত্যপণ্যের বাজারের এই দশা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বাজেট ও রমজানের প্রভাব কাজে লাগিয়ে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়েছেন। ফলে বাজারে ক্রেতার ভিড় থাকলেও স্বস্তি ছিল না তাদের। ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজান ঘনিয়ে আসায় এমন অবস্থার সৃষ্টি করেছেন কিছু ব্যবসায়ী। এরা চিনি, ছোলা, পিয়াজ ও মসলাজাতীয় সব পণ্য বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। বর্তমানে বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবুও চড়া দামের মাশুল দিতে হচ্ছে ভোক্তাদের। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যা, এ অবস্থার অন্যতম কারণ রমজানে বাড়তি চাহিদা। তাই রমজানের আগেই বেড়েছে পিয়াজের ঝাঁজ, মরিচের ঝাল, আদা ও রসুনের তেজ। রাজধানীর কলমিলতা বাজারের গুঁড়া দুধ ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন জানান, ১ কেজি ওজনের ডানো দুধের দাম এখন ৫৬০ থেকে ৫৭০ টাকা। বাজেট ঘোষণার আগে বিক্রি হয়েছে ৫৫০ থেকে ৫৬০ টাকায়। গতকাল ফ্রেশ ও মার্কসের ১ কেজি দুধ বিক্রি হয়েছে ৪৯৫ থেকে ৫০০ টাকায়। এর দর আগের সপ্তাহে ছিল কেজিতে ৫ টাকা কম। ডিপ্লোমা ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০০। আগের সপ্তায় ছিল ৫৮০ থেকে ৫৮৫ টাকা। এ ছাড়া মিরপুর নিত্যপণ্যের বাজারে মানভেদে আদার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা। দেশি রসুন ২৭০ থেকে ২৮০ আর চীনা রসুন ১৯০ থেকে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। দেশি পিয়াজ ৪০-৪২ ও ভারতীয় পিয়াজ ৩৬-৩৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মসুর ডাল কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ১৩৫ থেকে ১৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলা কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খেজুর (সাধারণ) ১৫০ থেকে ১৮০, বেসন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিরপুর বাজারের ব্যবসায়ী কাশেম খান বলেন, কয়েক দিন চীন ও মিয়ানমার থেকে আদা-রসুনের আমদানি কম হয়েছে। তাই দাম একটু বাড়তি। গতকাল গুলশান ডিসিসি বাজারে আলু মানভেদে প্রতি কেজি ২০-২২, টমেটো ৩০-৩৫, কাঁচা মরিচ ৭০, পটোল ৪০-৪৫, বেগুন ৪৫-৫০, বরবটি ৪০-৪৫, শসা ২৫-৩০, চিচিঙ্গা ৪০-৪২, গাজর ২৫, কাঁচা আম ৪০, কচুর লতি ৩৫-৪০, ছোট আকারের মিষ্টিকুমড়া ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া প্রতি কেজি কাঁকরোল ৪০, ঝিঙ্গা ৩২-৩৫ ও করলা ৫০-৫২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শীতের সবজি নামে পরিচিত লাউ, ফুলকপি ও বাঁধাকপি অল্প পরিমাণে বাজারে উঠেছে। চড়া দামে বিক্রি হচ্চে এসব। গুলশান ডিসিসি মার্কেটের বাজারের সবজি বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম দু-তিন দিন পর রমজানের কারণে আরেক দফা বাড়তে পারে। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে পটোল, লাউ, কচু, করলা, কচুর লতিসহ কিছু সবজি। এ বাজারের অন্য সবজি বিক্রেতা নাঈম জানান, গতকাল এ বাজারে বেগুন বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৬০ টাকায়, যা কয়েক দিন আগে ছিল ৪০-৫০ টাকা। মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, দাম সাধারণ ক্রেতার লাগালের বাইরে। প্রতিটি মাছের দাম বাজেট ঘোষণায় আরেক দফা বেড়ে গেছে। বিক্রেতাদের দাবি, রমজান ও বাজেটে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণায় দাম বাড়ছে। গতকাল খোলা বাজারে রুই (দেশি) ২৫০-৩২০, কাতল ২০০-২২০, পাঙ্গাশ ১২০-১৩০, পাবদা ৭৫০, রূপচাঁদা ৮০০, ইলিশ (ছোট) ৬০০, মাঝারি ৮০০ ও বড় সাইজের ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া পুঁটি ৪৮০ থেকে ৫২০, বেলে (ছোট) ৪৫০, বড় ৬৫০, চিংড়ি (ছোট) ৫৫০, মাঝারি ৮০০, বড় গলদা চিংড়ি বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১০০০ টাকায়। বাজার ঘুরে আরও দেখা গেছে, কয়েকটি বড় সাইজের সাগরের মাছ উঠেছে। এর মধ্যে ছিল কোরাল, ফোন্দ্রা, লইট্যা ও রিঠা। এ চার ধরনের মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫০০, ৪৫০, ৪০০, ৩৫০ টাকায়। মাছ বিক্রেতা মো. রনি বলেন, সামুদ্রিকসহ সব রকমের মাছের দামও বাড়তি। এ ছাড়া গতকাল প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের একটি পাকিস্তানি কক মুরগির দাম ২২০ থেকে ২০০ টাকা হাঁকেন বিক্রেতা। দেশি মুরগির কেজি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪২০ ও খাসির ৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া গত সপ্তার মতো ডিমের হালি ৩২-৩৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

ক্রেতারা যা বললেন : মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের হযরত শাহআলী (রহ.) বাজারে আসা সরকারি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই শুধু বাজেট ঘোষণার অজুহাতে সবজি, মাছ, ভোজ্যতেল ও গুঁড়া দুধের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বনলতা বাজারে আসা ফাতেমা আক্তার নামে এক গৃহিণী বলেন, রমজান ঘনিয়ে আসায় বেগুন, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ডাল ও চিনির দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে।

up-arrow